'চিনের মত হুমকি দেয় না ভারত!' প্রশংসায় সিঙ্গাপুরের প্রাক্তন বিদেশমন্ত্রী - 24 Ghanta Bangla News
Home

‘চিনের মত হুমকি দেয় না ভারত!’ প্রশংসায় সিঙ্গাপুরের প্রাক্তন বিদেশমন্ত্রী

Spread the love

সিঙ্গাপুরের প্রাক্তন বিদেশমন্ত্রী জর্জ ইয়ো ভারতের (George Yeo)বিশ্বব্যাপী অবস্থান নিয়ে এক গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেছেন, ভারত চিনের মত কাউকে হুমকি দেয় না। ভারত নিজেকে…

সিঙ্গাপুরের প্রাক্তন বিদেশমন্ত্রী জর্জ ইয়ো ভারতের (George Yeo)বিশ্বব্যাপী অবস্থান নিয়ে এক গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেছেন, ভারত চিনের মত কাউকে হুমকি দেয় না। ভারত নিজেকে খুব ভালোভাবে অবস্থান করেছে। তাই অন্যান্য দেশ ভারতের মঙ্গল কামনা করে। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া চায় ভারত ভালো করুক। জাপান, ইউরোপ এবং আমেরিকাও চায় ভারত সফল হোক।

এই মন্তব্য তিনি সম্প্রতি এক আন্তর্জাতিক আলোচনায় করেছেন। জর্জ ইয়োর মতে, বর্তমান বিশ্বে মহাশক্তিগুলোর মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা বাড়ছে। এমন পরিস্থিতিতে ভারতের অবস্থান অনন্য। ভারত কোনো শিবিরে জোর করে ঢোকেনি। বরং নিজস্ব কৌশলগত স্বায়ত্তশাসন বজায় রেখে বিভিন্ন পক্ষের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তুলেছে। এ কারণেই বড় শক্তিগুলো ভারতকে হুমকি হিসেবে দেখে না।

আরও দেখুনঃ সোমে আটক-মঙ্গলেই বাগডোগরা থেকে পুশব্যাক ১৫০ অবৈধ বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী

চিনসহ সবাই ভারতের সঙ্গে ভালো সম্পর্ক রাখতে চায়।ইয়ো বলেছেন, ভারতের এই অবস্থান তাকে প্রতিটি টেবিলে বসার সুযোগ করে দিয়েছে। ভারত চাইলে ওয়াশিংটন ও বেইজিং দুই পক্ষ থেকেই সুবিধা নিতে পারে। কৌশলগত স্বায়ত্তশাসন বজায় রেখে নিজের স্বার্থ রক্ষা করাই ভারতের শক্তি। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলো ভারতের উত্থানকে ইতিবাচকভাবে দেখছে। তাঁদের কাছে ভারত এক ধরনের ভারসাম্যের শক্তি।

চিনের অর্থনৈতিক প্রভাব বাড়লেও অনেক দেশ চায় না এককভাবে নির্ভরশীল হয়ে পড়ুক। এখানে ভারতের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। (George Yeo)জাপান, ইউরোপ ও আমেরিকার ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য। এই দেশগুলো ভারতের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও স্থিতিশীলতাকে নিজেদের স্বার্থেই দেখছে। ভারতের বড় বাজার, ক্রমবর্ধমান প্রযুক্তি খাত এবং গণতান্ত্রিক কাঠামো অনেকের কাছে আকর্ষণীয়।

ইয়োর মতে, ভারত যখন এগিয়ে যায়, তখন আঞ্চলিক ও বিশ্বব্যাপী স্থিতিশীলতাও বাড়ে।তিনি ভারত-চিন সম্পর্কের ওপরও জোর দিয়েছেন। দুই দেশের মধ্যে মতপার্থক্য থাকলেও মৌলিক শত্রুতা নেই। ইতিহাসেও তাঁরা শত্রু ছিল না। সীমান্ত সমস্যা থাকলেও শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান সম্ভব। এশিয়ার দুই বড় শক্তি যদি সহযোগিতা করে, তাহলে বিশ্বে শান্তির সম্ভাবনা বাড়ে। ইয়ো মনে করেন, ভারতের উত্থান চিনের জন্যও দীর্ঘমেয়াদে লাভজনক হতে পারে, কারণ একটি সমৃদ্ধ ভারত আঞ্চলিক অর্থনীতিকে চাঙ্গা করবে।

সিঙ্গাপুরের মতো ছোট দেশগুলো এই পরিস্থিতিতে সতর্ক ভারসাম্য রক্ষা করে চলে। তাঁরা চিন ও আমেরিকা দুই পক্ষের সঙ্গেই সম্পর্ক রাখে। (George Yeo)ভারতের ক্ষেত্রেও একই কৌশল কার্যকর। ইয়ো বলেছেন, ভারত খুব বড় এবং প্রাচীন সভ্যতা। এটি কারও উপগ্রহ হয়ে থাকবে না। বরং নিজস্ব মেরু তৈরি করবে।এই মন্তব্য ভারতের কূটনৈতিক সাফল্যের স্বীকৃতি হিসেবে দেখা হচ্ছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ভারত কোয়াড, আই২ইউ২, ইন্দো-প্যাসিফিক সহযোগিতাসহ বিভিন্ন মঞ্চে সক্রিয়।

একইসঙ্গে রাশিয়া, আফ্রিকা ও মধ্যপ্রাচ্যের সঙ্গেও সম্পর্ক জোরদার করেছে। অর্থনৈতিক সংস্কার, পরিকাঠামো উন্নয়ন ও প্রযুক্তি খাতে অগ্রগতি আন্তর্জাতিক মহলে আস্থা বাড়িয়েছে।(George Yeo)জর্জ ইয়োর মতো অভিজ্ঞ কূটনীতিকের এই মূল্যায়ন ইঙ্গিত দেয় যে ভারতের অবস্থান এখন আর শুধু দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। বৈশ্বিক মঞ্চে ভারতকে সবাই গুরুত্ব দিচ্ছে। অন্যান্য দেশের মঙ্গল কামনা ভারতের জন্য ইতিবাচক পরিবেশ তৈরি করছে। তবে এই সুযোগ কাজে লাগাতে হলে অভ্যন্তরীণ সংস্কার, অর্থনৈতিক শক্তি এবং কূটনৈতিক দক্ষতা অব্যাহত রাখতে হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *