২৯ কিমি মাইলেজ দেবে Renault Duster হাইব্রিড, বুকিং শুরু ২১,০০০ টাকায়
ভারতের গাড়ির বাজারে নতুন রেনো ডাস্টার হাইব্রিডকে ঘিরে আগ্রহ বাড়ছে। লঞ্চের আগেই গাড়িটির সরকারি জ্বালানি সাশ্রয়ের পরিসংখ্যান প্রকাশ করেছে রেনো ইন্ডিয়া। সংস্থার দাবি, নতুন ডাস্টার স্ট্রং হাইব্রিড ই-টেক ১৬০ প্রতি লিটারে ২৯ কিলোমিটার মাইলেজ দেবে। এআরএআই-স্বীকৃত এই পরিসংখ্যান সত্যি হলে, মারুতি সুজুকি ভিক্টোরিস, গ্র্যান্ড ভিটারা এবং টয়োটা হাইরাইডার হাইব্রিডের তুলনায় এগিয়ে থাকবে ডাস্টার।
নতুন এসইউভিটি ভারতে ১৭ অক্টোবর, ২০২৬-এ লঞ্চ হওয়ার কথা। তার আগেই গাড়িটির বুকিং শুরু করেছে সংস্থা। আগ্রহী ক্রেতারা ২১,০০০ টাকা টোকেন অ্যামাউন্ট দিয়ে রেনোর সরকারি ওয়েবসাইট অথবা অনুমোদিত ডিলারশিপ থেকে গাড়িটি বুক করতে পারবেন।
রেনো ডাস্টার হাইব্রিড বনাম মারুতি ও টয়োটা: কার মাইলেজ কত?
রেনোর প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ডাস্টার স্ট্রং হাইব্রিড ই-টেক ১৬০-এর এআরএআই-স্বীকৃত মাইলেজ প্রতি লিটারে ২৯ কিলোমিটার। এই পরিসংখ্যান গাড়িটিকে হাইব্রিড এসইউভি বিভাগে উল্লেখযোগ্য অবস্থানে নিয়ে যেতে পারে।
তুলনায়, মারুতি সুজুকি ভিক্টোরিস হাইব্রিডের দাবিকৃত মাইলেজ ২৮.৬৫ কিলোমিটার প্রতি লিটার। অন্যদিকে, মারুতি সুজুকি গ্র্যান্ড ভিটারা হাইব্রিড এবং টয়োটা হাইরাইডার হাইব্রিডের এআরএআই-স্বীকৃত মাইলেজ ২৭.৯৭ কিলোমিটার প্রতি লিটার।
| গাড়ির মডেল | এআরএআই-স্বীকৃত মাইলেজ |
| রেনো ডাস্টার হাইব্রিড | ২৯ কিমি/লিটার |
| মারুতি সুজুকি ভিক্টোরিস হাইব্রিড | ২৮.৬৫ কিমি/লিটার |
| মারুতি সুজুকি গ্র্যান্ড ভিটারা হাইব্রিড | ২৭.৯৭ কিমি/লিটার |
| টয়োটা হাইরাইডার হাইব্রিড | ২৭.৯৭ কিমি/লিটার |
প্রকাশিত পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ভিক্টোরিসের তুলনায় ডাস্টারের মাইলেজ ০.৩৫ কিলোমিটার প্রতি লিটার বেশি। গ্র্যান্ড ভিটারা ও হাইরাইডারের তুলনায় ব্যবধান ১.০৩ কিলোমিটার প্রতি লিটার। তবে বাস্তবে গাড়ির মাইলেজ নির্ভর করবে ট্র্যাফিক, রাস্তার অবস্থা, চালানোর ধরন এবং অন্যান্য পরিস্থিতির উপর। তাই সরকারি পরীক্ষার ফলের সঙ্গে দৈনন্দিন ব্যবহারের মাইলেজের পার্থক্য হতে পারে।
২১,০০০ টাকা দিয়ে বুকিং করা যাবে নতুন ডাস্টার
নতুন ডাস্টার হাইব্রিডের আনুষ্ঠানিক বুকিং শুরু করেছে রেনো ইন্ডিয়া। সংস্থার সরকারি ওয়েবসাইট অথবা দেশের অনুমোদিত রেনো ডিলারশিপে গিয়ে আগ্রহী ক্রেতারা বুকিং করতে পারবেন। বুকিংয়ের জন্য টোকেন অ্যামাউন্ট রাখা হয়েছে ২১,০০০ টাকা।
গাড়িটির বাজারে আত্মপ্রকাশের আগে বুকিং চালু হওয়ায় আগ্রহী ক্রেতারা আগেভাগে নিজেদের পছন্দের মডেল বুক করার সুযোগ পাচ্ছেন। তবে গাড়িটির চূড়ান্ত দাম, ভ্যারিয়েন্ট অনুযায়ী ফিচার এবং ডেলিভারির সময় সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে সংস্থার আনুষ্ঠানিক ঘোষণার দিকে নজর রাখতে হবে।
১.৮ লিটারের পেট্রল ইঞ্জিনের সঙ্গে দুটি ইলেকট্রিক মোটর
নতুন রেনো ডাস্টার স্ট্রং হাইব্রিড ই-টেক ১৬০-এ রয়েছে ১.৮ লিটারের পেট্রল ইঞ্জিন, দুটি ইলেকট্রিক মোটর এবং ১.৪ কিলোওয়াট আওয়ারের ব্যাটারি। এই হাইব্রিড পাওয়ারট্রেনের সম্মিলিত ক্ষমতা ১৬০ পিএস।
গাড়িটিতে রয়েছে একটি ইন্টেলিজেন্ট মাল্টি-মোড ট্রান্সমিশন। এটি রাস্তার পরিস্থিতি এবং গাড়ি চালানোর ধরন অনুযায়ী পেট্রল ইঞ্জিন ও ইলেকট্রিক মোটরগুলির কাজ পরিচালনা করে। ফলে সব পরিস্থিতিতে একইভাবে ইঞ্জিনের উপর নির্ভর করতে হয় না।
রেনোর দাবি, শহরের প্রায় ৮০ শতাংশ যাত্রা সম্পূর্ণ ইলেকট্রিক মোডে করা সম্ভব। তবে এই পরিসংখ্যান বাস্তবে কতটা মিলবে, তা নির্ভর করবে যাত্রার দৈর্ঘ্য, ট্র্যাফিক এবং অন্যান্য ড্রাইভিং পরিস্থিতির উপর।
বাইরে থেকে চার্জ দিতে হবে না ডাস্টার হাইব্রিডে
নতুন ডাস্টারের হাইব্রিড ব্যবস্থার অন্যতম সুবিধা হল, ব্যাটারি চার্জ করার জন্য আলাদা করে চার্জিং স্টেশনে গাড়ি লাগানোর প্রয়োজন নেই। গাড়ি চলার সময়ই ব্যাটারি চার্জ হতে পারে। ফলে সম্পূর্ণ ইলেকট্রিক গাড়ির মতো বাড়িতে বা পাবলিক চার্জিং স্টেশনে চার্জ দেওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে না।
যাঁরা ডিজেল এসইউভির বিকল্প খুঁজছেন, তাঁদের জন্য এই ধরনের স্ট্রং হাইব্রিড গাড়ি একটি নতুন বিকল্প হতে পারে। পেট্রল ইঞ্জিন ও ইলেকট্রিক মোটরের সমন্বয়ে জ্বালানি সাশ্রয় এবং পারফরম্যান্সের মধ্যে ভারসাম্য রাখার লক্ষ্যেই এই প্রযুক্তি তৈরি করা হয়েছে।
রেনোর বক্তব্য: পারফরম্যান্স ও মাইলেজে ভারসাম্য
রেনো গ্রুপ ইন্ডিয়ার বিক্রয় ও বিপণন বিভাগের ভাইস প্রেসিডেন্ট ফ্রান্সিসকো হিডালগো জানিয়েছেন, ইউরোপে ব্যবহৃত সংস্থার ই-টেক স্ট্রং হাইব্রিড প্রযুক্তি ভারতে নিয়ে আসা তাদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, ভারতীয় এসইউভি ক্রেতাদের পারফরম্যান্স এবং জ্বালানি সাশ্রয়ের মধ্যে একটিকে বেছে নিতে বাধ্য হওয়া উচিত নয়।
সংস্থার দাবি, ১৬০ পিএস সম্মিলিত ক্ষমতা এবং প্রতি লিটারে ২৯ কিলোমিটার এআরএআই-স্বীকৃত মাইলেজের মাধ্যমে নতুন ডাস্টার এই দুই দিকের মধ্যে ভারসাম্য রাখবে। বাইরে থেকে চার্জ দেওয়ার প্রয়োজন না থাকায় এটি দৈনন্দিন ব্যবহারের জন্যও সুবিধাজনক হতে পারে।
হাইব্রিড এসইউভির বাজারে বাড়বে প্রতিযোগিতা?
রেনো ডাস্টার হাইব্রিডের ২৯ কিলোমিটার প্রতি লিটারের দাবিকৃত মাইলেজ গাড়িটির অন্যতম বড় আকর্ষণ। পাশাপাশি, ১৬০ পিএস ক্ষমতা এবং বাইরে থেকে চার্জ না দিয়েও চলার সুবিধা ক্রেতাদের আগ্রহ বাড়াতে পারে। তবে গাড়িটির চূড়ান্ত দাম ও ভ্যারিয়েন্টের বিস্তারিত এখনও জানা বাকি।
১৭ অক্টোবর লঞ্চের পর দাম, ফিচার এবং বাস্তব ব্যবহারে মাইলেজ সম্পর্কে আরও স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে। তখনই বোঝা যাবে, মারুতি সুজুকি ও টয়োটার হাইব্রিড এসইউভিগুলির সঙ্গে প্রতিযোগিতায় নতুন ডাস্টার কতটা সুবিধা দিতে পারে।
Essential Business Intelligence, Sharp Market Insights, Practical Personal Finance Advice, Daily Fuel, Gold and Silver Prices and Latest Stories – On Kolkata24x7 Business