ইরাক থেকে তেল আমদানিতে গতি সত্ত্বেও পরিবহনে বাড়ছে ঝুঁকি - 24 Ghanta Bangla News
Home

ইরাক থেকে তেল আমদানিতে গতি সত্ত্বেও পরিবহনে বাড়ছে ঝুঁকি

Spread the love

নয়াদিল্লি: ইরাক থেকে ভারতে অপরিশোধিত তেল আমদানির ক্ষেত্রে ফের গতি ফিরছে।(Oil Imports) কিন্তু সেই সঙ্গে সামনে আসছে একাধিক নতুন ঝুঁকিও। আগামী ২২ থেকে ৩১ অক্টোবরের…

নয়াদিল্লি: ইরাক থেকে ভারতে অপরিশোধিত তেল আমদানির ক্ষেত্রে ফের গতি ফিরছে।(Oil Imports) কিন্তু সেই সঙ্গে সামনে আসছে একাধিক নতুন ঝুঁকিও। আগামী ২২ থেকে ৩১ অক্টোবরের মধ্যে ইরাকের বসরা টার্মিনাল থেকে ভারতীয় তেল সংস্থা ইন্ডিয়ান অয়েল কর্পোরেশনের জন্য প্রায় ২০ লক্ষ ব্যারেল বাসরা মিডিয়াম ক্রুড তোলার কথা রয়েছে।

সূত্রের খবর, গত ১ অক্টোবর হওয়া চুক্তি অনুযায়ী প্রতি ব্যারেল তেলের দাম দুবাই বেঞ্চমার্কের তুলনায় প্রায় ৩২ ডলার কম হতে পারে। অর্থাৎ তুলনামূলক সস্তায় ইরাকি তেল পাওয়ার সুযোগ তৈরি হলেও সেই তেল ভারতে পৌঁছনোর পুরো প্রক্রিয়াই এখন নানা অনিশ্চয়তায় ঘেরা।

আরও দেখুনঃ শ্রীনগর থেকে বাগডোগরা আনা হল ১৫০ অবৈধ বাংলাদেশি! ৭ তে পুশব্যাকের সম্ভবনা

ইরাক থেকে তেল ভারতে আসার পথকে মোটামুটি চারটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপে দেখা যায় তেল উৎপাদন, তেল পরিবহণ, পরিকাঠামোর নিরাপত্তা এবং অর্থপ্রদানের ব্যবস্থা। প্রতিটি ক্ষেত্রেই রয়েছে আলাদা ঝুঁকি। ভারতীয় তেল আমদানির ক্ষেত্রে ইরাকের গুরুত্বও কম নয়।

ভারতীয় দূতাবাসের তথ্য অনুযায়ী, রাশিয়ার পর ইউক্রেন যুদ্ধের সময় থেকেই ইরাক ভারতের অন্যতম প্রধান অপরিশোধিত তেল সরবরাহকারী। (Oil Imports)২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে ইরাক ভারতকে প্রায় ৪৭.১১ মিলিয়ন টন অপরিশোধিত তেল সরবরাহ করেছে, যা ভারতের মোট তেল আমদানি মূল্যের প্রায় ১৯.১৬ শতাংশ।

তবে সাম্প্রতিক মাসগুলিতে এই সরবরাহে বড় ধাক্কা এসেছিল। তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ভারত গড়ে প্রতিদিন প্রায় ৯.৩১ লক্ষ ব্যারেল ইরাকি তেল আমদানি করেছিল। কিন্তু এপ্রিল নাগাদ সেই প্রবাহ প্রায় থমকে যায়। আগস্টে তা নেমে আসে মাত্র ১.৬৩ লক্ষ ব্যারেলে। এরপর সেপ্টেম্বরে ফের আমদানি বেড়ে দাঁড়ায় প্রায় ৫.৩৮ লক্ষ ব্যারেল প্রতিদিন। অর্থাৎ এক মাসে তিন গুণেরও বেশি বৃদ্ধি হলেও তা এখনও আগের স্বাভাবিক স্তরের তুলনায় কম।

সমস্যার সবচেয়ে বড় জায়গা হল পরিবহণ ব্যবস্থা। (Oil Imports)ইরাকের অধিকাংশ অপরিশোধিত তেল বসরা বন্দরের মাধ্যমে রফতানি হয় এবং হরমুজ প্রণালী পার হয়ে আন্তর্জাতিক বাজারে পৌঁছয়। ফলে হরমুজে কোনও ধরনের সামরিক উত্তেজনা বা জাহাজ চলাচলে বিঘ্ন ঘটলে সরাসরি প্রভাব পড়ে ইরাকি তেল রফতানিতে।

জুলাই মাসে হরমুজে জাহাজে হামলার পর ভারতীয় তেল সংস্থা আইওসি বসরা থেকে ২০ লক্ষ ব্যারেল ইরাকি তেল তোলার একটি পরিকল্পনা বাতিল করেছিল বলে খবর প্রকাশিত হয়েছিল। একই সময়ে ভারতীয় নাবিকদের হরমুজ প্রণালী দিয়ে যাতায়াতের ক্ষেত্রেও সতর্কতা জারি করেছিল ভারতের ডিরেক্টরেট জেনারেল অব শিপিং।

তেলের জোগান ধীরে ধীরে ফিরলেও নিরাপত্তার প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে। স্যাটেলাইট পর্যবেক্ষণে দেখা গিয়েছে, বসরার আল-বসরাহ টার্মিনালে তেল তুলতে আসা একাধিক ট্যাঙ্কার তাদের AIS বা Automatic Identification System বন্ধ রেখেছিল। ফলে সমুদ্রপথে তেল পরিবহণের প্রকৃত গতিবিধি সবসময় স্পষ্টভাবে জানা সম্ভব হচ্ছে না।

শুধু ইরাকের ভেতরের নিরাপত্তাই নয়, আশপাশের দেশগুলির ঘটনাও ভারতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। ইরাকভিত্তিক সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলির কার্যকলাপ এবং আঞ্চলিক সংঘাতের প্রভাব তেল পরিকাঠামোর ওপর পড়তে পারে। সৌদি আরবও জানিয়েছে, ইরাক থেকে ছোড়া ড্রোন তাদের গুরুত্বপূর্ণ ইস্ট-ওয়েস্ট তেল পাইপলাইনে আঘাত হেনেছে। ফলে হরমুজের বিকল্প পথগুলিও যে পুরোপুরি ঝুঁকিমুক্ত নয়, তা স্পষ্ট।

এর পাশাপাশি রয়েছে অর্থপ্রদানের প্রশ্ন। ইরাকের সরকারি আয়ের প্রায় ৯০ শতাংশই তেলনির্ভর। দেশটির তেল বিক্রির রাজস্বের একটি বড় অংশ নিউইয়র্কের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংকে থাকা ব্যবস্থার মাধ্যমে পরিচালিত হয়। ফলে আন্তর্জাতিক আর্থিক ব্যবস্থায় রাজনৈতিক বা কূটনৈতিক টানাপোড়েন তৈরি হলে ইরাকের তেল বাণিজ্যও তার প্রভাব থেকে মুক্ত থাকতে পারে না।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *