Nike Apex রেসিং শু লঞ্চ, ডাবল এয়ার জুমের সঙ্গে কার্বন ফাইবার ফ্লাইপ্লেট
ম্যারাথন দৌড়বিদদের কথা মাথায় রেখে নতুন রেসিং শু নাইক অ্যাপেক্স উন্মোচন করল নাইক। ভারত-সহ বিশ্বের একাধিক বাজারে বৃহস্পতিবার নতুন এই রেসিং শু প্রকাশ্যে আনা হয়েছে।…
ম্যারাথন দৌড়বিদদের কথা মাথায় রেখে নতুন রেসিং শু নাইক অ্যাপেক্স উন্মোচন করল নাইক। ভারত-সহ বিশ্বের একাধিক বাজারে বৃহস্পতিবার নতুন এই রেসিং শু প্রকাশ্যে আনা হয়েছে। সংস্থার দাবি, অ্যাপেক্সে নাইকের পরিচিত এয়ার জুম প্রযুক্তির সঙ্গে নতুন জুমএক্স এলটি ফোম ব্যবহার করা হয়েছে। পাশাপাশি রয়েছে নতুন করে ডিজাইন করা কার্বন-ফাইবার ফ্লাইপ্লেট এবং ফ্লাইকনিট এক্স আপার।
নাইক জানিয়েছে, পুরুষদের ১০ নম্বর সাইজে অ্যাপেক্স সর্বোচ্চ ৪০ শতাংশ বেশি এনার্জি রিটার্ন দিতে পারে আলফাফ্লাই ৩-এর তুলনায়। একই সঙ্গে নতুন জুতাটি আলফাফ্লাই ৩-এর তুলনায় ১০ শতাংশেরও বেশি হালকা। ম্যারাথনের জন্য তৈরি এই জুতায় রয়েছে জিরো-ড্রপ প্ল্যাটফর্ম এবং হিল ও ফোরফুট, দুই জায়গাতেই ৪০ মিমি স্ট্যাক হাইট।
ডাবল-স্ট্যাকড এয়ার জুম প্রযুক্তি
নাইকের দাবি, অ্যাপেক্স তাদের প্রথম রেসিং শু যেখানে দুটি ডাবল-স্ট্যাকড এয়ার জুম ইউনিট ব্যবহার করা হয়েছে। সংস্থার মতে, নাইকের কোনও রানিং শুতে ফোরফুট অংশে এর আগে এত বেশি পরিমাণ এয়ার ব্যবহার করা হয়নি।
এয়ার জুম প্রযুক্তির সঙ্গে রয়েছে নতুন জুমএক্স এলটি ফোম। নাইকের দাবি, এই ফোম তাদের বর্তমান জুমএক্স ফোমের তুলনায় আরও হালকা এবং নরম। দীর্ঘ দূরত্বের দৌড়ে প্রতিটি পদক্ষেপে শক্তি ফেরত দেওয়ার পাশাপাশি আরাম বজায় রাখার লক্ষ্যেই এই কম্বিনেশন তৈরি করা হয়েছে।
কার্বন-ফাইবার ফ্লাইপ্লেটের নতুন ডিজাইন
অ্যাপেক্সের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হল নতুন করে তৈরি কার্বন-ফাইবার ফ্লাইপ্লেট। এতে রেইজড ইনভার্স-ওয়েভ কনস্ট্রাকশন ব্যবহার করা হয়েছে। নাইকের দাবি, এই ডিজাইন দৌড়ের সময় সামনে এগিয়ে যাওয়ার ড্রাইভ এবং স্থিতিশীলতা বাড়াতে সাহায্য করবে।জুতার প্ল্যাটফর্মে তুলনামূলক চওড়া আউটসোল দেওয়া হয়েছে। এর সঙ্গে রয়েছে রকার-শেপড জিওমেট্রি, যা দৌড়ানোর সময় পায়ের মুভমেন্টকে আরও স্বাভাবিক এবং দ্রুত করার উদ্দেশ্যে তৈরি।
ফ্লাইকনিট এক্স আপার ও হালকা নির্মাণ
নাইক অ্যাপেক্সে ব্যবহার করা হয়েছে হালকা ফ্লাইকনিট এক্স আপার। এতে নিটেড কলার এবং সক-লাইনারবিহীন নির্মাণ রয়েছে। ফলে জুতার সামগ্রিক ওজন কম রাখার চেষ্টা করা হয়েছে। পায়ের নিচের অংশে রয়েছে গোয়াটেক এবং ফাস্ট শট আউটসোল। নাইকের দাবি, এই নির্মাণ রেসের সময় প্রয়োজনের অতিরিক্ত ওজন কমাতে সাহায্য করে। অ্যাপেক্সের আপার অংশে ফ্লাইকনিট এক্স ফ্যাব্রিক ব্যবহার করা হয়েছে। দীর্ঘ সময় দৌড়ের সময় পায়ের সঙ্গে জুতার ফিট এবং আরামের দিকেও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
হিল ও ফোরফুটে ৪০ মিমি স্ট্যাক হাইট
নাইক অ্যাপেক্সে হিল এবং ফোরফুট, দুই জায়গাতেই ৪০ মিমি স্ট্যাক হাইট রয়েছে। অর্থাৎ এটি জিরো-ড্রপ প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে। সংস্থার দাবি, এই সেটআপ ম্যারাথনের মতো দীর্ঘ দূরত্বে দৌড়বিদদের জন্য ভারসাম্যপূর্ণ রাইড দিতে সাহায্য করবে। নাইক জানিয়েছে, অ্যাপেক্সের ডিজাইন এবং উৎপাদনের ক্ষেত্রে অ্যাথলিটদের মতামত ও গবেষণাকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এই কাজের সঙ্গে নাইক স্পোর্ট রিসার্চ ল্যাবের গবেষণাও যুক্ত ছিল।
আলফাফ্লাই ৩-এর তুলনায় বেশি এনার্জি রিটার্নের দাবি
পারফরম্যান্সের ক্ষেত্রে নাইকের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য দাবি হল, পুরুষদের ১০ নম্বর সাইজে অ্যাপেক্স আলফাফ্লাই ৩-এর তুলনায় সর্বোচ্চ ৪০ শতাংশ বেশি এনার্জি রিটার্ন দিতে পারে। একই পরীক্ষায় নতুন জুতাটি আলফাফ্লাই ৩-এর তুলনায় ১০ শতাংশেরও বেশি হালকা বলেও দাবি করেছে সংস্থা। তবে এই পরিসংখ্যান নাইকের নিজস্ব পরীক্ষার দাবির ভিত্তিতে দেওয়া হয়েছে। বাস্তবে কোনও দৌড়বিদের পারফরম্যান্সে জুতাটির প্রভাব ব্যক্তিভেদে আলাদা হতে পারে।
দাম এখনও ঘোষণা করেনি নাইক
ভারত-সহ বিভিন্ন বাজারে উন্মোচন করা হলেও নাইক অ্যাপেক্সের দাম এখনও প্রকাশ করা হয়নি। সংস্থার ঘোষণা অনুযায়ী, ২০২৭ সালের জানুয়ারি থেকে নাইকের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট এবং বাছাই করা রিটেল স্টোরের মাধ্যমে জুতাটি পাওয়া যাবে।
ম্যারাথন এবং লং-ডিস্ট্যান্স রেসিং শু বিভাগে অ্যাপেক্স নাইকের নতুন প্রযুক্তির গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন হতে চলেছে। ডাবল-স্ট্যাকড এয়ার জুম, জুমএক্স এলটি ফোম এবং কার্বন-ফাইবার ফ্লাইপ্লেটের সমন্বয়ই নতুন এই রেসিং শুর সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য।
Get your daily dose of tech news and insight. Follow us on X, Facebook, WhatsApp and Google News for instant updates. Catch all the action on our YouTube channel.