Qubic ব্লকচেন বন্ধ, দুর্বল সিড কাজে লাগিয়ে ১,৪০০ ওয়ালেটে হানা - 24 Ghanta Bangla News
Home

Qubic ব্লকচেন বন্ধ, দুর্বল সিড কাজে লাগিয়ে ১,৪০০ ওয়ালেটে হানা

Spread the love

নয়াদিল্লি: ক্রিপ্টোকারেন্সি জগতে বড়সড় নিরাপত্তা সংকট। সাইবার হামলায় প্রায় ২.৯৪ কোয়াড্রিলিয়ন কিউ (QU) টোকেন চুরি যাওয়ার পর নিজেদের লেয়ার-১ ব্লকচেন সাময়িকভাবে বন্ধ করে দিয়েছে Qubic। প্রকল্পটির দাবি, চুরি হওয়া টোকেনগুলির মূল্য প্রায় ১৪ লক্ষ ডলার, ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ১৩.৩ কোটি টাকা। দুর্বল রিকভারি সিড তৈরির পদ্ধতিকে কাজে লাগিয়ে হ্যাকাররা একাধিক ক্রিপ্টো ওয়ালেটের প্রাইভেট কি শনাক্ত করতে সক্ষম হয়েছিল বলে জানিয়েছে Qubic Core Team।

১৮ অক্টোবরের একটি সরকারি বিবৃতি অনুযায়ী, আরও লেনদেন ও টোকেন সরানো আটকাতে নেটওয়ার্কটি ৮৫,৩৭১,৯৪৯ নম্বর টিকে থামিয়ে দেওয়া হয়েছে। ব্লকচেন কবে আবার চালু হবে, সে বিষয়ে এখনও কোনও নির্দিষ্ট সময় জানানো হয়নি।

কীভাবে হ্যাকারদের হাতে গেল ক্রিপ্টো টোকেন?

Qubic-এর দাবি, হামলাকারীরা কিছু নির্দিষ্ট ধরনের ওয়ালেটে রিকভারি সিড তৈরির দুর্বলতা কাজে লাগিয়েছিল। রিকভারি সিড হল এমন একটি গোপন শব্দ বা তথ্যসমষ্টি, যার সাহায্যে ব্যবহারকারী নিজের ক্রিপ্টো ওয়ালেট পুনরুদ্ধার করতে পারেন। এই সিড থেকে প্রাইভেট কি তৈরি বা পুনরুদ্ধার করা সম্ভব হয়।

সমস্যাটি তৈরি হয়েছিল সিড তৈরির সময় পর্যাপ্ত র‍্যান্ডমনেস বা অনিশ্চয়তা না থাকায়। সাধারণত সুরক্ষিত ক্রিপ্টো ওয়ালেটে সিড ও প্রাইভেট কি তৈরির জন্য অত্যন্ত শক্তিশালী র‍্যান্ডম প্রক্রিয়া দরকার। সেই প্রক্রিয়া দুর্বল হলে সম্ভাব্য সিডের সংখ্যা কমে যেতে পারে, ফলে আক্রমণকারীদের পক্ষে সঠিক তথ্য অনুমান করা বা পুনর্গঠন করা সহজ হয়ে যায়।

Qubic জানিয়েছে, আক্রান্ত ওয়ালেটগুলিকে সিড তৈরির সময় ব্যবহৃত ডিভাইস, ব্রাউজার এবং অ্যাপ্লিকেশনের ভিত্তিতে বিভিন্ন দলে ভাগ করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে কোন কোন ওয়ালেট ঝুঁকির মুখে পড়েছে, তা শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে।

চুরি হওয়া টোকেনের কতটা আটকে রাখা গিয়েছে?

Qubic-এর দেওয়া হিসাব অনুযায়ী, চুরি হওয়া টোকেনের ৮৭.১ শতাংশ নেটওয়ার্ক বন্ধ হওয়ার সময় পর্যন্ত ব্লকচেনের মধ্যেই ছিল। বাকি ১২.৯ শতাংশ পাঠানো হয়েছিল ক্রিপ্টো এক্সচেঞ্জ MEXC-তে।

প্রকল্পটির দাবি, এক্সচেঞ্জের সঙ্গে যোগাযোগের পর এক ঘণ্টারও কম সময়ের মধ্যে সংশ্লিষ্ট প্রাপক অ্যাকাউন্টটি ব্লক করা হয়। এরপর Qubic-এর অনুরোধে MEXC-তে QUBIC টোকেনের জমা ও উত্তোলনও বন্ধ করা হয় বলে জানানো হয়েছে।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, লেনদেন বন্ধ হওয়ার পর ব্লকচেনে প্রায় ২.৫৬ ট্রিলিয়ন QU টোকেন ছিল। অন্যদিকে, প্রায় ৩৭৯.২৬ বিলিয়ন QU টোকেন MEXC-তে পাঠানো হয়েছিল। এই টোকেনগুলি পুনরুদ্ধার করা যাবে কি না, তা নিয়ে এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।

এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, কোনও টোকেন ব্লকচেনে আটকে থাকা মানেই সেটি ইতিমধ্যে উদ্ধার হয়ে গিয়েছে, এমন নয়। টোকেনের নিয়ন্ত্রণ, মালিকানা এবং ভবিষ্যতে সেগুলি কীভাবে ফেরত দেওয়া হবে, তা নির্ভর করবে নেটওয়ার্কের সিদ্ধান্ত ও প্রযুক্তিগত ব্যবস্থার উপর।

নতুন ওয়েব ওয়ালেটে দুর্বলতা সংশোধনের দাবি

Qubic জানিয়েছে, তাদের ওয়েব ওয়ালেটের সর্বশেষ সংস্করণে সিড তৈরির সমস্যাটি সংশোধন করা হয়েছে। GitHub-এ প্রকাশিত ৪.২৬.৪ সংস্করণের একটি কোড পরিবর্তনের উল্লেখ করে বলা হয়েছে, আগে ব্যবহৃত JavaScript-এর Math.random() পদ্ধতির বদলে এখন crypto.getRandomValues() ব্যবহার করা হচ্ছে।

Math.random() সাধারণ উদ্দেশ্যে র‍্যান্ডম মান তৈরির জন্য ব্যবহৃত হলেও ক্রিপ্টোগ্রাফিক গোপন তথ্য তৈরির জন্য এটি উপযুক্ত নয়। অন্যদিকে, crypto.getRandomValues() ক্রিপ্টোগ্রাফিকভাবে সুরক্ষিত র‍্যান্ডম মান তৈরি করতে পারে। ফলে সিড তৈরির প্রক্রিয়ায় এই পরিবর্তন নিরাপত্তা বাড়ানোর গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হতে পারে।

তবে শুধু কোড পরিবর্তনের তথ্য থেকেই পুরো দুর্বলতা সমাধান হয়েছে বলে নিশ্চিত হওয়া যায় না। সংশোধনটি সব আক্রান্ত ওয়ালেটকে সুরক্ষিত করেছে কি না, তা জানতে আরও প্রযুক্তিগত তথ্য প্রয়োজন।

কবে আবার চালু হবে Qubic ব্লকচেন?

Qubic Core Team জানিয়েছে, আক্রান্ত ওয়ালেট শনাক্ত করা এবং চুরি হওয়া সম্পদ উদ্ধারের পদ্ধতি তৈরি করার কাজ চলছে। নেটওয়ার্কের পরিচালনাকারী সংস্থাগুলিকে এখানে ‘Computors’ বলা হয়। তাঁদের অনুমোদনের পরই পুনরুদ্ধারের পরিকল্পনা চূড়ান্ত করা হবে বলে জানানো হয়েছে।

প্রকল্পটির তরফে সম্পূর্ণ প্রযুক্তিগত প্রতিবেদন প্রকাশের কথাও বলা হয়েছে। তবে ব্লকচেন পুনরায় চালু করার তারিখ এখনও ঘোষণা করা হয়নি।

Coldcard-এও দুর্বল কী তৈরির অভিযোগ

ক্রিপ্টো ওয়ালেটের নিরাপত্তা নিয়ে এর আগেও একই ধরনের উদ্বেগ সামনে এসেছে। অন্য একটি ঘটনায় Coldcard ওয়ালেটের সঙ্গে সম্পর্কিত দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে ৫০০টি পৃথক ওয়ালেট থেকে মোট ৫৮৪ বিটকয়েন চুরি হওয়ার খবর প্রকাশিত হয়েছিল। সেই সময় চুরি হওয়া বিটকয়েনের মূল্য প্রায় ৩.৮ কোটি ডলার, ভারতীয় মুদ্রায় আনুমানিক ৩৬০ কোটি টাকা বলে উল্লেখ করা হয়।

রিপোর্ট অনুযায়ী, ওই ঘটনায় কী তৈরির পদ্ধতির দুর্বলতাকে দায়ী করা হয়েছিল। তিনটি ব্লকের মধ্যে ৫০০টি লেনদেনে বিটকয়েনের ১,৩২৪টি অংশ সরানো হয়েছিল বলে জানানো হয়।

Galaxy Digital-এর প্রধান গবেষক অ্যালেক্স থর্ন আগস্ট মাসে দাবি করেছিলেন, অন্তত ১৫ জন পৃথক হ্যাকার Coldcard-এর এই দুর্বলতা কাজে লাগিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, আক্রান্তদের রিপোর্টের সাহায্যে নতুন হ্যাকারদের কার্যকলাপ শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছিল।

Qubic-এর ঘটনা আবারও দেখাল, ক্রিপ্টোকারেন্সির নিরাপত্তা শুধু ব্লকচেন প্রযুক্তির উপর নির্ভর করে না। ওয়ালেটের সিড ও প্রাইভেট কি কীভাবে তৈরি হচ্ছে, সেই প্রাথমিক ব্যবস্থাতেও দুর্বলতা থাকলে বড় অঙ্কের সম্পদ ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।

Get your daily dose of tech news and insight.  Follow us on X, Facebook, WhatsApp and Google News for instant updates. Catch all the action on our YouTube channel.

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *