Tata Aris Smart বনাম Pure, ১ লাখ বেশি খরচে কী কী সুবিধা মিলবে? - 24 Ghanta Bangla News
Home

Tata Aris Smart বনাম Pure, ১ লাখ বেশি খরচে কী কী সুবিধা মিলবে?

Spread the love

নতুন টাটা অ্যারিস বাজারে আসার পর কমপ্যাক্ট সেডান বিভাগে নতুন করে প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছে। পুরনো টাটা টিগরের জায়গা নেওয়া এই আপডেটেড মডেলে নতুন ডিজাইন, কানেক্টেড টেলল্যাম্প এবং একাধিক সেফটি ফিচার যোগ করা হয়েছে। তবে নতুন অ্যারিস কেনার সময় সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হতে পারে, বেস স্মার্ট ভ্যারিয়েন্ট নাকি তার পরের পিওর ভ্যারিয়েন্ট নেওয়া উচিত?

দুই ভ্যারিয়েন্টের মধ্যে দামের পার্থ্য প্রায় ১ লাখ থেকে ১.৪ লাখ টাকা। ফলে অতিরিক্ত টাকা খরচ করলে ঠিক কী কী সুবিধা পাওয়া যায়, তা জেনে নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।

টাটা অ্যারিস স্মার্ট ও পিওর: দাম কত?

অ্যারিস স্মার্ট ভ্যারিয়েন্টের পেট্রোল ম্যানুয়াল সংস্করণের দাম শুরু হচ্ছে ৫.২৯ লাখ টাকা থেকে। পেট্রোল-সিএনজি ম্যানুয়াল সংস্করণের দাম ৬.২৯ লাখ টাকা। অন্যদিকে পিওর ভ্যারিয়েন্টে পেট্রোল ম্যানুয়ালের দাম ৬.১৪ লাখ টাকা থেকে শুরু। পেট্রোল এএমটি-র দাম ৬.৬৯ লাখ টাকা। সিএনজি ম্যানুয়াল সংস্করণের দাম ৭.১৪ লাখ টাকা, আর সিএনজি এএমটি-র দাম ৭.৬৯ লাখ টাকা।

ভ্যারিয়েন্ট পেট্রোল এমটি পেট্রোল এএমটি পেট্রোল + সিএনজি এমটি পেট্রোল + সিএনজি এএমটি
স্মার্ট ৫.২৯ লাখ টাকা – ৬.২৯ লাখ টাকা –
পিওর ৬.১৪ লাখ টাকা ৬.৬৯ লাখ টাকা ৭.১৪ লাখ টাকা ৭.৬৯ লাখ টাকা

অর্থাৎ স্মার্ট থেকে পিওর ভ্যারিয়েন্টে গেলে অতিরিক্ত খরচ প্রায় ১ লাখ থেকে ১.৪ লাখ টাকা হতে পারে।

বাইরে থেকে কোন ভ্যারিয়েন্টে কী পার্থক্য?

সামনের দিক থেকে দুই ভ্যারিয়েন্টকে প্রায় একই রকম দেখায়। দুটিতেই রয়েছে হ্যালোজেন হেডল্যাম্প, ফগ ল্যাম্প নেই এবং হেডল্যাম্পের মাঝের অংশে ব্ল্যাক-আউট প্যানেল রয়েছে। তবে গাড়ির সাইড প্রোফাইলে পার্থক্য স্পষ্ট। অ্যারিস স্মার্ট ভ্যারিয়েন্টে রয়েছে:

  • কালো ডোর হ্যান্ডেল
  • বডি-কালারড বি-পিলার
  • কালো ওআরভিএম
  • ১৪ ইঞ্চি স্টিল হুইল
  • ফেন্ডারে ইন্ডিকেটর

অন্যদিকে পিওর ভ্যারিয়েন্টে পাওয়া যাচ্ছে:

  • বডি-কালারড ডোর হ্যান্ডেল
  • ব্ল্যাক-আউট বি-পিলার
  • টার্ন ইন্ডিকেটর-সহ ওআরভিএম
  • ১৪ ইঞ্চি স্টিল হুইলের সঙ্গে হুইল কভার

