জিএসটি কমিটিতে স্থায়ী সদস্যপদ পেল পাঁচ রাজ্য! বদলাচ্ছে কর ব্যবস্থার কাঠামো - 24 Ghanta Bangla News
Home

জিএসটি কমিটিতে স্থায়ী সদস্যপদ পেল পাঁচ রাজ্য! বদলাচ্ছে কর ব্যবস্থার কাঠামো

Spread the love

নয়াদিল্লি: ভারতের জিএসটি ব্যবস্থায় এক গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আসছে।(GST Standing) নতুন গঠিত জিএসটি স্ট্যান্ডিং কমিটিতে পাঁচটি বড় রাজ্য স্থায়ী সদস্যপদ পেয়েছে। উত্তর প্রদেশ, মহারাষ্ট্র, গুজরাট, তামিলনাড়ু…

নয়াদিল্লি: ভারতের জিএসটি ব্যবস্থায় এক গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আসছে।(GST Standing) নতুন গঠিত জিএসটি স্ট্যান্ডিং কমিটিতে পাঁচটি বড় রাজ্য স্থায়ী সদস্যপদ পেয়েছে। উত্তর প্রদেশ, মহারাষ্ট্র, গুজরাট, তামিলনাড়ু ও কর্ণাটক এই পাঁচটি রাজ্য এখন থেকে স্থায়ীভাবে কমিটিতে থাকবে।

বাকি চারটি মাঝারি ও তিনটি ছোট রাজ্যের প্রতিনিধিত্ব ঘূর্ণায়মান ভিত্তিতে নির্ধারিত হবে এবং প্রতি দুই বছর অন্তর রাজ্যগুলো পরিবর্তিত হবে। মোট ১২ সদস্যের এই কমিটি জিএসটি কাউন্সিলের অধীনে কাজ করবে এবং কর ব্যবস্থার বিভিন্ন কারিগরি ও বাস্তবায়ন সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে আলোচনা করবে।

আরও দেখুনঃ

সরকারি সূত্রে জানা গেছে, রাজ্যগুলোর আকার নির্ধারণ করা হয়েছে জিএসটি রাজস্ব ও নিবন্ধিত করদাতার সংখ্যার ভিত্তিতে। পাঁচটি বড় রাজ্য ইতিমধ্যেই জিএসটি ব্যবস্থায় উল্লেখযোগ্য অবদান রাখে এবং তাদের অভিজ্ঞতা কমিটির কাজকে আরও কার্যকর করে তুলবে বলে মনে করা হচ্ছে।

ঘূর্ণায়মান আসনগুলোর মাধ্যমে অন্যান্য রাজ্যগুলোও পর্যায়ক্রমে অংশগ্রহণের সুযোগ পাবে, যাতে সিদ্ধান্ত গ্রহণে ভারসাম্য বজায় থাকে। প্রথম দুই বছরের জন্য কয়েকটি নির্দিষ্ট রাজ্যকে মাঝারি ও ছোট বিভাগে অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাবও রয়েছে।

এই পুনর্গঠনের পেছনে রয়েছে জিএসটি ব্যবস্থাকে আরও সরল ও কার্যকর করার লক্ষ্য(GST Standing)। গত কয়েক বছরে করের হার যৌক্তিকীকরণ ও প্রক্রিয়া সরলীকরণের কাজ অনেকটাই সম্পন্ন হয়েছে। এখন মনোযোগ স্থানান্তরিত হয়েছে করের ভিত্তি সম্প্রসারণের দিকে।

কেন্দ্র সরকার সব রাজ্যকে ডেটা অ্যানালিটিক্স ও প্রযুক্তির সাহায্যে আরও বেশি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানকে জিএসটি নেটওয়ার্কের আওতায় আনার আহ্বান জানিয়েছে। বর্তমানে ভারতে প্রায় এক কোটি ৭০ লাখ নিবন্ধিত জিএসটি করদাতা রয়েছে। এই সংখ্যা আরও বাড়ানো সম্ভব বলে কর্মকর্তারা মনে করছেন।

জিএসটি নেটওয়ার্ক বা জিএসটিএন-এর সঙ্গে কেন্দ্র যৌথভাবে কাজ করে চিহ্নিত ফাঁকগুলো পূরণ করার চেষ্টা করছে। কর ফাঁকি রোধে রিটার্ন দাখিল ও ইনভয়েস ম্যাচিং ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করা হবে। পাশাপাশি বিজনেস-টু-কনজিউমার বা বিটুসি সেক্টরে ই-ইনভয়েসিং চালু করার বিষয়টিও বিবেচনা করা হচ্ছে।

আগামী এপ্রিল থেকে রাজ্যগুলোকে এই ব্যবস্থা বাস্তবায়নের অনুরোধ জানানো হতে পারে। জিএসটিএন একটি বিটুসি অ্যাপ চালু করার পরিকল্পনা করছে, যার মাধ্যমে গ্রাহকরা নিজেরাই ইনভয়েস তৈরি করতে পারবেন। ব্যবসায়ীদের বাধ্য না করে প্রণোদনার মাধ্যমে এই ব্যবস্থায় আনার নীতি গ্রহণ করা হয়েছে।

এই নতুন কমিটি শুধু কাঠামোগত পরিবর্তন নয়, বরং কেন্দ্র ও রাজ্যগুলোর মধ্যে সহযোগিতামূলক ফেডারেলিজমের এক নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে পারে। আগে একাধিক কমিটি ও গ্রুপ কাজ করত, এখন সেগুলোকে একত্রিত করে আরও সুশৃঙ্খল ব্যবস্থা গড়ে তোলা হচ্ছে (GST Standing)। কমিটি নিয়মিত বৈঠক করে জিএসটি সংক্রান্ত প্রস্তাব তৈরি করবে, যা পরবর্তীতে জিএসটি কাউন্সিলে উপস্থাপন করা হবে। করদাতাদের সুবিধা বাড়ানো, প্রক্রিয়া সহজ করা এবং রাজস্ব আদায় বাড়ানো এই তিনটি বিষয়ই এখন অগ্রাধিকার পাচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *