Prahlad Joshi: বাংলাদেশে যেভাবে ক্ষমতার পরিবর্তন হয়েছে, ভারতেও তেমনটাই চান রাহুল! বিদেশি হস্তক্ষেপেরও দাবি, বিস্ফোরক অভিযোগ প্রহ্লাদ জোশীর | Minister Prahlad Joshi slams congress leader Rahul gandhi
কেন্দ্রীয় মন্ত্রী প্রহ্লাদ জোশী।Image Credit: PTI
জয়পুর: দেশের অর্থনীতি নিয়ে কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীর (Rahul Gandhi) সমালোচনার পাল্টা জবাব দিলেন কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী প্রহ্লাদ জোশী (Prahlad Joshi)। তাঁর অভিযোগ, নিজের রাজনৈতিক নেতৃত্বকে প্রতিষ্ঠা করতে রাহুল গান্ধী দেশের অর্থনীতিকে নিশানা করছেন। পাশাপাশি, রাহুল গান্ধী ও তাঁর ঘনিষ্ঠ সহযোগীরা ভারতে বাংলাদেশে ঘটে যাওয়া ঘটনার মতো ক্ষমতার পরিবর্তন চাইছেন বলেও অভিযোগ করেছেন তিনি।
শনিবার জয়পুরে বিজেপির রাজ্য দফতরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে এই মন্তব্য করেন প্রহ্লাদ জোশী। তাঁর দাবি, রাহুল গান্ধী এবং তাঁর ঘনিষ্ঠদের মধ্যে নেহা বোরা-সহ কয়েকজন প্রকাশ্যেই ‘রেজিম চেঞ্জ’ বা সরকার পরিবর্তনের কথা বলছেন। এমনকী, বাংলাদেশে ঘটে যাওয়া ঘটনাকে অনুপ্রেরণা হিসেবেও তুলে ধরা হচ্ছে বলে অভিযোগ তাঁর।
বিরোধীদের আন্দোলন ও প্রতিবাদ কর্মসূচির সমালোচনা করে জোশী বলেন, “সুপ্রিম কোর্ট, নির্বাচন কমিশন এবং এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের মতো সাংবিধানিক ও গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানকে নিশানা করার পর এবার দেশের অর্থনীতিকে আক্রমণ করছেন রাহুল গান্ধী।” তাঁর অভিযোগ, কংগ্রেস ও সহযোগী দলগুলির আন্দোলনের জেরে দিল্লির ব্যবসায়ীদের প্রায় ২০ হাজার কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে। দীপাবলির উৎসবের মরশুমে পরবর্তী কর্মসূচির কারণে আরও ১০ হাজার কোটি টাকার ক্ষতি হতে পারে বলেও দাবি করেন তিনি। এই পরিসংখ্যানের পক্ষে অবশ্য কোনও বিস্তারিত হিসাব তুলে ধরেননি কেন্দ্রীয় মন্ত্রী।
জোশীর প্রশ্ন, রাহুল গান্ধী ও তাঁর সহযোগীরা কি ভারতে বাংলাদেশের মতো পরিস্থিতি তৈরি করতে চান? তাঁর কথায়, ভারত বিশ্বের বৃহত্তম গণতন্ত্র। এখানে সরকার পরিবর্তনের একমাত্র পথ হল নির্বাচন। ভোটের মাধ্যমেই জনগণ সরকার বেছে নেন এবং পরিবর্তন করেন।
রাহুল গান্ধীর নির্বাচনী নেতৃত্ব নিয়েও কটাক্ষ করেন তিনি। জোশীর দাবি, বারবার রাহুলকে রাজনৈতিকভাবে প্রতিষ্ঠিত করার চেষ্টা করেও কংগ্রেস সফল হয়নি। সেই কারণেই দলের একাংশের মধ্যে তাঁর নেতৃত্ব নিয়ে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে বলে দাবি করেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী।
ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর (SIR) নিয়েও কংগ্রেসের সমালোচনা করেন জোশী। তাঁর দাবি, এই প্রক্রিয়া নতুন কিছু নয়। অতীতে কংগ্রেস সরকারের আমলেও অন্তত ১০ থেকে ১২ বার এই ধরনের সংশোধন হয়েছে। ভোটার তালিকা থেকে প্রায় ১৩ কোটি নাম বাদ যাওয়ার বিষয়টি ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি বলেন, মৃত ভোটার, অন্যত্র চলে যাওয়া বা স্থায়ীভাবে বসবাসের জায়গা পরিবর্তন করা ব্যক্তিদের নাম নিয়ম মেনেই বাদ দেওয়া হয়েছে।
তবে এসআইআর প্রক্রিয়ায় কোনও যোগ্য ভোটারের নাম বাদ পড়লে তিনি অনলাইন অথবা অফলাইনে ফর্ম ৬ জমা দিয়ে নাম অন্তর্ভুক্ত করার আবেদন জানাতে পারেন বলেও জানান জোশী। ইভিএম নিয়ে বিরোধীদের অভিযোগও খারিজ করেছেন তিনি। তাঁর দাবি, ব্যালট পেপারে হওয়া সাম্প্রতিক কয়েকটি নির্বাচনেও কংগ্রেস পরাজিত হয়েছে। তাই ইভিএম নিয়ে প্রশ্ন তোলার যুক্তি নেই।
শনিবার সর্দার বল্লভভাই প্যাটেলের জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে জয়পুরের অমর জওয়ান জ্যোতিতে ‘রান ফর ইউনিটি’ কর্মসূচিতেও অংশ নেন প্রহ্লাদ জোশী। সেখানে রাজস্থানের মুখ্যমন্ত্রী ভজনলাল শর্মা-সহ বিজেপির একাধিক নেতা উপস্থিত ছিলেন।