‘নতুন সমীকরণ তৈরি হচ্ছে’, সৌদি-তুরস্ক-পাকিস্তানের সঙ্গে বৈঠকের পরে হুঙ্কার ইরানের, ট্রাম্পকে বার্তা?
পশ্চিম এশিয়ায় শান্তি ফেরাতে সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের সঙ্গে বৈঠক করল ইরান। সেখানে আমেরিকা-ইজ়রায়েল থেকে শুরু করে লেবানন ও গাজ়া নিয়েও আলোচনা হয় বলে জানা গিয়েছে। সোমবার তেহরানে বৈঠক শেষে ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের প্রধান মহসেন রেজ়াই বলেন, ‘মনে হচ্ছে এই অঞ্চলে একটা নতুন সমীকরণ তৈরি হচ্ছে।’ তবে বৈঠক থেকে কোনও বড় ঘোষণা হয়নি।
মক্কা প্যাক্টে সই করেনি ইরান। সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের মধ্যেই এই চুক্তি হয়েছে। সৌদির সঙ্গে ইরানের সম্পর্ক ভালো নয় মোটেই। যুদ্ধের সময়েও সৌদিতে লাগাতার আক্রমণ চালিয়েছে তেহরান। এই পরিস্থিতিতে তাদের সঙ্গে ইরানের বৈঠক তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছেন ওয়াকিবহাল মহলের একাংশ।
জানা গিয়েছে, তেহরানের সাদাবাদ কমপ্লেক্সে উপস্থিত ছিলেন পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনির, সৌদির প্রতিরক্ষামন্ত্রী প্রিন্স খালেদ বিন সলমন এবং তুরস্কের গোয়েন্দা সংস্থার প্রধান ইব্রাহিম কালিন। তাঁদের সঙ্গে বৈঠক করেন ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের প্রধান মহসেন রেজ়াই এবং বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি।
বৈঠক শেষে ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন চ্যানেলকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে রেজ়াই বলেন, ‘অত্যন্ত ইতিবাচক পরিবেশ ছিল। মনে হচ্ছে এই অঞ্চলে একটা নতুন সমীকরণ তৈরি হচ্ছে।’ পশ্চিম এশিয়ায় যাতে বহিরাগত শক্তি অনুপ্রবেশ করতে না পারে, তার জন্য সংশ্লিষ্ট দেশগুলিরই দায়িত্ব নেওয়া উচিত বলে মন্তব্য করেন তিনি। রেজ়াইয়ের কথায়, ‘বিদেশি শক্তির হাত থেকে পশ্চিম এশিয়ার নিরাপত্তা আমাদেরই নিশ্চিত করতে হবে। এই বিষয়ে সবাই একমত।’
বৈঠকে দক্ষিণ লেবানন, দক্ষিণ সিরিয়া, গাজ়া এবং প্যালেস্টাইনের পশ্চিম তীরের পরিস্থিতি নিয়েও আলোচনা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। সৌদি আরবের বিদেশ মন্ত্রক একটি বিবৃতিতে বলেছে, ‘বর্তমান পরিস্থিতিতে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলির মধ্যে উত্তেজনা কমানোর প্রচেষ্টার অংশ হিসেবেই এই বৈঠকের আয়োজন করা হয়েছিল।’ পরে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজ়েশকিয়ানের সঙ্গেও বৈঠক করেন সৌদি, তুরস্ক ও পাকিস্তানের প্রতিনিধিরা।
পশ্চিম এশিয়ায় ফের যুদ্ধ শুরু হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন অনেকেই। নেপথ্যে আমেরিকান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হুমকি। গত শুক্রবার ‘ফের এপিক ফিউরি চালানো হতে পারে’ বলে মন্তব্য করেছিলেন তিনি। ফেব্রুয়ারিতে ইরানে আমেরিকা ও ইজ়রায়েলের যৌথ অভিযানের নাম ছিল ‘এপিক ফিউরি’। ফলে ট্রাম্পের এই মন্তব্য ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।