শেখ হাসিনার প্রত্যাবর্তনে কোনও সময়সীমা নেই, জানাল ভারত - 24 Ghanta Bangla News
Home

শেখ হাসিনার প্রত্যাবর্তনে কোনও সময়সীমা নেই, জানাল ভারত

Spread the love

নয়াদিল্লি: বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে (Sheikh Hasina) প্রত্যর্পণের জন্য ঢাকার অনুরোধ বর্তমানে আইনি প্রক্রিয়ায় পরীক্ষা করে দেখা হচ্ছে। ফলে তিনি কবে বাংলাদেশে ফিরবেন, তার কোনও…

নয়াদিল্লি: বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে (Sheikh Hasina) প্রত্যর্পণের জন্য ঢাকার অনুরোধ বর্তমানে আইনি প্রক্রিয়ায় পরীক্ষা করে দেখা হচ্ছে। ফলে তিনি কবে বাংলাদেশে ফিরবেন, তার কোনও নির্দিষ্ট সময়সীমা দেওয়া সম্ভব নয় বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী।

শনিবার ঢাকার একটি থিঙ্ক ট্যাঙ্ক আয়োজিত আলোচনায় শেখ হাসিনার প্রত্যাবর্তন সংক্রান্ত প্রশ্নের জবাবে ত্রিবেদী বলেন, তাঁর ফেরার বিষয়ে “কেউ কোনও সময়সীমা দিতে পারে না”। তিনি জানান, ভারত সরকার বারবার স্পষ্ট করেছে যে বিষয়টি একটি নির্দিষ্ট এবং সুসংগঠিত আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে পরীক্ষা করা হচ্ছে।

ALSO READ – বাংলাদেশি পাটপণ্যে শুল্ক বাড়াল মোদী সরকার! সর্বোচ্চ ৪৪৫ ডলার প্রতি টনে

প্রত্যর্পণের অনুরোধ পরীক্ষা করছে ভারত

ভারতের হাইকমিশনার বলেন, বাংলাদেশের পক্ষ থেকে শেখ হাসিনাকে ফেরত পাঠানোর অনুরোধ এসেছে এবং সেটি আইনি প্রক্রিয়ার মধ্যেই পরীক্ষা করা হচ্ছে। তাই এখনই তাঁর প্রত্যাবর্তনের নির্দিষ্ট দিন বা সময়সীমা ঘোষণা করা সম্ভব নয়। ভারতের বিদেশ মন্ত্রকও এর আগে জানিয়েছিল যে বাংলাদেশের প্রত্যর্পণ অনুরোধ প্রতিষ্ঠিত প্রক্রিয়া অনুযায়ী পরীক্ষা করা হচ্ছে। শেখ হাসিনা ২০২৪ সালের আগস্টে বাংলাদেশে সরকারবিরোধী আন্দোলনের পর দেশ ছেড়ে ভারতে আসেন। এরপর থেকেই তাঁকে বাংলাদেশে ফেরানোর দাবি জানিয়ে আসছে ঢাকার বিভিন্ন সরকার।

‘হাসিনাকে ভারত আনেনি’

শেখ হাসিনার ভারতে আসার প্রসঙ্গেও গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করেন দীনেশ ত্রিবেদী। তাঁর বক্তব্য, তাঁকে ভারতীয় বিমানবাহিনী বা ভারতীয় সেনাবাহিনী বাংলাদেশ থেকে নিয়ে আসেনি। ত্রিবেদী জানান, বাংলাদেশের সেনাবাহিনীর একটি নিরাপত্তা দল শেখ হাসিনাকে তাঁর বাসভবন থেকে নিয়ে গিয়ে বাংলাদেশি বিমানেই ভারতে পৌঁছে দিয়েছিল। সেই সময় শেখ হাসিনা এখনও বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, ওই পরিস্থিতিতে ভারতের সামনে খুব বেশি বিকল্প ছিল না। প্রতিবেশী দেশ হিসেবে পরিস্থিতির বাস্তবতা মেনে নিয়েই ভারতকে সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছিল বলে মন্তব্য করেন তিনি।

ALSO READ – চিন্ময় প্রভুর মুক্তির দাবিতে উত্তাল কলকাতা, উপ হাইকমিশনের সামনে পুলিশের সঙ্গে ধস্তাধস্তি

‘এমন পরিস্থিতি আর কোথাও তৈরি হওয়া উচিত নয়’

বাংলাদেশের পরিস্থিতি সম্পর্কে ত্রিবেদী বলেন, পুরো ঘটনাটি “মর্মান্তিক পরিস্থিতির” কারণে তৈরি হয়েছিল। বিশ্বের কোথাও যেন এই ধরনের পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি না হয়, সেটিও তিনি আশা প্রকাশ করেন। তিনি প্রশ্ন তোলেন, ভারত যদি সেই সময় শেখ হাসিনাকে বহনকারী বিমানের ভারতে অবতরণের অনুমতি না দিত, তাহলে পরিস্থিতি কীভাবে এগোত, তা বলা কঠিন ছিল।

হাসিনার প্রত্যর্পণ নিয়ে দীর্ঘ টানাপোড়েন

শেখ হাসিনা ভারতে আশ্রয় নেওয়ার পর ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের মধ্যে টানাপোড়েন তৈরি হয়। বাংলাদেশে পরবর্তী অন্তর্বর্তী সরকারও একাধিকবার ভারতকে হাসিনাকে ফেরত পাঠানোর অনুরোধ জানায়। ২০২৫ সালে বাংলাদেশে একটি বিশেষ ট্রাইব্যুনালে শেখ হাসিনার অনুপস্থিতিতে বিচার হয় এবং তাঁকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। একই সময়ে তাঁর দল আওয়ামি লিগের কার্যক্রমও নিষিদ্ধ করা হয়। পরবর্তীতে নির্বাচনের পর তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট পার্টি বা বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসে। নতুন সরকারও শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণের দাবি বজায় রেখেছে।

ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কে নতুন করে চাপ

শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ ইস্যু ভারত-বাংলাদেশ দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে রয়েছে। একইসঙ্গে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভারত সফর নিয়েও দুই দেশের মধ্যে আলোচনা চলছে। ২৯ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশের বিদেশ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির জানিয়েছিলেন, তারেক রহমানের প্রস্তাবিত ভারত সফর নিয়ে আলোচনায় ঢাকা “ইতিবাচক”। তবে এখনও সফরের কোনও তারিখ নির্ধারিত হয়নি।

এর আগে ৫ আগস্ট ২০২৬, বাংলাদেশে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার দ্বিতীয় বার্ষিকীতে নয়াদিল্লি থেকে ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেন শেখ হাসিনা। ওই ঘটনাও দুই দেশের সম্পর্কে নতুন করে চাপ তৈরি করে। বাংলাদেশের বিদেশ মন্ত্রক জানিয়েছিল, ওই ভার্চুয়াল বক্তব্যের পর তারেক রহমানের ভারত সফরের পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ভারত অবশ্য জানিয়েছিল, ওই অনুষ্ঠানে তাদের কোনও ভূমিকা ছিল না এবং বাংলাদেশের সরকার সম্পর্কে সেখানে যা বলা হয়েছিল, তার কোনও অংশকেই তারা সমর্থন করে না।

এই পরিস্থিতিতে শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ নিয়ে ভারতের আইনি প্রক্রিয়া কত দ্রুত এগোয়, সেটিই এখন দুই দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। তবে আপাতত তাঁর প্রত্যাবর্তনের কোনও নির্দিষ্ট সময়সীমা নেই বলেই স্পষ্ট করেছেন ভারতের হাইকমিশনার।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *