Mamata Banerjee: উঠে এল কেরলের উদাহরণ, শেষে বাম নেতাদেরই প্রস্তাবে সাড়া মমতার | INDIA Bloc Meeting: Mamata Signals Flexible Stand on Congress PM Face, Pushes Wider Opposition Unity - 24 Ghanta Bangla News
Home

Mamata Banerjee: উঠে এল কেরলের উদাহরণ, শেষে বাম নেতাদেরই প্রস্তাবে সাড়া মমতার | INDIA Bloc Meeting: Mamata Signals Flexible Stand on Congress PM Face, Pushes Wider Opposition Unity

Spread the love

নয়াদিল্লি: ইন্ডিয়া (INDIA) জোটের সাম্প্রতিক বৈঠকে এক তাৎপর্যপূর্ণ রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট তৈরি হলো। বৈঠকে বাম নেতাদের প্রস্তাবে ইতিবাচক সাড়া দেওয়ার পাশাপাশি কংগ্রেসের প্রধানমন্ত্রিত্ব নিয়ে নিজের নমনীয় অবস্থান স্পষ্ট করলেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সূত্রের খবর, কনস্টিটিউশন ক্লাবে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে বিজেপি বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলির পাশাপাশি সিভিল সোসাইটি ও বুদ্ধিজীবীদেরও একজোট করার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।

বাম প্রস্তাব সমর্থন ও মমতার উদ্যোগ

বৈঠকে সিপিআই(এম) নেতা এম এ বেবি প্রস্তাব দেন, বিজেপি বিরোধী সব দল, সিভিল সোসাইটি ও বিশিষ্ট বুদ্ধিজীবীদের একসঙ্গে আনা দরকার। এই প্রস্তাবের সঙ্গে সঙ্গে সমর্থন জানিয়ে মমতা জানান, তিনি ইতিমধ্যেই অ-এনডিএ বিরোধী নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করেছেন এবং গত মঙ্গলবার ওড়িশার প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী নবীন পট্টনায়কের সঙ্গেও কথা বলেছেন। এর পাশাপাশি, নির্বাচন কমিশন অভিযানের বিষয়ে ফরওয়ার্ড ব্লক নেতা জি দেবরাজনের প্রস্তাবকে অত্যন্ত ভালো বলে সমর্থন করেন মমতা এবং রাহুল গান্ধী দুজনেই।

প্রধানমন্ত্রীর পদ নিয়ে ‘ইগো’ নেই

প্রধানমন্ত্রীর পদের দাবিদার কে হবেন—এই প্রশ্নে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ মন্তব্য করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “কংগ্রেসই প্রধানমন্ত্রীর পদ পেতে পারে। এ বিষয়ে আমার কোনো ইগো নেই। তবে যা-ই হোক, সকলের সর্বসম্মত সম্মতি নিয়েই সিদ্ধান্ত নিতে হবে।” এই মন্তব্যের প্রেক্ষিতে কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে স্পষ্ট জানান, কংগ্রেস ক্ষমতার বা প্রধানমন্ত্রীর পদের লড়াই করছে না; তাদের মূল লক্ষ্য দেশ ও গণতন্ত্রকে রক্ষা করা।

রাহুলের বার্তা ও ভোটচুরির অভিযোগ

বৈঠকে বিরোধী ঐক্যের রূপরেখা বোঝাতে গিয়ে কেরলের উদাহরণ টেনে আনেন রাহুল গান্ধী। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, কেরলে কংগ্রেস ও বামেরা পরস্পরের বিরুদ্ধে লড়লেও দিল্লিতে তারা একজোট। জাতীয় রাজনীতির বৃহত্তর দায়বদ্ধতার কথা যেন কোনো রাজনৈতিক দলই ভুলে না যায়, সেই বার্তাই দেন রাহুল।

এদিকে, পশ্চিমবঙ্গে নির্বাচন সংক্রান্ত বিষয় ও SIR প্রক্রিয়া নিয়ে সরব হন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। দক্ষিণ কলকাতায় অগ্নিকাণ্ডে ইভিএম পুড়ে যাওয়ার প্রসঙ্গ টেনে মমতা দাবি করেন, এই প্রক্রিয়ায় তিনি নিজে ‘বিগেস্ট সাফারার’ বা সবচেয়ে বড় ভুক্তভোগী। মমতার ভোটচুরির অভিযোগ সমর্থন করেন বিহারের বিরোধী নেতা তেজস্বী যাদব। অন্যদিকে, রাহুল গান্ধী মমতার বক্তব্য সমর্থন করে বলেন, “বিরোধী দলগুলি সাফারার ঠিকই, তবে এই পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বেশি ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষ।”

তৃণমূল ভাঙন ও অন্যান্য বিরোধী নেতাদের অবস্থান তৃণমূলের অভ্যন্তরে ভাঙন সৃষ্টির চেষ্টার অভিযোগ তুলে শিবসেনা (উদ্ধব গোষ্ঠী) নেতা উদ্ধব ঠাকরে বলেন, “আমার পার্টির সঙ্গে যেভাবে ছক কষে দল ভাঙা হয়েছিল, এখন তৃণমূলের সঙ্গেও ঠিক সেটাই করা হচ্ছে।” পশ্চিমবঙ্গের সার্বিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে প্রায় চার মিনিট বক্তব্য রাখেন ওমর আব্দুল্লা। পুরো বিষয়টি পর্যালোচনা করে সমাজবাদী পার্টির নেতা হরেন্দ্র মালিক বলেন, বিরোধী ঐক্যকে আরও সুসংহত ও শক্তিশালী করতে এবার কংগ্রেসকেই মূল দায়িত্ব নিতে হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *