‘বড় চোর জেলে যাবে, ধৈর্য্য রাখুন’, বার্তা শুভেন্দুর - 24 Ghanta Bangla News
Home

‘বড় চোর জেলে যাবে, ধৈর্য্য রাখুন’, বার্তা শুভেন্দুর

Spread the love

এই সময়: ‘বড় চোর’ ধরা পড়ার প্রশ্নে সাধারণ মানুষকে ধৈর্য ধরতে বললেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। শুক্রবার বারুইপুরে বিজেপির জনসভা থেকে তাঁর আশ্বাস, বড় চোর জেলে যাবে! কেন এখনও ‘বড় চোর’ ধরা পড়ছে না তাঁর ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী এ দিন বলেন, ‘আপনাদের মনে প্রশ্ন আছে, বড় চোরটা কবে যাবে? সময়–টময় একটু ঠিকঠাক দেখে করতে হয়, বুঝেছেন তো।’

কিন্তু এই ‘বড় চোর’টা কে? সরাসরি কারও নাম উ‍ল্লেখ করেননি শুভেন্দু। তবে ঠারেঠোরে যা বোঝানোর বুঝিয়ে দিয়েছেন তিনি। ‘বড় চোর’ ধরা পড়া প্রসঙ্গে বারুইপুরের সভা থেকে তাঁর সংযোজন, ‘বড় চোর যাবে। চিন্তার কোনও কারণ নেই। একজন জেলে চলে গিয়েছেন।’ এরপরেই প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘ইন্দ্রনীল সেন শেষ ডুয়েটটা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গেই গেয়েছিলেন—‘আমার যাওয়ার সময় হলো। দাও বিদায়…।’

৪ মে বাংলায় রাজনৈতিক পালাবদলের পরেই বিজেপির অন্দরে দাবি ওঠে ‘বড় চোর’কে জেলে পাঠাতে হবে। দুর্নীতিতে অভিযুক্ত তৃণমূলের অনেক নেতা জেলে গে‍লেও বিজেপির নিচুতলার কর্মীরা নিজেদের দাবি থেকে সরে আসেনি। পার্টি কর্মীদের সেই মনোভাবকে গুরুত্ব দিয়ে শুভেন্দু এ দিন ‘বড় চোর’ সংক্রান্ত বার্তা দিয়েছেন বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। কার্যত সবুরে মেওয়া ফলার ইঙ্গিত দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী এ দিন বিজেপি কর্মীদের উদ্দেশে বলেন, ‘আমি রাজনৈতিক জীবনে ধৈর্য রেখেছি। আপনারাও ধৈর্য রাখুন। বড় চোর জেলে যাবে।’

এ দিন মুখ্যমন্ত্রী একাধিকবার কারও নাম না করে ‘বড় চোর’কে জেলে পোরার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। আর নাম করে বিঁধেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে। সম্প্রতি প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতাকে বয়সের কথা মাথায় রেখে ভোটে না লড়ার পরামর্শ দিয়েছিলেন তিনি। এ দিন অবশ্য শুভে‍ন্দু চ্যালেঞ্জ ছুড়ে জানিয়ে দিয়েছেন, মমতা যতবার ভোটে লড়বে‍ন, ততবার তিনি হারাবেন। মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, ‘প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী আমার কাছে দু’বার হেরেছেন। ২১–এ নন্দীগ্রামে। এ বারে ভবানীপুরে। নিজের পাড়ায় হেরেছেন। বুথে হেরেছেন। ওয়ার্ডে হেরেছেন। সাহস থাকলে আবার লড়ুন। আবার হারাব। যদি ক্ষমতা থাকে লড়ুন।’ প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীকে বর্তমানের পরামর্শ, ‘আপনি দিল্লিতে রামলীলা ময়দানে যান। পশ্চিমবঙ্গে আপনার আর কিছু হবে না।’

শুধু মমতা নয়, শুভেন্দু চ্যালেঞ্জ জানিয়েছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কেও। বারুইপুরের সভা থেকে অভিষেককে লক্ষ্য করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘সাহস থাকলে আপনি ডায়মন্ড হারবার থেকে ২০২৯–এর লোকসভা ভোটে লড়ুন।’ সেই চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করে ঘণ্টাখানেকের মধ্যেই সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে অভিষেক জানিয়ে দিয়েছেন, দল অনুমতি দিলে ২০২৯–এ তিনি ডায়মন্ড হারবার থেকেই লড়বেন।

তবে এই পর্বে অভিষেকই প্রথম আক্রমণ করেন শুভেন্দুকে। বৃহস্পতিবার রাতে তিনি ব্যক্তিগতস্তরে নেমে নিশানা করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রীকে। এ দিন তার জবাবে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘মনে হয়, সোডিয়াম-পটাসিয়ামের সমস্যা হয়েছে ওঁর (অভিষেক)। নিউ ইয়র্কে যেতে চাইছেন, যান। আমরা এনওসি করে দেবো।’ এর সঙ্গেই শুভেন্দুর সংযোজন, ‘আমার মনে হয়, যে চ্যালা ক্যামাক স্ট্রিটের টাকা তুলত, সে সব বলে দিয়েছে। এখানে ১৫ বছর সরকারে ছিল, তাই ওদেরও তিন-চারটে লোক থাকতে পারে, যাদের সঙ্গে ফেসটাইমে কথা বলে।’ বিকেলে বারুইপুরের সভা থেকেও অভিষেককে নিশানা করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘এই যে ভাইপো, ১১ সালের পরে রাজনীতিতে আসা। অনেক বড় বড় কথা বলছেন।’

এ দিকে, ‘বড় চোর’কে জেলে ভরার হুঁশিয়ারি প্রসঙ্গে অভিষেকের জবাব, ‘ইডি, সিবিআই, পুলিশ সবই তো আপ‍নাদের হাতে। গ্রেপ্তার করুন না। বাং‍লার মানুষ সব দেখছে। প্রকৃত বিজেপি কর্মীদের বলছি, শুভেন্দু অধিকারীর থেকে দূরে থাকুন।’ তাঁর দাবি, ‘দিল্লি থেকে বিজেপির সরকার চলে গেলে সবার আগে শুভেন্দু অধিকারী জার্সি পাল্টাবেন।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *