Chorbagan Sarbojonin: 'সোনাই আর নেই'...চোরবাগানের ঘটনায় মৃত্যু বৈদ্যবাটির শ্রীপর্ণার,একমাত্র মেয়েকে হারিয়ে শোকে পাথর বাবা-মা | Chorbagan Durga Puja Stampede: Baidyabati's 27 Year Old Nurse Sriparna Poddar Dies - 24 Ghanta Bangla News
Home

Chorbagan Sarbojonin: ‘সোনাই আর নেই’…চোরবাগানের ঘটনায় মৃত্যু বৈদ্যবাটির শ্রীপর্ণার,একমাত্র মেয়েকে হারিয়ে শোকে পাথর বাবা-মা | Chorbagan Durga Puja Stampede: Baidyabati’s 27 Year Old Nurse Sriparna Poddar Dies

Spread the love

হুগলি: সকালে বাড়ি থেকে বেরোনোর সময় কে জানত মেয়ের সঙ্গে সেটাই হবে তাঁদের শেষ দেখা। কাজ সেরে বন্ধুদের সঙ্গে ঠাকুর দেখতে যাওয়ার পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু সেই আনন্দই নিমেষে বিষাদে বদলে গেল। ২৭ বছরের হাসিখুশি প্রাণবন্ত মেয়েটা আর ফিরল না। ফিরল তাঁর নিথর দেহ। কলকাতার চোরবাগান সর্বজনীনে বিপর্যয়ের ঘটনায় (Chorabagan Durga Puja) পদপিষ্ট হয়ে মৃত্যু হয়েছে হুগলির বৈদ্যবাটির তরুণী শ্রীপর্ণা পোদ্দারের (২৭)। পেশায় নার্স শ্রীপর্ণা ছিলেন বাবা-মায়ের একমাত্র সন্তান। শনিবার সকালে হাসিমুখে বাড়ি থেকে বেরিয়েছিলেন। রাতে এল তাঁর মৃত্যুসংবাদ। একমাত্র মেয়েকে হারিয়ে শোকে পাথর বাবা-মা।

‘কাজের পর ঠাকুর দেখার পরিকল্পনা ছিল’

হুগলির বৈদ্যবাটি পুরসভার ১৮ নম্বর ওয়ার্ডের মালির বাগান এলাকার বাসিন্দা শ্রীপর্ণা পোদ্দার। বাবা শম্ভুনাথ পোদ্দার। বিএসসি নার্সিং পাশ করে টাটা ক্যান্সার সেন্টারে নার্সের চাকরি করছিলেন শ্রীপর্ণা। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, শনিবার সকালে অন্যান্য দিনের মতোই কাজে যাওয়ার জন্য বাড়ি থেকে বেরিয়েছিলেন তিনি। কাজের পর বন্ধুদের সঙ্গে ঠাকুর দেখার পরিকল্পনা ছিল তাঁর।

সেই মতোই বন্ধুদের সঙ্গে কলকাতার চোরবাগানের দুর্গাপুজো মণ্ডপে গিয়েছিলেন শ্রীপর্ণা। কিন্তু সেখানেই ঘটে যায় ভয়াবহ দুর্ঘটনা। মণ্ডপে ভিড়ের চাপে পদপিষ্ট হন তিনি। বেঘোরে প্রাণ গেল ২৭ বছরের তরুণীর। তাঁর এক বান্ধবীর কাছ থেকেই প্রথম মৃত্যুসংবাদ পান পরিবারের সদস্যরা। খবর পেয়েই কলকাতা মেডিক্যাল কলেজের উদ্দেশে রওনা দেন শ্রীপর্ণার বাবা-মা ও স্থানীয় বাসিন্দারা।

শোকস্তব্ধ পাড়া-প্রতিবেশী

শ্রীপর্ণার মৃত্যুর খবরে স্তব্ধ গোটা মালির বাগান এলাকা। প্রতিবেশীদের কথায়,অত্যন্ত প্রাণচঞ্চল ও পরোপকারী মেয়ে ছিলেন তিনি। নার্সিংয়ের চাকরি করলেও পাড়ার কারও অসুখ হলে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিতে কখনও পিছপা হতেন না। প্রতিবেশী হরিদাস চট্টোপাধ্যায় বলেন, “সকালে আমাকে বলল একটা টোটো ডেকে দিতে। খুব প্রাণচঞ্চল মেয়ে ছিল। আমার ভাইপোর সঙ্গে পড়ত। বিএসসি নার্সিং পাশ করে চাকরি করছিল। পাড়ায় কেউ অসুস্থ হলে সবচেয়ে আগে ও এগিয়ে আসত। ওর এই খবরে বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েছি।”

শ্রীপর্ণার বাড়ির ভাড়াটিয়া রিম্পা দাসও কিছুতেই মেনে নিতে পারছেন না এই মৃত্যু। বাড়িতে সকলের কাছেই আদরের ‘সোনাই’ ছিলেন শ্রীপর্ণা। সকালে ঠাকুর দেখতে যাওয়ার কথা বলেছিলেন। অথচ রাত নামতেই এল মর্মান্তিক খবর। রিম্পা বলেন, “সকালে বলেছিল ঠাকুর দেখতে যাবে। আমি রাত ন’টা নাগাদ খবরটা পাই যে সোনাই আর নেই। আমি বিশ্বাস করতে পারিনি।” এক মুহূর্তে যেন সবকিছু ওলটপালট হয়ে গিয়েছে পোদ্দার পরিবারে। যে মেয়েকে ঘিরে ছিল বাবা-মায়ের সমস্ত স্বপ্ন, পুজোর আনন্দের মধ্যেই সেই একমাত্র সন্তানকে হারাতে হল তাঁদের।

চোরবাগানের দুর্ঘটনায় বৈদ্যবাটির তরুণীর মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়তেই এলাকায় নেমে আসে শোকের ছায়া। খবর পেয়ে মালির বাগানে শ্রীপর্ণার বাড়িতে যান চাঁপদানীর বিধায়ক দিলীপ সিং। পৌঁছয় শেওড়াফুলি ফাঁড়ির পুলিশও। তবে ততক্ষণে মেয়ের খবর পেয়ে কলকাতা মেডিক্যাল কলেজের উদ্দেশে রওনা দিয়েছিলেন শ্রীপর্ণার বাবা-মা। ফলে তাঁদের সঙ্গে দেখা করতে পারেননি বিধায়ক।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *