BYD Sealion 7ফেস্টিভ এডিশন লঞ্চ, দাম ৫০.৬০ লক্ষ টাকা
ভারতের বৈদ্যুতিক গাড়ির বাজারে নতুন বিশেষ সংস্করণ নিয়ে হাজির হয়েছে বিওয়াইডি। সংস্থাটি তাদের ইলেকট্রিক এসইউভি সিলিয়ন ৭-এর ফেস্টিভ এডিশন লঞ্চ করেছে, যার এক্স-শোরুম দাম ৫০.৬০ লক্ষ টাকা। এই বিশেষ সংস্করণটি সিলিয়ন ৭-এর প্রিমিয়াম ভ্যারিয়েন্টের উপর ভিত্তি করে তৈরি হয়েছে। তবে ক্রেতাদের জন্য মাত্র ১৫০টি ইউনিট বিক্রি করবে সংস্থা। সাধারণ প্রিমিয়াম সংস্করণের তুলনায় নতুন মডেলটির দাম ৭০,০০০ টাকা বেশি। এই অতিরিক্ত দামের বিনিময়ে গাড়ির কেবিনে ট্যান ও কালো রঙের বিশেষ সমন্বয় পাওয়া যাবে। তবে গাড়ির বাইরের নকশায় কোনও পরিবর্তন আনেনি বিওয়াইডি।
বিওয়াইডি সিলিয়ন ৭-এর সব ভ্যারিয়েন্টের দাম
সিলিয়ন ৭-এর বিভিন্ন সংস্করণের মধ্যে নতুন ফেস্টিভ এডিশনকে প্রিমিয়াম ও পারফরম্যান্স ভ্যারিয়েন্টের মাঝখানে রাখা হয়েছে। সংস্থার প্রকাশিত মূল্যতালিকা অনুযায়ী, গাড়িটির বেস ডায়নামিক সংস্করণের দাম ৪১.৯০ লক্ষ টাকা। প্রিমিয়াম সংস্করণের দাম ৪৯.৯০ লক্ষ টাকা। নতুন প্রিমিয়াম ফেস্টিভ এডিশনের দাম ৫০.৬০ লক্ষ টাকা। অন্যদিকে, সর্বোচ্চ পারফরম্যান্স সংস্করণের দাম ৫৫.৯০ লক্ষ টাকা।
নতুন সংস্করণটির দাম সাধারণ প্রিমিয়াম মডেলের চেয়ে ৭০,০০০ টাকা বেশি। তবে পারফরম্যান্স ভ্যারিয়েন্টের তুলনায় এর দাম ৫.৩০ লক্ষ টাকা কম। এই বিশেষ সংস্করণটি সীমিত সংখ্যায় বাজারে আনার ফলে আগ্রহী ক্রেতাদের জন্য উপলব্ধতা একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হতে পারে। মাত্র ১৫০টি ইউনিট বিক্রি হওয়ার কথা জানিয়েছে সংস্থা।
উল্লেখ্য, এই প্রতিবেদনে উল্লেখ করা সমস্ত দাম ১২ অক্টোবর, ২০২৬ অনুযায়ী এক্স-শোরুম মূল্য। রেজিস্ট্রেশন, বিমা এবং অন্যান্য প্রযোজ্য খরচ যোগ হলে গাড়িটির অন-রোড দাম আরও বাড়তে পারে।
কেবিনে নতুন ট্যান ও কালো রঙের সমন্বয়
বিওয়াইডি সিলিয়ন ৭ ফেস্টিভ এডিশনের প্রধান পরিবর্তন গাড়ির ভিতরের অংশে। নতুন সংস্করণে ট্যান ও কালো রঙের সমন্বয়ে কেবিন সাজানো হয়েছে। এই রঙের বিন্যাস ড্যাশবোর্ড, দরজার ভিতরের প্যানেল, আসন এবং সেন্টার কনসোলের অংশেও দেখা যাবে। তবে গাড়ির বাইরের অংশে কোনও নতুন নকশা, আলাদা বডি কিট বা বিশেষ পরিবর্তন যোগ করা হয়নি। ফলে সাধারণ প্রিমিয়াম সংস্করণের সঙ্গে ফেস্টিভ এডিশনের মূল পার্থক্য কেবিনের রঙের বিন্যাসেই সীমাবদ্ধ।
ফিচারের ক্ষেত্রে গাড়িটিতে রয়েছে ১৫.৬ ইঞ্চির ঘোরানো যায় এমন টাচস্ক্রিন। পাশাপাশি চালকের জন্য রয়েছে ১০.২৫ ইঞ্চির ডিজিটাল ডিসপ্লে। বড় টাচস্ক্রিনের মাধ্যমে গাড়ির বিভিন্ন তথ্য ও বিনোদনমূলক পরিষেবা ব্যবহার করা যায়। ঘোরানোর সুবিধার ফলে পর্দার অবস্থান প্রয়োজন অনুযায়ী বদলানো সম্ভব।
আরও রয়েছে প্যানোরামিক গ্লাস রুফ, সামনের আসনের বৈদ্যুতিক সমন্বয়ের সুবিধা এবং আসনে বায়ু চলাচলের ব্যবস্থা। গান শোনা ও বিনোদনের জন্য দেওয়া হয়েছে ১২টি স্পিকার। এই সমস্ত সুবিধা গাড়ির কেবিনে আরাম ও বিনোদনের অভিজ্ঞতা বাড়ানোর উদ্দেশ্যে রাখা হয়েছে।
নিরাপত্তায় ১১টি এয়ারব্যাগ ও লেভেল ২ এডিএএস
নিরাপত্তার ক্ষেত্রে বিওয়াইডি সিলিয়ন ৭ ফেস্টিভ এডিশনে রয়েছে ১১টি এয়ারব্যাগ। পাশাপাশি, গাড়িটি ৩৬০ ডিগ্রি ক্যামেরা এবং লেভেল ২ অ্যাডভান্সড ড্রাইভার অ্যাসিস্ট্যান্স সিস্টেম বা এডিএএস সমর্থন করে।
৩৬০ ডিগ্রি ক্যামেরা গাড়ির চারপাশের দৃশ্য দেখিয়ে পার্কিং এবং সরু জায়গায় গাড়ি চালানোর সময় চালককে সাহায্য করতে পারে। অন্যদিকে, লেভেল ২ এডিএএস-এর আওতায় থাকা নির্দিষ্ট সহায়ক ব্যবস্থা গাড়ি চালানোর সময় পরিস্থিতি বুঝতে এবং কিছু নিয়ন্ত্রণের কাজে চালককে সাহায্য করতে পারে। তবে এই প্রযুক্তিগুলি চালকের বিকল্প নয়। গাড়ি চালানোর সময় চালককে সবসময় রাস্তার পরিস্থিতির উপর নজর রাখতে হবে।
সংস্থার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ফেস্টিভ এডিশনে প্রিমিয়াম সংস্করণের ভিত্তিগত বৈশিষ্ট্য বজায় রাখা হয়েছে। ফলে এর প্রধান আকর্ষণ নতুন কেবিনের রঙের বিন্যাস এবং সীমিত সংখ্যায় বাজারে আসা।
৮২.৫৬ কিলোওয়াট-ঘণ্টার ব্যাটারি ও ৫৬৭ কিলোমিটারের রেঞ্জ
যেহেতু ফেস্টিভ এডিশনটি প্রিমিয়াম ভ্যারিয়েন্টের উপর ভিত্তি করে তৈরি, তাই এতে রয়েছে ৮২.৫৬ কিলোওয়াট-ঘণ্টার ব্যাটারি প্যাক। পিছনের চাকায় শক্তি সরবরাহ করে একটি বৈদ্যুতিক মোটর, যার সর্বোচ্চ ক্ষমতা ৩১৩ হর্সপাওয়ার এবং টর্ক ৩৮০ নিউটন-মিটার।
বিওয়াইডির দাবি, সিলিয়ন ৭ প্রিমিয়াম একবার সম্পূর্ণ চার্জে এনইডিসি পরীক্ষাপদ্ধতি অনুযায়ী ৫৬৭ কিলোমিটার পর্যন্ত চলতে পারে। তবে এই পরিসংখ্যান পরীক্ষাগারের নির্দিষ্ট মানের ভিত্তিতে দেওয়া। বাস্তবে গাড়ির রেঞ্জ নির্ভর করবে গতি, রাস্তার অবস্থা, আবহাওয়া, এয়ার কন্ডিশনিংয়ের ব্যবহার এবং চালানোর ধরনের উপর। তাই বাস্তব পরিস্থিতিতে একবার চার্জে কত দূর যাওয়া যাবে, তা এই পরীক্ষামূলক রেঞ্জের চেয়ে আলাদা হতে পারে।
পারফরম্যান্সের ক্ষেত্রেও গাড়িটি উল্লেখযোগ্য। সংস্থার দাবি অনুযায়ী, স্থির অবস্থা থেকে ঘণ্টায় ১০০ কিলোমিটার গতিতে পৌঁছতে সিলিয়ন ৭ প্রিমিয়ামের সময় লাগে ৬.৭ সেকেন্ড। পিছনের চাকায় মোটর থাকার ফলে গাড়িটি রিয়ার-হুইল-ড্রাইভ বিন্যাসে চলে।
কারা কিনতে পারেন এই বিশেষ সংস্করণ?
বিওয়াইডি সিলিয়ন ৭ ফেস্টিভ এডিশন মূলত তাঁদের কাছে আকর্ষণীয় হতে পারে, যাঁরা প্রিমিয়াম সংস্করণের বৈদ্যুতিক এসইউভি চান এবং কেবিনে আলাদা রঙের বিন্যাস পছন্দ করেন। তবে সাধারণ প্রিমিয়াম সংস্করণের তুলনায় এর দাম ৭০,০০০ টাকা বেশি হওয়ায় ক্রেতাদের বিবেচনা করতে হবে, নতুন অভ্যন্তরীণ রঙের জন্য অতিরিক্ত খরচ করা তাঁদের কাছে কতটা গুরুত্বপূর্ণ।
অন্যদিকে, যাঁরা বেশি পারফরম্যান্স চান, তাঁদের জন্য সিলিয়ন ৭-এর পারফরম্যান্স সংস্করণও রয়েছে। সেটির দাম ৫৫.৯০ লক্ষ টাকা। ফলে ক্রেতারা বাজেট, কেবিনের নকশা এবং গাড়ির প্রয়োজনীয় বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন।
বিওয়াইডি সিলিয়ন ৭ ফেস্টিভ এডিশনের দাম ৫০.৬০ লক্ষ টাকা এবং মাত্র ১৫০টি ইউনিট বাজারে আনার পরিকল্পনা রয়েছে। ৮২.৫৬ কিলোওয়াট-ঘণ্টার ব্যাটারি, ৩১৩ হর্সপাওয়ারের বৈদ্যুতিক মোটর, ৫৬৭ কিলোমিটারের দাবিকৃত এনইডিসি রেঞ্জ এবং উন্নত নিরাপত্তা বৈশিষ্ট্যগুলি এতে থাকছে। তবে নতুন সংস্করণটির মূল পরিবর্তন বাইরের নকশায় নয়, বরং ট্যান ও কালো রঙের বিশেষ কেবিনে।
Essential Business Intelligence, Sharp Market Insights, Practical Personal Finance Advice, Daily Fuel, Gold and Silver Prices and Latest Stories – On Kolkata24x7 Business