দুই ভ্যারিয়েন্টেই সামনের দরজায় নতুন অ্যারিস ব্যাজ রয়েছে।

পিছনে বড় পার্থক্য নেই

পিছনের অংশে দুই ভ্যারিয়েন্টের ডিজাইন প্রায় একই। দুটিতেই রয়েছে কানেক্টেড এলইডি টেলল্যাম্প, মাঝখানে টাটা লোগো এবং তার নিচে অ্যারিস ব্যাজ। উভয় মডেলেই আপডেটেড রিয়ার বাম্পার, ভার্টিক্যাল রিফ্লেক্টর, নম্বর প্লেট হাউজিং এবং রিভার্স পার্কিং সেন্সর রয়েছে। তবে পিওর ভ্যারিয়েন্টে অতিরিক্ত হিসেবে পাওয়া যাচ্ছে রিয়ার ডিফগার।

রঙের বিকল্পেও পার্থক্য

বেস স্মার্ট ভ্যারিয়েন্টে মাত্র তিনটি রঙের বিকল্প রয়েছে:

  • ডেটোনা গ্রে
  • প্রিস্টিন হোয়াইট
  • পিওর গ্রে

অন্যদিকে পিওর ভ্যারিয়েন্ট থেকে অ্যারিসের সম্পূর্ণ কালার রেঞ্জ বেছে নেওয়ার সুযোগ থাকছে।

কেবিনে কী পরিবর্তন?

নতুন অ্যারিসের কেবিনে মিনিমাল ডিজাইন এবং ডুয়াল-টোন হালকা রঙের থিম ব্যবহার করা হয়েছে। স্মার্ট এবং পিওর, দুই ভ্যারিয়েন্টেই এসি ভেন্ট প্যানেলে টেক্সচার্ড ফিনিশ, সিলভার ফিনিশের ভিতরের ডোর হ্যান্ডেল, স্মার্টফোন রাখার জন্য ডুয়াল স্পেস এবং টু-স্পোক স্টিয়ারিং হুইল রয়েছে। তবে দৈনন্দিন ব্যবহারের সুবিধার ক্ষেত্রে পিওর ভ্যারিয়েন্ট কিছুটা এগিয়ে। স্মার্ট ভ্যারিয়েন্টে জলবায়ু নিয়ন্ত্রণ, জানলা এবং ওআরভিএম-এর মতো বেশ কিছু ফাংশন ম্যানুয়ালি পরিচালনা করতে হয়। পিওর ভ্যারিয়েন্টে পাওয়া যাচ্ছে চারটি পাওয়ার উইন্ডো, ইলেকট্রিক্যালি অ্যাডজাস্টেবল ওআরভিএম এবং টার্ন ইন্ডিকেটর। এছাড়াও পিওর ভ্যারিয়েন্টে রয়েছে দুটি অতিরিক্ত স্পিকার, স্টিয়ারিং-মাউন্টেড কন্ট্রোল এবং সামনে ১৫ ওয়াট ইউএসবি-এ ও ইউএসবি-সি চার্জিং পোর্ট।

ফিচারের ক্ষেত্রে পিওর কতটা এগিয়ে?

স্মার্ট ভ্যারিয়েন্টে রয়েছে সেমি-ডিজিটাল ড্রাইভার ডিসপ্লে, ম্যানুয়াল এসি, ম্যানুয়াল ওআরভিএম, ম্যানুয়ালি অপারেটেড পাওয়ার উইন্ডো এবং টিল্ট-অ্যাডজাস্টেবল স্টিয়ারিং। পিওর ভ্যারিয়েন্টে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ কনভিনিয়েন্স ফিচার যোগ হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে:

  • সেমি-ডিজিটাল ড্রাইভার ডিসপ্লেতে ব্লুটুথ অডিও ফাংশন
  • ড্যাশবোর্ডে ডিভাইস রাখার জায়গা
  • চারটি পাওয়ার উইন্ডো
  • ইলেকট্রিক্যালি অ্যাডজাস্টেবল ওআরভিএম
  • ওআরভিএম-এ টার্ন ইন্ডিকেটর
  • হাইট-অ্যাডজাস্টেবল ড্রাইভার সিট
  • ডে/নাইট আইআরভিএম
  • স্টিয়ারিং-মাউন্টেড কন্ট্রোল

অর্থাৎ পিওর ভ্যারিয়েন্টে মূলত এমন কিছু ফিচার যোগ হয়েছে, যা প্রতিদিন গাড়ি ব্যবহারের সময় বেশি কাজে আসতে পারে।

সেফটির ক্ষেত্রে দুই ভ্যারিয়েন্টেই ভালো প্যাকেজ

নিরাপত্তার ক্ষেত্রে স্মার্ট এবং পিওর দুই ভ্যারিয়েন্টেই রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ ফিচার।

দুটিতেই পাওয়া যাচ্ছে:

  • ৬টি এয়ারব্যাগ
  • এবিএস
  • ইবিডি
  • কর্নারিং স্ট্যাবিলিটি কন্ট্রোল
  • আইএসওফিক্স চাইল্ড সিট অ্যাঙ্কর
  • সব যাত্রীর জন্য থ্রি-পয়েন্ট সিটবেল্ট

পিওর ভ্যারিয়েন্টে অতিরিক্ত হিসেবে রয়েছে স্পিড-সেন্সিং ডোর লক এবং রিয়ার ডিফগার। অর্থাৎ সেফটির মূল ফিচারগুলির ক্ষেত্রে বেস স্মার্ট ভ্যারিয়েন্টেও প্রয়োজনীয় প্যাকেজ রয়েছে।

ইঞ্জিন ও গিয়ারবক্সে কী পরিবর্তন?

দুই ভ্যারিয়েন্টেই রয়েছে ১.২ লিটার ন্যাচারালি অ্যাসপিরেটেড পেট্রোল ইঞ্জিন। এর সঙ্গে ফ্যাক্টরি-ফিটেড ডুয়াল-সিলিন্ডার সিএনজি কিটের বিকল্পও রয়েছে। স্মার্ট ভ্যারিয়েন্টে পেট্রোল এবং সিএনজি, দুটির সঙ্গেই ম্যানুয়াল গিয়ারবক্স পাওয়া যায়। পিওর ভ্যারিয়েন্ট থেকে এএমটি গিয়ারবক্স-এর বিকল্প যোগ হয়েছে।

টাটা অ্যারিসের ইঞ্জিন স্পেসিফিকেশন

বিষয় ১.২ লিটার পেট্রোল ১.২ লিটার পেট্রোল + সিএনজি
সর্বোচ্চ শক্তি ৮৬ পিএস ৭৬ পিএস
সর্বোচ্চ টর্ক ১১৩ এনএম ৯৭ এনএম
গিয়ারবক্স ৫-স্পিড এমটি / ৫-স্পিড এএমটি ৫-স্পিড এমটি / ৫-স্পিড এএমটি

তাহলে স্মার্ট নাকি পিওর?

দামের দিক থেকে অ্যারিস স্মার্ট নিঃসন্দেহে কম বাজেটের বিকল্প। মাত্র ৫.২৯ লাখ টাকা থেকে পেট্রোল ম্যানুয়াল মডেল পাওয়া যাচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় সেফটি ফিচারের বেশিরভাগই বেস ভ্যারিয়েন্টে রয়েছে।

অন্যদিকে অতিরিক্ত টাকা খরচ করে পিওর ভ্যারিয়েন্টে গেলে পাওয়ার উইন্ডো, ইলেকট্রিক ওআরভিএম, টার্ন ইন্ডিকেটর, হাইট-অ্যাডজাস্টেবল ড্রাইভার সিট, ডে/নাইট আইআরভিএম, স্টিয়ারিং কন্ট্রোল, অতিরিক্ত স্পিকার এবং রিয়ার ডিফগারের মতো দৈনন্দিন ব্যবহারে সুবিধাজনক ফিচার পাওয়া যাচ্ছে। পাশাপাশি এএমটি গিয়ারবক্সের বিকল্পও মিলছে।

ফলে যাঁদের বাজেট খুব টাইট এবং প্রয়োজনীয় সেফটি ফিচারকেই অগ্রাধিকার, তাঁদের জন্য স্মার্ট ভ্যারিয়েন্ট যথেষ্ট হতে পারে। আর যাঁরা প্রতিদিনের ব্যবহারে বেশি কনভিনিয়েন্স চান এবং অতিরিক্ত খরচ করতে প্রস্তুত, তাঁদের জন্য পিওর ভ্যারিয়েন্টে পাওয়া অতিরিক্ত সরঞ্জামগুলি গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। নতুন টাটা অ্যারিসের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বীদের মধ্যে রয়েছে হোন্ডা অ্যামেজ, হুন্ডাই অরা এবং মারুতি ডিজায়ার।

Essential Business Intelligence, Sharp Market Insights, Practical Personal Finance Advice, Daily Fuel, Gold and Silver Prices and Latest Stories – On Kolkata24x7 Business.

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *