সতর্ক তিন দেশ! পশ্চিম প্রশান্ত মহাসাগরে চিনের ৫৩ জাহাজ - 24 Ghanta Bangla News
Home

সতর্ক তিন দেশ! পশ্চিম প্রশান্ত মহাসাগরে চিনের ৫৩ জাহাজ

Spread the love

নয়াদিল্লি: পশ্চিম প্রশান্ত মহাসাগরের বিস্তীর্ণ এলাকায় একসঙ্গে ৫৩টি জাহাজ মোতায়েন করেছে চিন (China Navy)। এর মধ্যে রয়েছে ৩৪টি নৌবাহিনীর যুদ্ধজাহাজ এবং বিমানবাহী রণতরী ‘লিয়াওনিং’। চিনের এই ব্যাপক সামুদ্রিক তৎপরতায় সতর্ক নজর রাখছে তাইওয়ান, জাপান এবং ফিলিপিন্স। একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রাঞ্চলে চিনা নৌবাহিনীর উপস্থিতি আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ বাড়িয়েছে।

রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, তাইওয়ানের জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের মহাসচিব জোসেফ উ বুধবার চিনা জাহাজগুলির অবস্থান দেখিয়ে একটি মানচিত্র প্রকাশ করেন। তাঁর বক্তব্য, একই সময়ে তিনটি দেশের সামনে তৈরি হওয়া নিরাপত্তার চ্যালেঞ্জ স্পষ্ট। তাইওয়ানের আশপাশের জলসীমার বাইরেও চিনের এই নৌ-তৎপরতার প্রভাব পড়তে পারে বলে সতর্ক করেছেন তিনি।

পশ্চিম প্রশান্ত মহাসাগরে কোথায় রয়েছে চিনা যুদ্ধজাহাজ?

জোসেফ উ-র প্রকাশিত মানচিত্রে মোট ৫৩টি চিনা জাহাজের অবস্থান দেখানো হয়েছে। এর মধ্যে ৩৪টি চিনা নৌবাহিনীর যুদ্ধজাহাজ এবং বিমানবাহী রণতরী লিয়াওনিং রয়েছে। জাহাজগুলি পশ্চিম প্রশান্ত মহাসাগরের বিভিন্ন কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চলে ছড়িয়ে রয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, লিয়াওনিং এবং তার সঙ্গে থাকা যুদ্ধজাহাজের দল ফিলিপিন্সের পূর্বদিকে অবস্থান করছিল। অন্যদিকে, চিনা নৌবাহিনীর কয়েকটি দল তাইওয়ানের পূর্ব ও দক্ষিণ-পূর্ব উপকূলের কাছে সক্রিয় ছিল। দক্ষিণ জাপানের উপকূলের কাছেও তিনটি চিনা নৌবাহিনীর দলকে অবস্থান করতে দেখা যায়।

এই ভৌগোলিক বিস্তার তাইওয়ান, জাপান এবং ফিলিপিন্সের জন্য সামুদ্রিক নজরদারি ও প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার উপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি করতে পারে। তবে জাহাজগুলির উপস্থিতি থেকে নির্দিষ্ট কোনও দেশের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান চালানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, এমন প্রমাণ সামনে আসেনি।

জোসেফ উ বলেন, চিনের এই কার্যকলাপের উপর তাঁরা সতর্ক নজর রাখছেন। তাঁর মন্তব্যে স্পষ্ট, তাইওয়ানের নিরাপত্তার পাশাপাশি বৃহত্তর অঞ্চলে চিনের সামুদ্রিক উপস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে।

চিনের দাবি, রুটিন সামরিক মহড়া

চিনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের বক্তব্য অনুযায়ী, বিমানবাহী রণতরী লিয়াওনিংয়ের নেতৃত্বাধীন নৌবহর ১৪ অক্টোবর পশ্চিম প্রশান্ত মহাসাগরে প্রবেশ করে। চিনা নৌবাহিনীর বার্ষিক নিয়মিত মহড়ার পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই এই প্রশিক্ষণ পরিচালিত হচ্ছে বলে জানানো হয়েছে।

চিনা নৌবাহিনীর দাবি, এই মহড়ার উদ্দেশ্য হল রণতরী-সহ পুরো নৌবহরের যুদ্ধ প্রস্তুতি এবং বিভিন্ন সামরিক অভিযান পরিচালনার সক্ষমতা পরীক্ষা করা ও আরও উন্নত করা। তাদের বক্তব্য, আন্তর্জাতিক আইন মেনেই এই মহড়া চালানো হচ্ছে এবং কোনও নির্দিষ্ট দেশ বা লক্ষ্যবস্তুকে উদ্দেশ্য করে এই কার্যকলাপ পরিচালিত হচ্ছে না।

তবে একই সময়ে পশ্চিম প্রশান্ত মহাসাগরের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চলে চিনা যুদ্ধজাহাজের উপস্থিতি আঞ্চলিক দেশগুলির নিরাপত্তা পরিকল্পনায় প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে তাইওয়ান প্রণালী এবং জাপান ও ফিলিপিন্সের সংলগ্ন জলসীমার কৌশলগত গুরুত্বের কারণে এই নৌ-তৎপরতার উপর নজর রাখা হচ্ছে।

জাপানের কাছেও চিনা জাহাজের গতিবিধি

এদিকে, জাপানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রকও চিনা নৌবাহিনীর জাহাজের চলাচল পর্যবেক্ষণের কথা জানিয়েছে। মন্ত্রকের তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার দক্ষিণ-পশ্চিম জাপানের কিউশু দ্বীপের কাছে ওসুমি প্রণালী দিয়ে তিনটি চিনা যুদ্ধজাহাজ এবং একটি চিনা কোস্ট গার্ডের জাহাজ অতিক্রম করে। এরপর জাহাজগুলি প্রশান্ত মহাসাগরের দিকে এগিয়ে যায়।

এই ঘটনাও জাপানের সামুদ্রিক নজরদারির গুরুত্ব বাড়িয়েছে। চিনের নৌবাহিনী এবং কোস্ট গার্ডের জাহাজের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করে পরিস্থিতি মূল্যায়ন করছে জাপান।

আঞ্চলিক নিরাপত্তায় কী প্রভাব পড়তে পারে?

পশ্চিম প্রশান্ত মহাসাগরে চিনের নৌবাহিনীর বিস্তৃত উপস্থিতি আঞ্চলিক দেশগুলির জন্য সামুদ্রিক নজরদারি, গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ এবং প্রতিরক্ষা সমন্বয়ের গুরুত্ব বাড়িয়ে দিচ্ছে। একাধিক অঞ্চলে একই সময়ে চিনা জাহাজ সক্রিয় থাকলে সংশ্লিষ্ট দেশগুলিকে আরও বিস্তৃত জলসীমার উপর নজর রাখতে হতে পারে।

তবে চিনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রক এই মোতায়েনকে নিয়মিত সামরিক প্রশিক্ষণের অংশ বলে বর্ণনা করেছে। অন্যদিকে, তাইওয়ানের নিরাপত্তা কর্তৃপক্ষ এই কার্যকলাপকে বৃহত্তর আঞ্চলিক নিরাপত্তার দৃষ্টিকোণ থেকে দেখছে।

পশ্চিম প্রশান্ত মহাসাগরে চিনের ৫৩টি জাহাজের উপস্থিতি নতুন করে আন্তর্জাতিক নজর কেড়েছে। এই নৌবহর কত দিন ওই অঞ্চলে সক্রিয় থাকে এবং পরবর্তী সময়ে তাদের গতিবিধিতে কী পরিবর্তন আসে, তার উপরই আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতির পরবর্তী মূল্যায়ন অনেকটা নির্ভর করবে।

Defence News-এর সর্বশেষ আপডেট।  ভারতের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, সামরিক মহড়া, যুদ্ধবিমান, ক্ষেপণাস্ত্র, অস্ত্র ও প্রতিরক্ষা প্রযুক্তির খবর পড়ুন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *