ছবি বা ভিডিয়ো নয়, ভ্রমণের স্মৃতি এ বার থাকবে ফিলাটেলি পাসপোর্টে, কী এই ভাবে পাবেন এটি?

আজকাল কোথাও বেড়াতে গেলেই মোবাইলে ছবি তোলা, ভিডিয়ো বানানো বা সোশ্যাল মিডিয়ায় লোকেশন শেয়ার করা খুব সাধারণ ঘটনা হয়ে উঠেছে। ভ্রমণের স্মৃতি বলতে এখন প্রায় সবটাই ডিজিটাল।

কিন্তু ভাবুন তো, যদি প্রতিটি ঘোরার জায়গার স্মৃতি আপনার কাছে সরকারি সিলমোহর-সহ একটি বিশেষ বইয়ে জমা হতে থাকে? শুনতে একটু অন্যরকম লাগলেও, ঠিক এমনই একটি অভিনব উদ্যোগ শুরু হয়েছে কর্নাটকে, যা ইতিমধ্যেই ভ্রমণপ্রেমীদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে।

বেঙ্গালুরুর একাধিক পোস্ট অফিসে এখন ভিড় করছেন পর্যটক ও তরুণ-তরুণীরা। সেখান থেকে তাঁরা একটি বিশেষ বুকলেট সংগ্রহ করছেন। যেখানে প্রতিটি ভ্রমণের স্মৃতি রাখার জন্য রয়েছে বিশেষ সব ডাকটিকিট। এ গুলিতে থাকছে বিশেষ সিলও। ৬০০ টাকায় পোস্ট অফিস থেকেই কেনা যাবে এই পাসপোর্ট। ডিজিটাল মেমোরি বা সেলফির বদলে এটি এখন হয়ে উঠছে ইনস্টাগ্রামের নতুন ট্রেন্ড।

এই বিশেষ বুকলেটটির নাম হলো ‘কর্নাটক ফিলাটেলি পাসপোর্ট’। তবে এটি বিদেশ ভ্রমণের সরকারি পাসপোর্ট নয়। এটি এমন একটি ‘Collection Book’। এই বইতে কর্নাটকের বিভিন্ন পর্যটনকেন্দ্রের বিশেষ ‘কমেমোরেটিভ স্ট্যাম্প’ সিল থাকে।

তবে অনেকের মনেই প্রশ্ন উঠছে, যে এর নাম এত অদ্ভুত কেন? আসলে এই উদ্যোগের মাধ্যমে জনপ্রিয় করে তোলা হচ্ছে ফিলাটেলিকে। ফিলাটেলি হলো ডাকটিকিট সংগ্রহের শখ।

চিঠির খাম থেকে ডাকটিকিট ও পোস্টমার্ক সংগ্রহ করা একটা সময়ে বহু মানুষের শখ ছিল। কিন্তু এখন আধুনিকতার ছোঁয়ায় তা প্রায় মলিন হয়ে গিয়েছে। তাই এই ফিলাটেলিকে আবার জনপ্রিয় করতেই এমন নাম দেওয়া হয়েছে।

কী ভাবে এটি পাওয়া যায়? সাধারণত ডাকঘর থেকে এই বিশেষ পাসপোর্ট কিনতে হয়। তারপর এর দায়িত্ব থাকা ডাকঘর বা ফিলাটেলিক ব্যুরো আপনি যে জায়গায় ঘুরতে চান, ওই এলাকার জন্য বিশেষ সিল বা স্ট্যাম্প বুকলেটে লাগিয়ে দেবে।

এক একটি নতুন গন্তব্য মানেই এক একটি নতুন সরকারি সিল। অর্থাৎ সময়ের সঙ্গে এই বুকলেটই হয়ে উঠবে আপনার ট্রাভেল ডেস্টিনেশনের ‘হিস্ট্রিবুক’।

এই পাসপোর্টের জনপ্রিয়তা দ্রুত বাড়ছে। কারণ, অনেকেই মনে করেন মোবাইলের হাজারো ছবির ভিড়ে পুরোনো স্মৃতি হারিয়ে যায়। কিন্তু এরকম সরকারি সিলমোহর দেওয়া ট্রাভেল বুকে সব স্মৃতি সযত্নে থাকে।