ব্রহ্মোসে ভারতীয় নৌবাহিনীর জোর, ৬৬১.৫ কোটির চুক্তি প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের
ভারতীয় নৌবাহিনীর (Indian Navy) যুদ্ধক্ষমতা আরও শক্তিশালী করতে বড় পদক্ষেপ করল প্রতিরক্ষা মন্ত্রক। ভারতীয় যুদ্ধজাহাজের জন্য ব্রহ্মোস ফায়ার কন্ট্রোল সিস্টেম এবং লঞ্চার সংগ্রহে ব্রহ্মোস অ্যারোস্পেস…
ভারতীয় নৌবাহিনীর (Indian Navy) যুদ্ধক্ষমতা আরও শক্তিশালী করতে বড় পদক্ষেপ করল প্রতিরক্ষা মন্ত্রক। ভারতীয় যুদ্ধজাহাজের জন্য ব্রহ্মোস ফায়ার কন্ট্রোল সিস্টেম এবং লঞ্চার সংগ্রহে ব্রহ্মোস অ্যারোস্পেস প্রাইভেট লিমিটেডের সঙ্গে ৬৬১.৫ কোটি টাকার চুক্তি স্বাক্ষর করেছে কেন্দ্র। মঙ্গলবার এই চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। প্রতিরক্ষা সচিব তথা ডিআরডিও চেয়ারম্যান রাজেশ কুমার সিংয়ের উপস্থিতিতে চুক্তি সম্পন্ন হয়।
যুদ্ধজাহাজে আরও শক্তিশালী হবে ব্রহ্মোস ব্যবস্থা
ব্রহ্মোস ইতিমধ্যেই ভারতীয় নৌবাহিনীর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্র ব্যবস্থা। বিভিন্ন ফ্রন্টলাইন যুদ্ধজাহাজে মোতায়েন থাকা এই সুপারসনিক ক্রুজ মিসাইল মূলত সমুদ্র থেকে স্থল এবং সমুদ্রের লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে ব্যবহৃত হয়।
প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের বক্তব্য অনুযায়ী, ব্রহ্মোস ফায়ার কন্ট্রোল সিস্টেম এবং লঞ্চারের নতুন এই চুক্তি নৌবাহিনীর মেরিটাইম স্ট্রাইক সক্ষমতাকে আরও শক্তিশালী করবে। দীর্ঘ দূরত্বে অত্যন্ত নির্ভুলভাবে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানার ক্ষমতা রয়েছে এই অস্ত্র ব্যবস্থার। সুপারসনিক গতির কারণে শত্রুপক্ষের জন্য প্রতিরোধ গড়ে তোলাও তুলনামূলক কঠিন হয়ে ওঠে।
‘বাই ইন্ডিয়ান-আইডিডিএম’ বিভাগের অধীনে চুক্তি
এই প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম সংগ্রহ করা হবে ‘বাই ইন্ডিয়ান-আইডিডিএম’ বিভাগের অধীনে। অর্থাৎ দেশীয় প্রযুক্তি এবং দেশীয় শিল্পের অংশগ্রহণকে অগ্রাধিকার দিয়ে এই প্রকল্প বাস্তবায়ন করবে ভারত।
প্রতিরক্ষা মন্ত্রক জানিয়েছে, প্রকল্পটিতে ন্যূনতম ৬৮ শতাংশ দেশীয় উপাদান থাকবে। ফলে ভারতের প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে আত্মনির্ভরতা বাড়ানোর পাশাপাশি দেশীয় প্রতিরক্ষা উৎপাদন ব্যবস্থাও উৎসাহিত হবে।

এই প্রকল্পে বিভিন্ন ভারতীয় সংস্থা, বিশেষ করে ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি শিল্প বা এমএসএমইগুলির সক্রিয় অংশগ্রহণের সুযোগ তৈরি হবে। আগামী তিন বছর ধরে এই প্রকল্পের মাধ্যমে কর্মসংস্থানও তৈরি হবে বলে জানিয়েছে প্রতিরক্ষা মন্ত্রক।
প্রায় ২০টি যুদ্ধজাহাজে ইতিমধ্যেই ব্রহ্মোস
ব্রহ্মোস দীর্ঘদিন ধরেই ভারতীয় নৌবাহিনীর প্রধান সারফেস-টু-সারফেস মিসাইল বা এসএসএম ব্যবস্থা হিসেবে কাজ করছে। বিভিন্ন রিপোর্ট অনুযায়ী, ভারতীয় নৌবাহিনীর প্রায় ২০টি ফ্রন্টলাইন যুদ্ধজাহাজে বর্তমানে ব্রহ্মোস মোতায়েন রয়েছে।
এই সুপারসনিক ক্রুজ মিসাইলের অন্যতম বড় বৈশিষ্ট্য হল এর গতি এবং নির্ভুলতা। বর্তমানে ব্রহ্মোসে সজ্জিত ভারতীয় যুদ্ধজাহাজগুলি প্রায় ২৫০ থেকে ৩০০ নটিক্যাল কিলোমিটার দূরের লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম।
ফলে ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলে নৌবাহিনীর দূরপাল্লার আঘাত হানার ক্ষমতার ক্ষেত্রে ব্রহ্মোস গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। নতুন চুক্তির মাধ্যমে যুদ্ধজাহাজগুলিতে ফায়ার কন্ট্রোল ব্যবস্থা এবং লঞ্চার সক্ষমতা আরও উন্নত করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।
আরও শক্তিশালী হতে পারে ব্রহ্মোস-এনজি
ব্রহ্মোসের পরবর্তী প্রজন্মের সংস্করণ ব্রহ্মোস-এনজি নিয়েও কাজ চলছে। ভারত ও রাশিয়ার যৌথ উদ্যোগে তৈরি এই নতুন প্রজন্মের মিসাইলটি বর্তমানে উন্নয়ন পর্যায়ে রয়েছে।
ব্রহ্মোস-এনজি বর্তমান ব্রহ্মোসের তুলনায় ছোট, হালকা এবং আরও স্টেলথ বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন হবে বলে জানা যাচ্ছে। এর ফলে ভবিষ্যতে আরও বেশি প্ল্যাটফর্মে এই মিসাইল ব্যবহারের সুযোগ তৈরি হতে পারে।
বিভিন্ন রিপোর্ট অনুযায়ী, ব্রহ্মোস-এনজি ভবিষ্যতে ভারতীয় নৌবাহিনীর লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানার পরিসর প্রায় ৫০০ কিলোমিটার পর্যন্ত বাড়াতে পারে। তবে এই সক্ষমতা সম্পূর্ণভাবে বাস্তবায়িত হবে মিসাইলটির উন্নয়ন ও পরিষেবায় অন্তর্ভুক্তির পর।
দেশীয় প্রতিরক্ষা উৎপাদনে আরও এক ধাপ
৬৬১.৫ কোটি টাকার এই চুক্তিকে শুধু নৌবাহিনীর অস্ত্রভাণ্ডার শক্তিশালী করার পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে না। এর মাধ্যমে ভারতীয় প্রতিরক্ষা শিল্পে দেশীয় প্রযুক্তি, উৎপাদন এবং সরবরাহ ব্যবস্থার অংশগ্রহণও বাড়বে।
ন্যূনতম ৬৮ শতাংশ দেশীয় উপাদানের বাধ্যবাধকতা থাকায় দেশীয় সংস্থাগুলির জন্য দীর্ঘমেয়াদি উৎপাদন ও সরবরাহের সুযোগ তৈরি হবে। একই সঙ্গে এমএসএমইগুলির অংশগ্রহণ এবং আগামী তিন বছরে কর্মসংস্থান তৈরির সম্ভাবনাও রয়েছে।
সব মিলিয়ে, ব্রহ্মোস ফায়ার কন্ট্রোল সিস্টেম ও লঞ্চার কেনার এই চুক্তি ভারতীয় নৌবাহিনীর যুদ্ধজাহাজগুলির আক্রমণাত্মক সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি দেশের প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে আত্মনির্ভরতার লক্ষ্যকেও আরও এগিয়ে নিয়ে যাবে।
Defence News-এর সর্বশেষ আপডেট। ভারতের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, সামরিক মহড়া, যুদ্ধবিমান, ক্ষেপণাস্ত্র, অস্ত্র ও প্রতিরক্ষা প্রযুক্তির খবর পড়ুন।