মেডিক্যালে রং বদল, নীল-সাদা থেকে গেরুয়া
এই সময়, শিলিগুড়ি: উত্তরবঙ্গ মেডিক্যাল কলেজে বন্ধ হচ্ছে না ‘রংবাজি’। আধিপত্য কায়েম করতে তৃণমূলের পথেই হাঁটছে বিজেপি। মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের প্রশাসনিক ভবনে রং করার কাজ শুরু হয়েছে।
তৃণমূল যেমন নীল-সাদা রঙকে নিজেদের আধিপত্য কায়েম করতে বেছে নিয়েছিল, তেমনই বিজেপি বেছে নিয়েছে গেরুয়া-সাদা। প্রশাসনিক ভবনে সেই গেরুয়া-সাদা রং করার কাজ চলছে জোরকদমে। যদিও প্রশাসনিক কর্তাদের দাবি, স্বাস্থ্য দপ্তরের নির্দেশে ‘সাইনেজ’ মেরামতির কাজ চলছে, যাতে রোগীর পরিবারের লোকেদের প্রশাসনিক ভবন খুঁজে পেতে অসুবিধে না-হয়।
তৃণমূল আমলে এই চত্বরটি নীল-সাদা রঙে রাঙিয়ে দেওয়া হয়। এখন তারই পাল্টা চলছে। অথচ, রোগী পরিষেবার মান নিয়ে সমস্যা রয়েই গিয়েছে। এখনও বায়োকেমিস্ট্রি বিভাগ খুঁজে পেতে নাকাল হতে হচ্ছে রোগী ও তাঁর পরিবারের লোকেদের। আউটডোরে রক্ত পরীক্ষার জন্য একটি নম্বর লিখে দেওয়া হচ্ছে। ওই নম্বরটি প্যাথলজি বিভাগ বোঝায়, না কি এক্স-রে, অধিকাংশ রোগীর পরিবারের লোকেরা বোঝেন না। ফলে উত্তরবঙ্গ মেডিক্যাল কলেজের এ মাথা থেকে ও মাথা ঘুরছেন অনেকেই।
ইসলামপুর থেকে এদিন ডাক্তার দেখাতে এসেছিলেন মহম্মহ ইসলাম। স্ত্রীর কিডনির সমস্যা। তাঁর হাতে একটি কাগজে একটি নম্বর লিখে পরীক্ষা করিয়ে নিতে বলা হয়েছে। মহম্মদ ইসলাম বুঝতে পারছেন না কিসের পরীক্ষা, কোথায় যাবেন। তিনি বলেন, ‘আমরা মুর্খ লোক। প্রেসক্রিপশনের নম্বর দেখে কী বুঝব? খালি এ ঘর থেকে অন্য ঘরে ঘুরছি।’
রাজগঞ্জ থেকে এসেছিলেন সন্দীপ সমাদ্দার। ছেলেকে দাঁতের ডাক্তার দেখাবেন। মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। ডেন্টাল হাসপাতাল যে মেডিক্যাল কলেজের অন্য প্রান্তে, সেটা তাঁর জানা নেই। তিনি বলেন, ‘লোকের পরামর্শ শুনে ডেন্টাল কলেজে ডাক্তার দেখাতে এসেছি। সেই কলেজই খুঁজে পাচ্ছি না।’ সমস্যার কথা মেনে নিয়েছেন হাসপাতালের সুপার কৌশিক ইশোর। তিনি বলেন, ‘এই জন্যই রোগীদের অনলাইন টিকিটের ব্যবস্থা করা হচ্ছে, যাতে এমন উদভ্রান্তের মতো ঘুরতে না-হয়। সাইনেজ়ও একই কারণে ঠিক করা হচ্ছে।’ তবে গেরুয়া রং নিয়ে কোনও মন্তব্য করেননি সুপার।