Maruti Brezza-র বুকিং ১ লাখের পথে, Turbo ইঞ্জিনে প্রায় ৩৮% চাহিদা
মারুতি সুজুকির নতুন ব্রেজা ইতিমধ্যেই বাজারে ব্যাপক বুকিং পেয়েছে। সংস্থার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, নতুন প্রজন্মের ব্রেজার বুকিং প্রায় ৯৫,০০০-এর কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছে। আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই বুকিং সংখ্যা ১ লাখের গণ্ডি পেরিয়ে যাবে বলে আশা করছে সংস্থা। তবে শুধু বুকিংয়ের সংখ্যাই নয়, ব্রেজার কোন ইঞ্জিনের দিকে ক্রেতাদের আগ্রহ বেশি, সেই তথ্যও বেশ তাৎপর্যপূর্ণ।
মারুতি সুজুকির মার্কেটিং ও সেলস বিভাগের সিনিয়র এক্সিকিউটিভ অফিসার পার্থ বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছেন, বর্তমানে মোট বুকিংয়ের প্রায় ৪০ শতাংশ সিএনজি, ৩৮ শতাংশ ১.০-লিটার টার্বো-পেট্রোল এবং বাকি ২২ শতাংশ ১.৫-লিটার ন্যাচারালি অ্যাসপিরেটেড পেট্রোল মডেলের জন্য এসেছে। অর্থাৎ নতুন টার্বো ইঞ্জিন খুব দ্রুত ব্রেজার বুকিংয়ের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে।
৯৫,০০০ বুকিং, ১ লাখের পথে ব্রেজা
নতুন ব্রেজার জন্য বর্তমানে প্রায় ৯৫,০০০ বুকিং জমা পড়েছে। মারুতি সুজুকির আশা, খুব শিগগিরই এই সংখ্যা ১ লাখ ছাড়িয়ে যাবে। চাহিদা এতটাই বেশি যে বর্তমানে সংস্থার মূল চ্যালেঞ্জ ক্রেতা পাওয়া নয়, বরং সেই চাহিদা অনুযায়ী দ্রুত গাড়ি তৈরি করে ডেলিভারি দেওয়া। গত মাসে প্রায় ১৫,০০০টি ব্রেজা ডেলিভারি করেছে মারুতি। উৎসবের মরসুম সামনে থাকায় উৎপাদন আরও বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে সংস্থার।
প্রায় ১০ জনে ৪ জন ক্রেতা টার্বো ব্রেজা বেছে নিচ্ছেন
নতুন ব্রেজার সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তনগুলির মধ্যে অন্যতম হল ১.০-লিটার টার্বো-পেট্রোল ইঞ্জিন। বুকিংয়ের প্রায় ৩৮ শতাংশ এই ইঞ্জিনের জন্য আসায় বোঝা যাচ্ছে, নতুন পাওয়ারট্রেনটি ক্রেতাদের মধ্যে যথেষ্ট আগ্রহ তৈরি করেছে। মারুতি সুজুকি টার্বো ইঞ্জিনটিকে বিশেষ করে তরুণ এবং পারফরম্যান্স-কেন্দ্রিক ক্রেতাদের কথা মাথায় রেখে বাজারে এনেছে। লঞ্চের সময় সংস্থা এই সংস্করণের ড্রাইভিং চরিত্রকে ‘স্পন্টেনিয়াস প্লে’ ধারণার সঙ্গে যুক্ত করেছিল।
পার্থ বন্দ্যোপাধ্যায়ের বক্তব্য অনুযায়ী, যেসব ক্রেতা ব্রেজা টার্বোর টেস্ট ড্রাইভ করছেন, তাঁদের মধ্যে গাড়িটির ড্রাইভিং অভিজ্ঞতা নিয়ে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যাচ্ছে। যদিও নির্দিষ্ট বয়সভিত্তিক ক্রেতার পরিসংখ্যান সংস্থা প্রকাশ করেনি।
সিএনজি এখনও সবচেয়ে বেশি জনপ্রিয়
টার্বো-পেট্রোলের চাহিদা দ্রুত বাড়লেও বুকিংয়ের হিসাবে এখনও সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছে সিএনজি সংস্করণ। ব্রেজার মোট বুকিংয়ের প্রায় ৪০ শতাংশ সিএনজি মডেলের জন্য এসেছে। অন্যদিকে ৩৮ শতাংশ বুকিং টার্বো-পেট্রোল এবং ২২ শতাংশ বুকিং ১.৫-লিটার ন্যাচারালি অ্যাসপিরেটেড পেট্রোলের জন্য।
এর ফলে ব্রেজার তিনটি পাওয়ারট্রেন ক্রেতাদের জন্য আলাদা ধরনের সুবিধা দিচ্ছে। সিএনজি মূলত কম রানিং কস্টকে গুরুত্ব দেওয়া ক্রেতাদের জন্য, টার্বো-পেট্রোল বেশি পারফরম্যান্স চান এমন ক্রেতাদের জন্য এবং ১.৫-লিটার পেট্রোল প্রচলিত পেট্রোল ইঞ্জিনের সঙ্গে ম্যানুয়াল ও অটোমেটিক, দুই ধরনের গিয়ারবক্সের বিকল্প দিচ্ছে।
ব্রেজা এস-সিএনজিতে আন্ডারবডি সিএনজি ট্যাঙ্ক ব্যবহার করা হয়েছে। ফলে বুট স্পেস ব্যবহারযোগ্য রাখার চেষ্টা করা হয়েছে। সংস্থার দাবি অনুযায়ী, সিএনজি সংস্করণ ২৬.৯ কিমি/কেজি মাইলেজ দিতে পারে। অন্যদিকে নতুন ৬-স্পিড ম্যানুয়াল গিয়ারবক্সের সঙ্গে ১.৫-লিটার পেট্রোল সংস্করণের দাবি করা মাইলেজ ২১.০৯ কিমি/লিটার।
বড় পেট্রোল ইঞ্জিনের তুলনায় টার্বো সস্তা
ব্রেজা টার্বোর চাহিদার পিছনে শুধু পারফরম্যান্স নয়, দামও গুরুত্বপূর্ণ কারণ হতে পারে। একই ধরনের ভ্যারিয়েন্টের তুলনায় ১.০-লিটার টার্বো-পেট্রোল সংস্করণের দাম ১.৫-লিটার ন্যাচারালি অ্যাসপিরেটেড পেট্রোলের তুলনায় কম।
কিছু সমতুল্য ভ্যারিয়েন্টে দামের পার্থক্য প্রায় ৯০,০০০ টাকা পর্যন্ত হতে পারে। ১.০-লিটার ইঞ্জিন হওয়ায় টার্বো সংস্করণটি তুলনামূলক কম জিএসটি স্তরের মধ্যে পড়ে, যেখানে ১.৫-লিটার পেট্রোল ইঞ্জিনে বেশি হারে জিএসটি প্রযোজ্য।
পারফরম্যান্সের ক্ষেত্রেও টার্বো ইঞ্জিন এগিয়ে। ১.০-লিটার টার্বো-পেট্রোল ইঞ্জিন প্রায় ১১০ বিএইচপি শক্তি এবং ১৭০ এনএম টর্ক উৎপন্ন করে। অন্যদিকে ১.৫-লিটার ন্যাচারালি অ্যাসপিরেটেড পেট্রোল ইঞ্জিন দেয় প্রায় ১০১ বিএইচপি শক্তি এবং ১৩৯ এনএম টর্ক।
টার্বো ইঞ্জিনের সঙ্গে ৬-স্পিড ম্যানুয়াল গিয়ারবক্স রয়েছে। ১.৫-লিটার পেট্রোল ইঞ্জিনটি ম্যানুয়াল এবং অটোমেটিক, দুই ধরনের ট্রান্সমিশনের সঙ্গেই পাওয়া যায়।
খরখোদা কারখানায় উৎপাদন বাড়াচ্ছে মারুতি
ব্রেজার বিপুল বুকিংয়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে উৎপাদন বাড়ানো এখন মারুতি সুজুকির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য। গত মাসে সংস্থাটি প্রায় ১৫,০০০টি ব্রেজা তৈরি ও ডেলিভারি করেছে। হরিয়ানার খরখোদা কারখানায় নতুন লাইনে ব্রেজার উৎপাদন বাড়ানো হচ্ছে। মারুতি জানিয়েছে, উৎসবের মরসুমে উৎপাদন আরও বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে।
কারণ প্রায় ৯৫,০০০ বুকিং ইতিমধ্যেই জমা পড়ায় নতুন অর্ডার নেওয়ার পাশাপাশি পুরনো অর্ডারের ডেলিভারি দ্রুত সম্পন্ন করাও সংস্থার জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
ব্রেজার বুকিংয়ে বদলেছে পাওয়ারট্রেনের সমীকরণ
বর্তমান বুকিংয়ের পরিসংখ্যান থেকে দেখা যাচ্ছে, ব্রেজার ক্রেতাদের মধ্যে সিএনজি এখনও সবচেয়ে জনপ্রিয় হলেও টার্বো-পেট্রোল খুব দ্রুত গুরুত্বপূর্ণ জায়গা করে নিয়েছে। প্রায় প্রতি ১০টি বুকিংয়ের মধ্যে চারটি টার্বো সংস্করণের জন্য আসছে।
১.৫-লিটার ন্যাচারালি অ্যাসপিরেটেড পেট্রোলের অংশ ২২ শতাংশ হলেও অটোমেটিক গিয়ারবক্সের বিকল্প থাকায় এই ইঞ্জিনের আলাদা ক্রেতা রয়েছে। প্রায় ১ লাখ বুকিংয়ের কাছাকাছি পৌঁছে নতুন ব্রেজার চাহিদা এখন মারুতি সুজুকির সামনে নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। উৎসবের মরসুমে উৎপাদন কতটা দ্রুত বাড়ানো যায় এবং সেই অনুযায়ী অপেক্ষার সময় কতটা কমানো সম্ভব হয়, এখন সেটাই নজরে থাকবে।
Essential Business Intelligence, Sharp Market Insights, Practical Personal Finance Advice, Daily Fuel, Gold and Silver Prices and Latest Stories – On Kolkata24x7 Business.