মুকেশ-বিজেপি ‘লিঙ্ক’-এ খাপ্পা স্টারলিং কর্তা, মাস্কের দাবি ওড়াল দিল্লি
এই সময়: নিন্দুকদের দাবি, ২০২৪ সালে মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং রিপাবলিকান শিবিরকে কমবেশি ৩০০ মিলিয়ন ডলার (ভারতীয় মুদ্রায় ২,৯০০ কোটি টাকার আশেপাশে) ‘সাহায্য’ করেছিলেন টেসলা–কর্তা ইলন মাস্ক। যে খবরের প্রকাশ্যে বিরোধিতা করার ‘সাহস’ খোদ পোটাস বা তিনি— কেউই দেখাননি। এহেন মাস্ক বেজায় চটেছেন রিলায়েন্স গোষ্ঠীর সঙ্গে লতায়-পাতায় সম্পর্ক থাকা (তাঁর দাবি অনুযায়ী) এক সংস্থার ফেসবুকে বিজেপির ক্যাম্পেনে ৩৮৫ কোটি টাকা ‘অনুদান’ দেওয়ায়। পুরোনো কাগজের দিস্তা খুলে, ইন্টারনেটে বিস্তর ওয়েবসাইট ঘেঁটে ঘুঁটে ২০২২ সালের আল জাজ়িরা, ২০২৪ সালের ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস-এ প্রকাশিত খবরের স্ক্রিনশট শনিবার নিজের এক্স হ্যান্ডলে (সাবেক টুইটার) পোস্ট করে তিনি যেন প্রমাণ করেই ছাড়বেন— মুকেশ আম্বানি কেন্দ্রের মোদী সরকারের ‘ঘনিষ্ঠ’। আর তিনি নেহাতই গোবেচারা ব্যবসায়ী হওয়ায়, ভারতে তাঁর স্যাটেলাইট ইন্টারনেট সংস্থা স্টারলিঙ্ক-এর পরিষেবা চালু হওয়া আটকে দিয়েছেন রিলায়েন্স প্রধান!
যে রাগে এই পোস্ট-এর ঘণ্টাকয়েক আগেই এক্স-এ করা অন্য এক পোস্টে সরাসরিই মুকেশের বিরুদ্ধে ক্ষোভ ব্যাঙ্গের সুরে উগরে দেন মাস্ক। যেখানে তিনি লেখেন, ‘প্রিয় প্রধানমন্ত্রী আম্বানি, আপনিই যে ভারতের আসল বস, তা বুঝতে না পারার জন্য আমার বিনীত ক্ষমাপ্রার্থনা গ্রহণ করুন।’ এতেই না–থেমে তাঁর কটাক্ষ, ‘স্বাভাবিক ভাবেই আপনি ভারতের সাধারণ মানুষের উপরে আপনার একচেটিয়া ব্যবসার মাধ্যমে শোষণ চালিয়ে যেতে চাইবেন। তা সত্ত্বেও স্টারলিঙ্ককে কি আপনার সঙ্গে প্রতিযোগিতায় নামার অনুমতি দেওয়ার কথা একবার বিবেচনা করবেন?’
মাস্কের বক্তব্য, ভারত-সহ বিশ্বের বহু এলাকায় এখনও ইন্টারনেট পরিষেবা নেই। এর ফলে শিশুরা শিক্ষার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। একই সঙ্গে, ছোট ব্যবসাগুলিও বিশ্ববাজারে নিজেদের পণ্য বিক্রি করার সুযোগ পাচ্ছে না। তাঁর দাবি, ‘স্টারলিঙ্ক এই পরিস্থিতি বদলে দিয়ে মানুষের জীবন আরও উন্নত করতে পারে।’
উল্লেখ্য, দু’দিন আগে করা পোস্টে মাস্কই জানতে চেয়েছিলেন, রিলায়েন্স–প্রধান মুকেশ আম্বানিই ভারতের ‘রিয়েল বস’ কি না? পরোক্ষে জানিয়েছিলেন, মুকেশের জন্যই ভারতে তাঁর স্যাটেলাইট ইন্টারনেট সংস্থা স্টারলিঙ্ক-এর পরিষেবা চালু হতে দেরি হচ্ছে। যে পোস্ট লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী সমর্থন করায় শাসক-বিরোধী শিবিরে শুরু হয়ে যায় রাজনৈতিক তরজা।
শুক্রবার যে প্রসঙ্গে মুখ খুলে কেন্দ্রীয় যোগাযোগ মন্ত্রী জ্যোতিরাদিত্য সিন্ধিয়া দাবি করেছেন, মাস্কের দাবি ভিত্তিহীন। ভারতে কোনও ক্ষেত্রেই কোনও একটি সংস্থার একচেটিয়া ব্যবসা চালানোর অনুমতি দেয় না মোদী সরকার। স্যাটেলাইট ইন্টারনেট পরিষেবার ক্ষেত্রেও মাস্কের স্টারলিঙ্ক-এর পাশাপাশি রিলায়েন্স জিয়ো এবং এয়ারটেল-ইউটেলস্যাট–কে পরিষেবা চালু করার প্রাথমিক অনুমতি দেওয়া হয়েছে।