ইজরায়েলে ভোটের ফল নিয়ে ধোঁয়াশা, সরকার গড়তে পারবে না নেতানিয়াহু-বিরোধী শিবিরও? - 24 Ghanta Bangla News
Home

ইজরায়েলে ভোটের ফল নিয়ে ধোঁয়াশা, সরকার গড়তে পারবে না নেতানিয়াহু-বিরোধী শিবিরও?

Spread the love

জেরুসালেম: দীর্ঘ যুদ্ধ এবং উত্তপ্ত প্রচার পর্বের পর ইসরায়েলে অনুষ্ঠিত হলো সাধারণ নির্বাচন। মঙ্গলবার রাত ১০টায় ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার পর প্রকাশিত প্রথম এক্সিট পোল বা…

জেরুসালেম: দীর্ঘ যুদ্ধ এবং উত্তপ্ত প্রচার পর্বের পর ইসরায়েলে অনুষ্ঠিত হলো সাধারণ নির্বাচন। মঙ্গলবার রাত ১০টায় ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার পর প্রকাশিত প্রথম এক্সিট পোল বা বুথফেরত সমীক্ষার ফলাফল দেশটির রাজনীতিকে এক গভীর অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দিয়েছে। সমীক্ষা অনুযায়ী, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু কিংবা তাঁর বিরোধীদের কেউই এককভাবে সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় ম্যাজিক ফিগার (৬১টি আসন) অর্জন করতে পারেননি। ফলে ফের নতুন নির্বাচনের সম্ভাবনা জোরালো হয়ে উঠেছে।

প্রধান তিনটি এক্সিট পোল (চ্যানেল ১১, ১২ ও ১৩)-এর পূর্বাভাস অনুযায়ী, নেতানিয়াহুর সমর্থক বা ডানপন্থী ব্লক পেয়েছে ৫০ থেকে ৫২টি আসন। অন্যদিকে, তাঁর ইহুদি নেতৃত্বাধীন বিরোধীরা পেয়েছে ৫২ বা ৫৩টি আসন। সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজন ১২০ সদস্যের নেসেটে (সংসদ) কমপক্ষে ৬১টি আসন।

নেতানিয়াহুর দল ‘লিকুদ’ ২৭টি আসন পেয়ে সংসদের বৃহত্তম দল হতে চলেছে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। বর্তমানের ৩২টি আসন থেকে কিছুটা কমলেও এটি প্রতিপক্ষ গাদি আইজেনকোটের ‘যশার’ পার্টির (২১-২২ আসন) চেয়ে এগিয়ে রয়েছে।

সবচেয়ে বড় চমক, আরব দলগুলি এই নির্বাচনে রেকর্ড ১৭ বা ১৮টি আসন পেতে পারে বলে ইঙ্গিত মিলেছে। ভোটদাতার অনুপাতে এটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ, যা অতীতে ১০টি আসন ছিল।

এদিকে, কিছু ডানপন্থী বা প্রো-নেতানিয়াহু চ্যানেল কিছুটা ভিন্ন চিত্র তুলে ধরেছে। চ্যানেল ১৪ নেতানিয়াহুর ব্লককে ৬০টি, বিরোধীদের ৪৩টি এবং আরব দলগুলিকে ১৭টি আসন দিয়েছে। অন্য চ্যানেলগুলির হিসাবেও কোনো পক্ষই এককভাবে ৬১ আসনের ম্যাজিক ফিগার ছুঁতে পারেনি।

কেন সরকার গঠন এত কঠিন?

ইসরায়েলের আনুপাতিক প্রতিনিধিত্বের নির্বাচনী ব্যবস্থায় কোনো একটি দলের পক্ষে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়া অত্যন্ত কঠিন। বর্তমান এক্সিট পোলের হিসেব সত্যি হলে আরব দলগুলি স্পষ্টতই নেতানিয়াহুকে ফের ক্ষমতায় দেখতে নারাজ, যার ফলে প্রায় ৭০ জন আইনপ্রণেতা তাঁর বিরুদ্ধে অবস্থান করছেন।
অন্যদিকে, বহু ইহুদি নেতৃত্বাধীন বিরোধী দলও আরব দলগুলির সঙ্গে জোটে যেতে রাজি নয়। ফলে বিরোধীদের পক্ষেও ৬১ আসন জোগাড় করা প্রায় অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে।

প্রেক্ষাপট ও পরবর্তী পদক্ষেপ

নির্বাচনে রেকর্ড ৭৯.৭% ভোট পড়েছে, যা ১৯৯৯ সালের পর সর্বোচ্চ। তবে ফলাফল চূড়ান্ত করতে কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশন ভোট গণণা শুরু করেছে। আইন অনুযায়ী, দুই পক্ষই প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হার্জোগের কাছে সরকার গঠনের দাবি জানাতে পারে। প্রেসিডেন্ট যাকে সবচেয়ে বেশি সম্ভাবনাময় মনে করবেন, তাকে ৬ সপ্তাহ সময় দেবেন।

তবে দরকষাকষির এই দীর্ঘ প্রক্রিয়ায় যদি শেষ পর্যন্ত কোনো পক্ষই সরকার গড়তে ব্যর্থ হয়, তবে ইসরায়েলবাসীকে ফের আরেকটি নির্বাচনের মুখোমুখি হতে হতে পারে। ২০১৯ থেকে ২০২২ সালের মধ্যে যেমন পাঁচবার নির্বাচন দেখতে হয়েছিল ইসরায়েলকে, বর্তমান পরিস্থিতি সেই পুরনো রাজনৈতিক সংকটের কথাই মনে করিয়ে দিচ্ছে।

অর্ধেক ক্ষমতা নয়! রাষ্ট্রসংঘে চিন-আমেরিকার মত ভেটো দাবি ভারতের

জুটবে না পেটের ভাত! মার্কিন চাপে নতি স্বীকার করে দেশের মানুষকেই বলি দিল পাকিস্তান

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *