Imran Khan: দেশ ছাড়ার নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে বম্বে হাই কোর্টে ইমরান খান, মামলার শুনানি কবে? | Imran khan leave india notice bombay high court hearing date update
আমির খানের ভাগ্নে তথা অভিনেতা ইমরান খানের মাথার ওপর ঝুলে রয়েছে দেশ ছাড়ার নোটিস। ফরেনার্স রিজিয়োনাল রেজিস্ট্রেশন অফিসের (FRRO) জারি করা ‘লিভ ইন্ডিয়া’ (Leave India) নোটিসকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে বম্বে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন ৪৩ বছর বয়সি এই অভিনেতা। আগামী মঙ্গলবার এই মামলার পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করা হয়েছে। দুই পক্ষই অতিরিক্ত সময় চাওয়ায় ইতিপূর্বে মামলার শুনানি পিছিয়ে গিয়েছিল।
ঠিক কী কারণে বিপাকে ইমরান খান?
জানা গিয়েছে, ইমরান খান মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক হলেও তিনি ওভারসিজ় সিটিজ়েন অফ ইন্ডিয়া বা OCI কার্ডের অধিকারী। গত ১০ অক্টোবর মুম্বইয়ের অগস্ট ক্রান্তি ময়দানের নিকটবর্তী এলাকায় মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে আয়োজিত একটি প্রতিবাদ কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করেছিলেন তিনি।
বিজেপি নেতা কিরীট সোমাইয়ার অভিযোগ ছিল, বিদেশি নাগরিক হয়েও এই ধরনের রাজনৈতিক প্রতিবাদ কর্মসূচিতে যোগ দিয়ে আইন লঙ্ঘন করেছেন ইমরান। সোমাইয়ার সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই নড়েচড়ে বসে পুলিশ এবং সেই রিপোর্ট যায় FRRO-র দপ্তরে। এর পরেই গত সপ্তাহে অভিনেতার বিরুদ্ধে ২৮ অক্টোবরের মধ্যে ভারত ছাড়ার নির্দেশিকা জারি করে ওই কেন্দ্রীয় দপ্তর।
আদালতে কী যুক্তি দিয়েছেন ইমরানের আইনজীবীরা?
FRRO-র এই নির্দেশকে ‘অসাংবিধানিক’ ও একপেশে বলে দাবি করেছেন ইমরান খান। তাঁর আইনি দলের প্রধান যুক্তিগুলি হল। কোনও রকম আগাম তদন্ত, কারণ দর্শানোর নোটিস (Show Cause Notice) বা নিজস্ব বক্তব্য পেশ করার সুযোগ না দিয়েই তড়িঘড়ি এই নির্দেশ জারি করা হয়েছে। নোটিসে নির্দিষ্টভাবে কোন আইনি ধারা বা বিধান তিনি লঙ্ঘন করেছেন, তার কোনও স্পষ্ট উল্লেখ নেই। তিনি আমেরিকার নাগরিক হলেও তাঁর OCI মর্যাদার বিষয়টিকে সম্পূর্ণ উপেক্ষা করা হয়েছে। ভারতীয় বংশোদ্ভূত বিদেশি নাগরিকদের জন্য উপলব্ধ সুযোগ-সুবিধার কোনও শর্ত তিনি ভাঙেননি। কোনও শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদে যোগ দেওয়া মানেই OCI কার্ডধারীদের জন্য প্রযোজ্য শর্ত লঙ্ঘন— এমন ব্যাখ্যা সঠিক নয়। তাছাড়া প্রতিবাদস্থলটি কোনও সংরক্ষিত বা নিষিদ্ধ এলাকা ছিল না এবং তিনি পুলিশি নির্দেশ অমান্য করে ব্যারিকেড ভাঙার চেষ্টা করেননি। পুলিশের গাড়ির দিকে ফেরার পথেই তাঁকে আটক করা হয় এবং সেদিন সন্ধ্যায় ছেড়েও দেওয়া হয়। তদন্তাধীন একটি এফআইআর-কে ভিত্তি করে এ ধরনের দেশত্যাগের নির্দেশ বেআইনি।
আইনি লড়াইয়ের অংশ হিসেবে বম্বে হাইকোর্টের কাছে অবিলম্বে এই নোটিস খারিজ করার আবেদন জানিয়েছেন ইমরান। পাশাপাশি, মামলা বিচারাধীন থাকা অবস্থায় যাতে তাঁর বিরুদ্ধে কোনও জবাবদস্তির মতো পদক্ষেপ না করা হয়, তাঁর দেশত্যাগ বা লুক আউট সার্কুলার (LOC) জারি, কিংবা OCI মর্যাদা কেড়ে নেওয়ার মতো কোনও সিদ্ধান্ত যাতে সরকার না নেয়— তার জন্য আদালতের বিশেষ অন্তর্বর্তী সুরক্ষাও চেয়েছেন অভিনেতা।