চোরবাগান পুজোয় পদপিষ্ট হয়ে মৃত্যু বেড়ে ১৯! গ্রেফতার কমিটির সম্পাদক সহ
কলকাতা: কলকাতার চোরবাগান সর্বজনীন দুর্গোৎসব সমিতির পুজোয় পদপিষ্ট হয়ে ১৯ জনের মৃত্যুর ঘটনায় গ্রেফতার করা হয়েছে সাত জনকে। ধৃতদের মধ্যে রয়েছেন পুজো কমিটির সম্পাদক ও…
কলকাতা: কলকাতার চোরবাগান সর্বজনীন দুর্গোৎসব সমিতির পুজোয় পদপিষ্ট হয়ে ১৯ জনের মৃত্যুর ঘটনায় গ্রেফতার করা হয়েছে সাত জনকে। ধৃতদের মধ্যে রয়েছেন পুজো কমিটির সম্পাদক ও সহ-সভাপতি। পাশাপাশি মণ্ডপে বিজ্ঞাপনের কাঠামো নির্মাণ, ভিড় নিয়ন্ত্রণ এবং নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদেরও গ্রেফতার করা হয়েছে। ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও ২৫ জন। তাঁদের মধ্যে এক জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
ধৃতদের মধ্যে রয়েছেন ৪৮ বছরের রাজকুমার সেওড়া ওরফে রাজা এবং ৫৫ বছরের শান্তনু দুবে। রাজকুমার পুজো কমিটির সম্পাদক এবং শান্তনু সহ-সভাপতি। এ ছাড়া বিজ্ঞাপনের জন্য বাঁশের কাঠামো তৈরির দায়িত্বে থাকা ৪৮ বছরের বিপ্লব মুখোপাধ্যায় ওরফে জয়কে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
ভিড় সামলানো এবং ভিআইপি পাস পরীক্ষা করার দায়িত্বে ছিলেন বলে অভিযোগ কৌশিক সাহা (৫৩) ও পিন্টু দে-র (৫১) বিরুদ্ধে। অন্য দিকে, নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা সুমন চক্রবর্তী (৩০) এবং রাজেশ পালকেও (২৯) গ্রেফতার করা হয়েছে। দুর্ঘটনার কারণ এবং দায়িত্বে গাফিলতি ছিল কি না, তা তদন্তের আওতায় আসতে পারে।
মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানিয়েছেন, দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলির পাশে দাঁড়াতে এবং আহতদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে রাজ্য সরকার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করছে। মৃতদের প্রত্যেকের পরিবারকে ২৫ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ এবং পরিবারের এক জনকে সরকারি চাকরি দেওয়ার কথা ঘোষণা করা হয়েছে। আহতদের প্রত্যেককে ৫ লক্ষ টাকা করে দেওয়া হবে। তাঁদের চিকিৎসার সম্পূর্ণ খরচও বহন করবে রাজ্য।
তদন্তে বিশেষ দল গঠনের প্রস্তাব
পদপিষ্ট হওয়ার ঘটনার তদন্তে বিশেষ তদন্তকারী দল বা সিট গঠনের প্রস্তাব দিয়েছে রাজ্য সরকার। পাশাপাশি, কলকাতা হাই কোর্টের প্রধান বিচারপতিকে চিঠি দিয়ে বিশেষ টাস্ক ফোর্স এবং ফরেন্সিক বিশেষজ্ঞদের নিয়ে একটি তথ্য অনুসন্ধান কমিটি গঠনের আবেদন জানাবেন বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।
মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি রাজ্যের মুখ্যসচিবকে ঘটনার বিস্তারিত রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলির জন্য কেন্দ্র ও রাজ্য যৌথ ভাবে সহায়তার উদ্যোগ নিচ্ছে বলেও জানিয়েছেন তিনি।
এদিকে, কলকাতার ঘটনার পর শিলিগুড়ির দুর্গাপুজো উদ্যোক্তারাও নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেছেন। মণ্ডপে অতিরিক্ত স্বেচ্ছাসেবক ও পুলিশ মোতায়েন, নিয়মিত মাইকে ঘোষণা এবং দর্শনার্থীদের যাতায়াত নিয়ন্ত্রণে বিশেষ নজর দেওয়া হচ্ছে।
‘নগরপালের পদত্যাগ চাই!’ চোর বাগান দুর্ঘটনায় দাবি কুনালের
পুজোর মাঝে বাংলায় অমিত শাহ! বেলুড় মঠ থেকে শ্রীভূমি, ঠাসা কর্মসূচি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর