Newborn Rescue: নাড়িও কাটা হয়নি! দশমীর রাতে সদ্যোজাত পুত্র সন্তানের ঠাঁই হল ড্রেনে… কান্না শুনে আর ঘরে থাকতে পারলেন না স্থানীয় বাসিন্দারা | Newborn Boy Rescued from Drain in Dhupguri by Locals, Admitted to Hospital
উদ্ধার নবজাতক শিশু।Image Credit: TV9 বাংলা
ধূপগুড়ি: রাতের নির্জন এলাকায় রাস্তার পাশের ড্রেন থেকে ভেসে আসছিল সদ্যোজাত শিশুর কান্নার আওয়াজ। সেই আওয়াজ শুনে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন স্থানীয় বাসিন্দারা। কিছুক্ষণ পরেই নজরে আসে, ড্রেনের মধ্যে পড়ে রয়েছে সদ্যোজাত এক পুত্রসন্তান!
প্রবাদ রয়েছে, “কুপুত্র যদি-বা হয়, কুমাতা কখনও নয়।” তবে এই ঘটনায় সেই প্রবাদও যেন নতুন করে প্রশ্নের মুখে। শিশুটির নাড়িও কাটা হয়নি বলে জানা গিয়েছে। তড়িঘড়ি শিশুটিকে উদ্ধার করে বাড়িতে নিয়ে যান স্থানীয় বাসিন্দারা। খবর দেওয়া হয় পুলিশকে। পরে পুলিশের উপস্থিতিতে শিশুটিকে ধূপগুড়ি মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখান থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে জলপাইগুড়ি জেলা হাসপাতালে রেফার করা হয়েছে। বিজয়া দশমীর রাতে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে ধূপগুড়ি ব্লকের বারোঘরিয়া গ্রাম পঞ্চায়েতের দক্ষিণ খয়েরবাড়ির ডাংধড়ি কলোনি এলাকায়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বুধবার সন্ধ্যায় আচমকাই শিশুর কান্নার আওয়াজ শুনতে পান এলাকার বাসিন্দারা। আওয়াজের উৎস খুঁজতে গিয়ে রাস্তার পাশের ড্রেনের মধ্যে সদ্যোজাত শিশুটিকে পড়ে থাকতে দেখেন তাঁরা। এরপর দেরি না করে শিশুটিকে উদ্ধার করে বাড়িতে নিয়ে যান টুনিবালা রায় নামক এক স্থানীয় বাসিন্দা। বাড়িতে নিয়ে গিয়ে স্থানীয় দাইমাকে ডেকে শিশুটির নাড়ি কাটা হয়। পরে শিশুটিকে মাতৃদুগ্ধ পান করানো হয়।
খবর পেয়ে ধূপগুড়ি থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছয়। এরপর পুলিশের উপস্থিতিতে শিশুটিকে ধূপগুড়ি মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তাঁর প্রাথমিক চিকিৎসা করা হয়। হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, চিকিৎসার পর শিশুটিকে হিটারের সাহায্যে উষ্ণ রাখা হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে জলপাইগুড়ি জেলা হাসপাতালে রেফার করা হয়েছে।
শিশুটিকে উদ্ধারকারী টুনিবালা রায় জানান, সন্ধ্যায় হঠাৎই শিশুর কান্নার আওয়াজ শুনতে পান তিনি। আওয়াজের উৎস খুঁজতে গিয়ে ড্রেনের মধ্যে শিশুটিকে পড়ে থাকতে দেখেন। এরপর তাঁকে উদ্ধার করে বাড়িতে নিয়ে আসেন এবং দুগ্ধ পান করান। পরে ধূপগুড়ি থানায় খবর দেওয়া হলে পুলিশ ঘটনাস্থলে আসে। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে নিয়ে শিশুটিকে ধূপগুড়ি মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখান থেকে তাঁকে জলপাইগুড়ি জেলা হাসপাতালে রেফার করা হয়েছে।
আরেক স্থানীয় বাসিন্দা বাবলু হাজরা জানান, শিশুর কান্নার আওয়াজ শুনে তাঁরা ঘটনাস্থলে গিয়ে ড্রেনের মধ্যে সদ্যোজাতকে পড়ে থাকতে দেখেন। এরপর শিশুটিকে উদ্ধার করে বাড়িতে নিয়ে আসা হয়। পরে পুলিশ প্রশাসনের উপস্থিতিতে তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। ধূপগুড়ি মহকুমা হাসপাতালে প্রায় দু’ঘণ্টা শিশুটিকে পর্যবেক্ষণে রাখা হয় বলেও জানান তিনি।
দশমীর রাতে এমন একটি ঘটনা ঘিরে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। কে বা কারা সদ্যোজাত শিশুটিকে রাস্তার পাশের ড্রেনে ফেলে রেখে গেল, তা এখনও স্পষ্ট নয়। শিশুটির পরিচয় জানার পাশাপাশি তার বাবা-মায়ের খোঁজ পেতে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। ড্রেন থেকে সদ্যোজাত উদ্ধারের খবর ছড়িয়ে পড়তেই শিশুটিকে দেখতে ধূপগুড়ি মহকুমা হাসপাতাল চত্বরে ভিড় জমাতে দেখা যায় স্থানীয় বাসিন্দাদের।
একটি ফুটফুটে শিশুকে এভাবে ড্রেনে ফেলে যাওয়ার ঘটনা মানবিকতা ও সামাজিক দায়বদ্ধতা নিয়ে ফের প্রশ্ন তুলে দিয়েছে।