আশীর্বাদের কথা বলতে পাল্টা যুক্তিতে উঠল আগুন-প্রসঙ্গও - 24 Ghanta Bangla News
Home

আশীর্বাদের কথা বলতে পাল্টা যুক্তিতে উঠল আগুন-প্রসঙ্গও

Spread the love

সোমনাথ মাইতি, দিঘা

রবি ঠাকুর ‘পুরাতন ভৃত্য’ কবিতায় লিখেছিলেন, ‘… যা-কিছু হারায়, গিন্নি বলেন, ‘কেষ্টা বেটাই চোর…।’ প্রযুক্তির যুগে ‘চোর’ না হলেও হরেক ‘অপবাদ’ জোটে মোবাইলের কপালে। বর্তমান প্রজন্ম তো এখন মুঠোফোনেই বন্দি— এমন অভিযোগও নতুন নয়। আরও অভিযোগ, সেই মুঠোফোনের সৌজন্যেই সোশ্যাল মিডিয়ার প্রতিও আসক্তি বেড়েছে।

দৈনন্দিন জীবনে সোশ্যাল মিডিয়ার প্রভাব নিয়ে স্কুল পড়ুয়াদের মতামত জানতে গত ২৪ সেপ্টেম্বর ‘এই সময়’ সংবাদপত্রের উদ্যোগে বিতর্ক সভার আয়োজন করা হয়েছিল দিঘা দেবেন্দ্রলাল শিক্ষাসদনে। বিতর্কের বিষয় ছিল— ‘সোশ্যাল মিডিয়া আশীর্বাদ নাকি অভিশাপ?’ নবম ও একাদশ শ্রেণির চার পড়ুয়া বিষয়ের পক্ষে ও বিপক্ষে তাদের যুক্তি ও মতামত তুলে ধরে।

পক্ষে জোরালো যুক্তি ও সাবলীল ভাবে নিজেদের বক্তব্য তুলে ধরে নবম শ্রেণির অরিত্রিকা আচার্য ও একাদশের সময়িতা কর। অরিত্রিকা বলে, ‘নিজেদের ব্যর্থতার দায় ঝেড়ে ফেলতে আমরা একটি মোবাইল অ্যাপ্লিকেশনের উপরে দায় চাপাচ্ছি। সোশ্যাল মিডিয়ার ক্ষতিকর প্রভাব প্রমাণ করতে নিজেদের মনগড়া যুক্তি সাজাচ্ছি। কিন্তু, মুশকিলটা হলো এর ভালো দিকগুলোর কথা বেমালুম ভুলে যাচ্ছি।’ সময়িতার যুক্তি, ‘আগুন আমাদের নিত্য প্রয়োজনে লাগে। আবার আগুনে কিন্তু হাতও পোড়ে। যে কোনও জিনিসের নিয়ন্ত্রিত ব্যবহারই মানুষের জীবনে আশীর্বাদ হয়ে উঠতে পারে।’

আর বিষয়ের বিপক্ষে যুক্তি তুলে ধরে নবম শ্রেণির দুই ছাত্র শুভজিৎ করণ ও ঋত্বিক মাইতি। তারা বেড়ে চলা সাইবার ক্রাইম, ছাত্রছাত্রীদের পড়াশোনায় ক্ষতি, পারিবারিক সম্পর্ক নষ্ট হয়ে যাওয়ার কারণ হিসেবে সোশ্যাল মিডিয়াকে দায়ী করে সওয়াল করে।

বিতর্ক সভার বিচারক ছিলেন স্কুলের দুই শিক্ষক রবীন্দ্রনাথ শীট ও দেবাশিস প্রধান। অনুষ্ঠানের আয়োজন ও পরিকল্পনায় ছিলেন শিক্ষক নন্দগোপাল পাত্র। সঞ্চালনার দায়িত্বে ছিলেন শিক্ষক মুক্তিপদ মাইতি। বিচারকদের মূল্যায়নে প্রথম হয়েছে অরিত্রিকা আচার্য, দ্বিতীয় সময়িতা কর। এ দিনের বিতর্ক সভায় ছাত্রছাত্রীদের পাশাপাশি উপস্থিত ছিলেন স্কুলের শিক্ষক-শিক্ষিকারাও।

বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক পরশুরাম মণ্ডল জানান, আগে প্রতি বছর বিভিন্ন বিষয়ের উপরে বিতর্ক প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হতো। নানা কারণে তা বন্ধ হয়ে গিয়েছে। ‘এই সময়’-এর সৌজন্যে ফের স্কুলে বিতর্ক সভার আসর বসল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *