সপ্তম বহর! সাবমেরিন মোকাবিলায় নৌবাহিনীর শক্তি বাড়াল INS Mangrol - 24 Ghanta Bangla News
Home

সপ্তম বহর! সাবমেরিন মোকাবিলায় নৌবাহিনীর শক্তি বাড়াল INS Mangrol

Spread the love

কলকাতা, ১৩ অক্টোবর: সমুদ্রের নীচে শত্রুপক্ষের সাবমেরিনের গতিবিধি শনাক্ত করা এবং সম্ভাব্য হামলা মোকাবিলার ক্ষমতা বাড়াতে ভারতীয় নৌবাহিনীতে যুক্ত হল আইএনএস মংরোল (INS Mangrol)। মাহী শ্রেণির এই তৃতীয় অ্যান্টি-সাবমেরিন ওয়ারফেয়ার শ্যালো ওয়াটার ক্রাফট বা এএসডব্লিউ-এসডব্লিউসি জাহাজটি সোমবার মুম্বইয়ের নেভাল ডকইয়ার্ডে আনুষ্ঠানিকভাবে নৌবাহিনীর হাতে তুলে দেওয়া হয়। কোচির কোচিন শিপইয়ার্ড লিমিটেডের তৈরি এই যুদ্ধজাহাজ বিশেষ করে উপকূলবর্তী অগভীর সমুদ্রে অভিযান চালানোর জন্য তৈরি।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন পশ্চিম নৌ কমান্ডের ফ্ল্যাগ অফিসার কমান্ডিং-ইন-চিফ ভাইস অ্যাডমিরাল সঞ্জয় বৎসায়ন। তাঁর মতে, দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি যুদ্ধজাহাজ ভারতের সামুদ্রিক নজরদারি এবং সাবমেরিন-বিরোধী সক্ষমতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

টর্পেডো, সোনার ও রকেটে সজ্জিত আইএনএস মংরোল

আইএনএস মংরোলের প্রধান কাজ হল উপকূলের কাছাকাছি অগভীর জলভাগে শত্রুপক্ষের সাবমেরিন শনাক্ত করা এবং প্রয়োজনে সেগুলিকে মোকাবিলা করা। বড় যুদ্ধজাহাজের পক্ষে এই ধরনের জলভাগে অভিযান চালানো তুলনামূলক কঠিন হতে পারে। সেই ঘাটতি পূরণে বিশেষভাবে তৈরি করা হয়েছে মংরোলকে।

জাহাজটিতে রয়েছে একাধিক আধুনিক অস্ত্র ও সেন্সর ব্যবস্থা। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য:

  • অভয় হাল-মাউন্টেড সোনার: জলের নীচে থাকা সম্ভাব্য শত্রু সাবমেরিন শনাক্ত করতে সাহায্য করে।
  • হালকা টর্পেডো: শত্রুপক্ষের ডুবোজাহাজের বিরুদ্ধে ব্যবহারের জন্য।
  • দেশীয় অ্যান্টি-সাবমেরিন রকেট লঞ্চার: সাবমেরিন-বিরোধী অভিযানে সহায়ক।
  • মারিচ অ্যাডভান্সড টর্পেডো ডিকয় সিস্টেম: শত্রুর টর্পেডোর আক্রমণ থেকে জাহাজকে রক্ষা করতে সাহায্য করে।

এই সরঞ্জামগুলির পাশাপাশি তিনটি ডিজেল ইঞ্জিন এবং ওয়াটারজেট প্রপালশন ব্যবস্থার সাহায্যে চলে জাহাজটি। এর ফলে অগভীর জলভাগে দ্রুত দিক পরিবর্তন এবং চলাচলের সুবিধা পাওয়া যায়।

৮০ শতাংশের বেশি দেশীয় প্রযুক্তি

আইএনএস মংরোলের অন্যতম উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য হল এর ৮০ শতাংশেরও বেশি উপাদান দেশীয়ভাবে তৈরি। জাহাজটির নির্মাণে ভারতের নিজস্ব প্রযুক্তি ও সরঞ্জাম ব্যবহারের ফলে যুদ্ধজাহাজ নির্মাণ, অস্ত্র সংযুক্তিকরণ এবং উন্নত সেন্সর ব্যবস্থার ক্ষেত্রে দেশের সক্ষমতার পরিচয় মিলেছে।

জাহাজটি শুধু সাবমেরিন-বিরোধী অভিযানেই নয়, জলের নীচে নজরদারি, কম তীব্রতার সামুদ্রিক অভিযান এবং মাইন যুদ্ধসংক্রান্ত কাজেও ব্যবহার করা যাবে। সামুদ্রিক টহল বিমান, হেলিকপ্টার এবং অন্যান্য যুদ্ধজাহাজের সঙ্গে সমন্বয় করে অভিযান চালানোর ক্ষমতাও রয়েছে।

গুজরাটের জুনাগড় জেলার গুরুত্বপূর্ণ মাছ ধরার বন্দর মংরোলের নাম অনুসারে জাহাজটির নামকরণ করা হয়েছে। এর আগে একই নামে ভারতীয় নৌবাহিনীতে একটি মাইনসুইপার ছিল, যা ২০০৪ সালের এপ্রিল পর্যন্ত পরিষেবা দিয়েছিল।

১৬টি যুদ্ধজাহাজ তৈরির প্রকল্পে বড় অগ্রগতি

ভারতীয় নৌবাহিনীর এএসডব্লিউ-এসডব্লিউসি প্রকল্পের অধীনে মোট ১৬টি জাহাজ তৈরি করা হচ্ছে। এর মধ্যে আটটি নির্মাণ করছে গার্ডেন রিচ শিপবিল্ডার্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ার্স বা জিআরএসই এবং বাকি আটটি তৈরি করছে কোচিন শিপইয়ার্ড লিমিটেড।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, আইএনএস মংরোল অন্তর্ভুক্ত হওয়ার আগে এই প্রকল্পের ছয়টি জাহাজ নৌবাহিনীতে যুক্ত হয়েছিল। ফলে মংরোলকে নিয়ে মোট সাতটি জাহাজ নৌবাহিনীতে অন্তর্ভুক্ত হল।

ভারতের বিস্তৃত উপকূলরেখা, দ্বীপপুঞ্জ এবং গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক বাণিজ্যপথের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এই ধরনের জাহাজের গুরুত্ব রয়েছে। বন্দর, নৌঘাঁটি এবং উপকূলবর্তী জলপথে শত্রু সাবমেরিনের গতিবিধি শনাক্ত করতে এগুলি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।

২০২৬ সালে নৌবাহিনীতে আরও যুদ্ধজাহাজ যুক্ত করার পরিকল্পনা

ভাইস অ্যাডমিরাল সঞ্জয় বৎসায়ন জানিয়েছেন, ২০২৬ সালে এখনও পর্যন্ত ভারতীয় নৌবাহিনীতে ১০টি জাহাজ অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। বছরের শেষ নাগাদ আরও আটটি জাহাজ যুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

তাঁর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে নৌবাহিনীর হাতে মোট ১৫১টি প্ল্যাটফর্ম রয়েছে। এর মধ্যে ১৩১টি জাহাজ এবং ২০টি সাবমেরিন। পাশাপাশি, ভারতীয় শিপইয়ার্ডগুলিতে আরও ৪২টি জাহাজ নির্মাণের কাজ চলছে।

এ ছাড়া আরও ৬৯টি জাহাজ, ছয়টি সাবমেরিন এবং ১২০টি দ্রুতগতির ইন্টারসেপ্টর বোট তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় অনুমোদন দেওয়া হয়েছে বলে তিনি জানান। এই প্রকল্পগুলি বাস্তবায়িত হলে ভবিষ্যতে নৌবাহিনীর সামুদ্রিক নজরদারি এবং প্রতিরক্ষা সক্ষমতা আরও বাড়তে পারে।

ভারত মহাসাগরে বাড়ছে সাবমেরিনের গুরুত্ব

আইএনএস মংরোলের কমান্ডিং অফিসার ইউ শরণ কুমারের মতে, ভূরাজনৈতিক দিক থেকে ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। গত কয়েক বছরে বিভিন্ন বিদেশি দেশের সাবমেরিন মোতায়েন বেড়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

তাঁর বক্তব্য, এর ফলে জলের নীচে সম্ভাব্য হুমকি শনাক্ত করা এবং সেগুলিকে মোকাবিলার প্রয়োজন আগের তুলনায় অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এই পরিস্থিতিতে আইএনএস মংরোল ভারতের সামুদ্রিক স্বার্থ রক্ষা এবং নৌবাহিনীর প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

আইএনএস মংরোলের অন্তর্ভুক্তি ভারতের দেশীয় যুদ্ধজাহাজ নির্মাণ কর্মসূচি এবং উপকূলবর্তী সাবমেরিন-বিরোধী সক্ষমতা বৃদ্ধির ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। বিশেষ করে অগভীর সমুদ্রে নজরদারি, বন্দর সুরক্ষা এবং শত্রুপক্ষের ডুবোজাহাজের গতিবিধি শনাক্ত করার ক্ষেত্রে এই জাহাজ নৌবাহিনীর কার্যক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করবে।

Defence News-এর সর্বশেষ আপডেট।  ভারতের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, সামরিক মহড়া, যুদ্ধবিমান, ক্ষেপণাস্ত্র, অস্ত্র ও প্রতিরক্ষা প্রযুক্তির খবর পড়ুন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *