লাদাখ থেকে কচ্ছ, সীমান্তে শক্তি বাড়াবে ভারতের নতুন সিন্ধু বাহন - 24 Ghanta Bangla News
Home

লাদাখ থেকে কচ্ছ, সীমান্তে শক্তি বাড়াবে ভারতের নতুন সিন্ধু বাহন

Spread the love

সুরাট: সুরাটের হাজিরায় আজ একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিরক্ষা উৎপাদন কার্যক্রম শুরু হয়েছে(BvS10 Sindhu)। লারসেন অ্যান্ড টুব্রো এবং বিএই সিস্টেমস যৌথভাবে ভারতীয় সেনাবাহিনীর জন্য বিভিএস ১০ সিন্ধু…

সুরাট: সুরাটের হাজিরায় আজ একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিরক্ষা উৎপাদন কার্যক্রম শুরু হয়েছে(BvS10 Sindhu)। লারসেন অ্যান্ড টুব্রো এবং বিএই সিস্টেমস যৌথভাবে ভারতীয় সেনাবাহিনীর জন্য বিভিএস ১০ সিন্ধু নামের আর্টিকুলেটেড অল-টেরেন ভেহিকেল বা সর্বভূমি বাহনের উৎপাদন শুরু করেছে। এই ঘটনা ভারতের প্রতিরক্ষা উৎপাদনে আত্মনির্ভরশীলতার পথে আরও একটি বড় পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

ভারতীয় সেনাবাহিনী এই বাহনগুলোর মধ্যে ১৮টি অর্ডার দিয়েছে। এগুলো বিশ্বের বিভিন্ন সংঘাতে প্রমাণিত এবং চরম পরিস্থিতিতে কাজ করার সক্ষমতা রাখে। (BvS10 Sindhu)বাহনগুলো মূলত লাদাখের উচ্চ উচ্চতায় মোতায়েন করা হবে। সেখানে ১৮ হাজার ফুট উচ্চতায় চরম শীত ও তুষারপাতের মধ্যে কাজ করতে হবে, যেখানে তাপমাত্রা মাইনাস ৫৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত নেমে যেতে পারে।

আরও দেখুনঃ পুজোর পাস জালিয়াতি কাণ্ডে কলকাতা পুলিশের হাতে গ্রেফতার ইন্দ্রনীল সেন

অন্যদিকে পাকিস্তান সীমান্তের কাছে কচ্ছ অঞ্চলেও এগুলো মোতায়েনের পরিকল্পনা রয়েছে। সেখানে তাপমাত্রা ৫৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত উঠতে পারে এবং জলাভূমি, মরুভূমি ও গ্রেট রণ অঞ্চলে টহল দেওয়ার কাজে ব্যবহার করা হবে।

বিভিএস ১০ সিন্ধু একটি বিশেষায়িত বাহন। এটি সাধারণ যানবাহনের মতো নয়। এর দুই অংশ যুক্ত থাকে, যাকে আর্টিকুলেটেড ডিজাইন বলা হয়। এতে করে এটি বরফ, কাদা, জলাভূমি, মরুভূমি বা পাহাড়ি পথে সহজে চলাচল করতে পারে। ভারতের বিভিন্ন সীমান্তের চরম আবহাওয়া ও ভূখণ্ডের জন্য এটিকে বিশেষভাবে পরিবর্তন করা হয়েছে। উচ্চ উচ্চতায় ইঞ্জিন চালু রাখা, ঠান্ডা সহ্য করার ক্ষমতা এবং মরু অঞ্চলের তাপমাত্রায় কাজ করার সক্ষমতা এতে যোগ করা হয়েছে।

হাজিরার আর্মার্ড সিস্টেমস কমপ্লেক্সে এই উৎপাদন হচ্ছে। লারসেন অ্যান্ড টুব্রো দেশীয়ভাবে এটি তৈরি করবে এবং বিএই সিস্টেমস হ্যাগলান্ডস প্রযুক্তিগত ও ডিজাইন সহায়তা দিচ্ছে। এটি ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ উদ্যোগের অংশ। দেশেই উৎপাদনের ফলে প্রযুক্তি হস্তান্তর হবে এবং ভবিষ্যতে আরও বেশি সংখ্যায় তৈরি করা সম্ভব হবে।

লাদাখের মতো এলাকায় সেনাদের চলাচল ও সরবরাহ অত্যন্ত কঠিন। বরফঢাকা পথে সাধারণ যান চলতে পারে না। এই বাহনগুলো সেনাদের দ্রুত চলাচল, সরঞ্জাম পরিবহন এবং টহল কাজে সাহায্য করবে। কচ্ছের রণ অঞ্চলেও জলাভূমি ও মরুভূমির মিশ্র ভূখণ্ডে এটি কার্যকর হবে। দুই সীমান্তেই ভারতের নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

এই বাহনগুলো শুধু সেনাদের চলাচলের জন্য নয়, বরং কমান্ড পোস্ট বা লজিস্টিকস ভ্যারিয়েন্ট হিসেবেও ব্যবহার হতে পারে। (BvS10 Sindhu)বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এর আগের সংস্করণ সফলভাবে ব্যবহৃত হয়েছে। ভারতীয় সেনাবাহিনী কঠোর পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর এটিকে বেছে নিয়েছে। উচ্চ উচ্চতা ও সমুদ্রপৃষ্ঠের কাছাকাছি উভয় পরিবেশেই এটি ভালো পারফরম্যান্স দেখিয়েছে।

প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই উদ্যোগ ভারতের সীমান্ত সুরক্ষায় নতুন মাত্রা যোগ করবে। বিশেষ করে চিন ও পাকিস্তান সীমান্তে চরম আবহাওয়ায় সেনা মোতায়েনের ক্ষেত্রে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। দেশীয় উৎপাদনের ফলে রক্ষণাবেক্ষণ ও খুচরা যন্ত্রাংশের সরবরাহও সহজ হবে।

হাজিরার কারখানায় উৎপাদন শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে কর্মসংস্থান ও স্থানীয় অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। লারসেন অ্যান্ড টুব্রোর এই কমপ্লেক্সে ইতিমধ্যে অন্যান্য প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম তৈরি হচ্ছে। সিন্ধু বাহনের উৎপাদন সেই ধারাকে আরও এগিয়ে নিয়ে যাবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *