দীপাবলিতে TVS Apache RTR 160 2V কেনার ৫টি বড় কারণ - 24 Ghanta Bangla News
Home

দীপাবলিতে TVS Apache RTR 160 2V কেনার ৫টি বড় কারণ

Spread the love

গুরুগাঁও: দীপাবলির মরশুমে নতুন মোটরসাইকেল কেনার পরিকল্পনা করছেন? স্পোর্টি ডিজাইন, ভালো মাইলেজ এবং আধুনিক সুরক্ষা প্রযুক্তির সমন্বয়ে TVS Apache RTR 160 2V হতে পারে আপনার বিবেচনার তালিকায় থাকা একটি বাইক। সম্প্রতি এই মোটরসাইকেলের নতুন ভ্যারিয়েন্টে ট্র্যাকশন কন্ট্রোল যুক্ত হয়েছে। ফলে উৎসবের মরশুমে বাইকটি আরও আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছে। প্রদত্ত তথ্য অনুযায়ী, Apache RTR 160 2V-এর এক্স-শোরুম দাম শুরু হচ্ছে ১.১৩ লক্ষ টাকা থেকে।

শহরের যানজটে নিয়মিত যাতায়াত থেকে শুরু করে মাঝারি দূরত্বের সফর, বিভিন্ন ধরনের ব্যবহারের কথা মাথায় রেখেই বাইকটির ইঞ্জিন, রাইডিং বৈশিষ্ট্য এবং ফিচার সাজানো হয়েছে। কেনার আগে জেনে নিন TVS Apache RTR 160 2V বেছে নেওয়ার পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ।

১. সহজে চালানো যায়, ইঞ্জিনেও রয়েছে পর্যাপ্ত শক্তি

TVS Apache RTR 160 2V-তে রয়েছে ১৫৯.৭ সিসির এয়ার-কুলড ইঞ্জিন। Sport মোডে এটি সর্বোচ্চ ১৬.০৪ PS শক্তি এবং ১৩.৩১ Nm টর্ক উৎপন্ন করে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। শহরের রাস্তায় নিয়মিত যাতায়াতের জন্য এই ইঞ্জিনের পারফরম্যান্স যথেষ্ট কার্যকর হতে পারে।

বাইকটির Glide Through Technology বা GTT কম গতিতে চলার সময় সুবিধা দেয়। কম গিয়ারে থ্রটল না ঘুরিয়েও বাইককে ধীরে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া যায়, যা যানজটের মধ্যে চালানোর সময় কাজে আসতে পারে। হাইওয়েতে ষষ্ঠ গিয়ারে প্রায় ৮০ কিমি প্রতি ঘণ্টা গতিতে চলার অভিজ্ঞতার কথাও প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে।

পরীক্ষায় শহরে প্রতি লিটারে প্রায় ৪৫ কিলোমিটার এবং হাইওয়েতে ৪৭ কিলোমিটার মাইলেজ পাওয়া গিয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। ১২ লিটারের জ্বালানি ট্যাঙ্কের সঙ্গে এই হিসাব ধরলে তাত্ত্বিকভাবে এক ট্যাঙ্কে ৫৪০ কিলোমিটারের বেশি পথ পাড়ি দেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে বাস্তবে মাইলেজ নির্ভর করবে ট্রাফিক, রাস্তার অবস্থা, গতি এবং চালানোর ধরনের উপর।

২. সুরক্ষায় ABS ও ট্র্যাকশন কন্ট্রোল

এই সেগমেন্টে বাইক কেনার সময় ব্রেকিং ও সুরক্ষা ব্যবস্থা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। Apache RTR 160 2V-এর নির্দিষ্ট ভ্যারিয়েন্টে রয়েছে ডুয়াল-চ্যানেল ABS। ব্রেক করার সময় চাকা লক হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি কমাতে এই ব্যবস্থা সাহায্য করে। ভেজা রাস্তায় হঠাৎ ব্রেক করতে হলেও ABS গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে, যদিও এটি সব পরিস্থিতিতে দুর্ঘটনা আটকানোর নিশ্চয়তা দেয় না।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর মাসে চালু হওয়া নতুন Dual Channel ABS with TCS ভ্যারিয়েন্টে ট্র্যাকশন কন্ট্রোল সিস্টেমও রয়েছে। তীব্র অ্যাক্সিলারেশনের সময় পিছনের চাকা অতিরিক্ত ঘুরে যাওয়ার প্রবণতা নিয়ন্ত্রণে এই প্রযুক্তি সহায়তা করতে পারে।

এছাড়া রয়েছে Hazard Lamp এবং LED ইন্ডিকেটর। Urban, Rain ও Sport, এই তিনটি রাইড মোডের মাধ্যমে বাইকের ইঞ্জিন ও ABS-এর আচরণ পরিস্থিতি অনুযায়ী বদলানো যায় বলে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে রাইড মোড থাকলেও ভেজা বা পিচ্ছিল রাস্তায় সতর্কভাবে চালানো জরুরি।

৩. যানজটে চালানো সহজ, ওজনও তুলনামূলক কম

Apache RTR 160 2V-এর হুইলবেস ১,৩০০ মিমি এবং এতে ডাবল-ক্রেডল ফ্রেম রয়েছে। বাইকটির কার্ব ওজন প্রায় ১৩৭ কেজি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এই বৈশিষ্ট্যগুলি শহরের ব্যস্ত রাস্তায় দিক পরিবর্তন এবং যানবাহনের ফাঁক দিয়ে এগিয়ে যাওয়ার সময় সুবিধা দিতে পারে।

সিটের উচ্চতা ৭৯০ মিমি হওয়ায় অনেক চালকের পক্ষেই মাটিতে পা রাখা তুলনামূলক সহজ হতে পারে। তবে চালকের উচ্চতা ও পায়ের দৈর্ঘ্যের উপর অভিজ্ঞতা নির্ভর করবে। লম্বা চালকদের ক্ষেত্রে দীর্ঘক্ষণ বাইক চালানোর সময় বসার ভঙ্গি কিছুটা সংকীর্ণ মনে হতে পারে।

তাই মূলত শহরে যাতায়াত এবং স্বল্প থেকে মাঝারি দূরত্বের সফরের জন্য বাইকটি বিবেচনা করা যেতে পারে। নিয়মিত দীর্ঘ হাইওয়ে রাইডের পরিকল্পনা থাকলে কেনার আগে নিজে টেস্ট রাইড করে আরাম যাচাই করা ভালো।

৪. দাম অনুযায়ী আধুনিক ফিচারের ভালো সমন্বয়

TVS Apache RTR 160 2V-তে রয়েছে LED হেডল্যাম্প, DRL এবং LED টেলল্যাম্প। এর রেসিং-স্টাইল ডিজিটাল ইনস্ট্রুমেন্ট কনসোলে ল্যাপ টাইমার, সর্বোচ্চ গতি এবং ০ থেকে ৬০ কিমি প্রতি ঘণ্টায় পৌঁছনোর সময় মাপার স্টপওয়াচ রয়েছে।

TVS SmartXonnect প্রযুক্তির মাধ্যমে Bluetooth সংযোগ, টার্ন-বাই-টার্ন নেভিগেশন, কল ও SMS অ্যালার্ট এবং ক্র্যাশ অ্যালার্টের সুবিধা পাওয়া যায় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে। পাশাপাশি রয়েছে স্লিপার ক্লাচ এবং পাঁচ-গতির গিয়ারবক্স। গিয়ার পরিবর্তনের সুবিধা এবং প্রযুক্তিনির্ভর ফিচারগুলি দৈনন্দিন ব্যবহারে বাইকটিকে আরও ব্যবহারবান্ধব করে তুলতে পারে।

তবে সব ভ্যারিয়েন্টে একই ফিচার পাওয়া যায় কি না, তা কেনার আগে নিশ্চিত হওয়া উচিত। বিশেষ করে Bluetooth কানেক্টিভিটি, ABS এবং TCS-এর মতো বৈশিষ্ট্য নির্দিষ্ট ভ্যারিয়েন্টের সঙ্গে মিলিয়ে দেখা দরকার।

৫. স্পোর্টি ডিজাইন ও একাধিক দামের বিকল্প

Apache RTR 160 2V-এর ডিজাইনে রয়েছে টিন্টেড ফ্লাইস্ক্রিন, আকর্ষণীয় ইঞ্জিন কাউল, লাল অ্যালয় হুইল এবং সিটে লাল স্টিচিং। গোটা রেঞ্জে নয়টি রঙের বিকল্প রয়েছে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। বাইকটির পেইন্ট ফিনিশ, প্যানেলের ফিটিং এবং সুইচগিয়ারের মান সম্পর্কেও ইতিবাচক অভিজ্ঞতার কথা জানানো হয়েছে।

দামের ক্ষেত্রেও একাধিক বিকল্প থাকায় ক্রেতারা নিজের বাজেট ও প্রয়োজন অনুযায়ী ভ্যারিয়েন্ট বেছে নিতে পারবেন।

TVS Apache RTR 160 2V: ভ্যারিয়েন্ট অনুযায়ী দাম

ভ্যারিয়েন্ট এক্স-শোরুম দাম (দিল্লি)
RM Drum Black Edition ১,১৩,৮৯০ টাকা
RM Drum ১,১৬,১৪০ টাকা
RM Disc ১,১৯,৩৪০ টাকা
RM Disc BT ১,২২,৪৪০ টাকা
Racing Edition ১,২৩,৭৪০ টাকা
Dual Channel ABS ১,২৬,৭৯০ টাকা
Dual Channel ABS with TCS ১,২৭,৯৯০ টাকা

উল্লেখিত দামের ভিত্তিতে, বেস ভ্যারিয়েন্টের তুলনায় TCS-সহ টপ ভ্যারিয়েন্টের দাম ১৪,১০০ টাকা বেশি। অতিরিক্ত এই খরচের বিনিময়ে ট্র্যাকশন কন্ট্রোলের মতো সুরক্ষা প্রযুক্তি পাওয়া যায়। তবে আপনার বাজেট, চালানোর ধরন এবং কোন ফিচারগুলি সত্যিই প্রয়োজন, তা বিচার করেই ভ্যারিয়েন্ট বেছে নেওয়া উচিত।

দীপাবলিতে Apache RTR 160 2V কেনা কি যুক্তিযুক্ত?

যাঁরা স্পোর্টি লুক, শহরে সহজে চালানোর সুবিধা, ভালো মাইলেজ এবং আধুনিক সুরক্ষা প্রযুক্তি চান, তাঁদের জন্য TVS Apache RTR 160 2V একটি বিবেচনাযোগ্য বিকল্প। বিশেষ করে TCS-সহ ভ্যারিয়েন্টটি অতিরিক্ত সুরক্ষা ফিচার খুঁজছেন এমন ক্রেতাদের আকর্ষণ করতে পারে।

তবে শুধু উৎসবের অফার বা ফিচারের তালিকা দেখে সিদ্ধান্ত নেবেন না। ডিলারের কাছে বর্তমান দাম, ফাইন্যান্স স্কিম, প্রসেসিং ফি, বিমা ও অন্যান্য খরচ জেনে নিন। একই সঙ্গে নিজের উচ্চতা ও রাইডিং পছন্দ অনুযায়ী টেস্ট রাইড করে দেখুন। সব দিক বিবেচনা করলে তবেই বোঝা যাবে, Apache RTR 160 2V আপনার দৈনন্দিন ব্যবহারের জন্য কতটা উপযুক্ত।

Essential Business Intelligence, Sharp Market Insights, Practical Personal Finance Advice, Daily Fuel, Gold and Silver Prices and Latest Stories – On Kolkata24x7 Business

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *