Aprilia Tuono 457 বনাম Continental GT 650, কোন বাইক আপনার জন্য?
প্রিমিয়াম মোটরসাইকেলের বাজারে একই দামের কাছাকাছি থাকা দুটি বাইক অনেক সময় সম্পূর্ণ আলাদা অভিজ্ঞতা দেয়। এপ্রিলিয়া তুওনো ৪৫৭ স্পেশাল এডিশন এবং রয়্যাল এনফিল্ড কন্টিনেন্টাল জিটি ৬৫০ তারই উদাহরণ। একটি আধুনিক ইতালিয়ান স্ট্রিটফাইটার, অন্যটি ব্রিটিশ ক্যাফে রেসার ঘরানার নকশায় তৈরি। দু’টির ইঞ্জিন, ডিজাইন, প্রযুক্তি এবং রাইডিং চরিত্রে রয়েছে যথেষ্ট পার্থক্য।
তাই এই দুই বাইকের মধ্যে পছন্দ করা সহজ নয়। একদিকে রয়েছে তুওনো ৪৫৭-এর হালকা ও স্পোর্টি চরিত্র, অন্যদিকে কন্টিনেন্টাল জিটি ৬৫০-এর রেট্রো ডিজাইন এবং টর্ক-সমৃদ্ধ ইঞ্জিন। দাম থেকে শুরু করে পারফরম্যান্স, ফিচার, হ্যান্ডলিং এবং ব্যবহারিকতার দিক থেকে দেখে নেওয়া যাক কোন বাইক কী অফার করে।
দাম ও ভ্যারিয়েন্ট
দিল্লিতে এপ্রিলিয়া তুওনো ৪৫৭ স্পেশাল এডিশনের এক্স-শোরুম দাম ৩.৯৯ লক্ষ টাকা। অন্যদিকে রয়্যাল এনফিল্ড কন্টিনেন্টাল জিটি ৬৫০-এর বিভিন্ন ভ্যারিয়েন্টের দাম শুরু হচ্ছে ৩.৫৩ লক্ষ টাকা থেকে।
কন্টিনেন্টাল জিটি ৬৫০-এর রকার রেড এবং ব্রিটিশ রেসিং গ্রিন ভ্যারিয়েন্টের দাম ৩.৫৩ লক্ষ টাকা। স্লিপস্ট্রিম ব্লু এবং অ্যাপেক্স গ্রে ভ্যারিয়েন্টের দাম ৩.৭৫ লক্ষ টাকা। মিস্টার ক্লিন ভ্যারিয়েন্টের দাম ৩.৮২ লক্ষ টাকা।
অর্থাৎ, শুরুতেই কন্টিনেন্টাল জিটি ৬৫০ তুওনো ৪৫৭ স্পেশাল এডিশনের তুলনায় প্রায় ৪৬,০০০ টাকা সস্তা। তবে কন্টিনেন্টাল জিটি ৬৫০-এর মিস্টার ক্লিন ভ্যারিয়েন্ট বেছে নিলে ব্যবধান কমে প্রায় ১৭,০০০ টাকায় দাঁড়ায়।
রঙের বিকল্পেও রয়্যাল এনফিল্ড এগিয়ে রয়েছে। তুওনো ৪৫৭ স্পেশাল এডিশন পাওয়া যায় মাম্বা ব্ল্যাক এবং পুমা গ্রে রঙে।
ওয়ারেন্টির ক্ষেত্রে এপ্রিলিয়া তুওনো ৪৫৭ স্পেশাল এডিশনে ৪ বছর বা ৪৮,০০০ কিলোমিটারের স্ট্যান্ডার্ড কভার দেয়। কন্টিনেন্টাল জিটি ৬৫০-এ রয়েছে ৩ বছর বা ৪০,০০০ কিলোমিটারের স্ট্যান্ডার্ড ওয়ারেন্টি।
তবে রয়্যাল এনফিল্ডের বাড়তি ওয়ারেন্টি প্রোগ্রাম রয়েছে। অতিরিক্ত খরচে এক বা দুই বছরের এক্সটেনশন নিয়ে কভারেজ সর্বোচ্চ ৫ বছর বা ৬০,০০০ কিলোমিটার পর্যন্ত বাড়ানো যায়। এমনকি স্ট্যান্ডার্ড ওয়ারেন্টি শেষ হওয়ার ১০ দিন বা ৫০০ কিলোমিটার আগে পর্যন্ত এই এক্সটেন্ডেড ওয়ারেন্টি নেওয়া যায়।
রোডসাইড অ্যাসিস্ট্যান্স বা আরএসএ-র ক্ষেত্রেও তুওনো ৪৫৭ এগিয়ে। এতে ২ বছরের কমপ্লিমেন্টারি আরএসএ রয়েছে, যেখানে কন্টিনেন্টাল জিটি ৬৫০-এর সঙ্গে পাওয়া যায় ১ বছরের বিনামূল্যের আরএসএ।
ডিজাইন ও মাপ
দুই বাইকের ডিজাইন দর্শন সম্পূর্ণ আলাদা। কন্টিনেন্টাল জিটি ৬৫০ দেখতে বড় এবং আরও রেট্রো। অন্যদিকে তুওনো ৪৫৭ স্পেশাল এডিশন তুলনামূলক কমপ্যাক্ট হলেও এর নকশায় রয়েছে আগ্রাসী স্ট্রিটফাইটার চরিত্র।
তুওনোর সিট হাইট ৮০০ মিমি এবং কন্টিনেন্টাল জিটি ৬৫০-এর ৮০৪ মিমি। অর্থাৎ দুই বাইকের সিট হাইটের পার্থক্য মাত্র ৪ মিমি।
তবে ওজনে বড় পার্থক্য রয়েছে। তুওনো ৪৫৭-এর কার্ব ওয়েট ১৭৫ কেজি, যেখানে কন্টিনেন্টাল জিটি ৬৫০-এর ওজন ২১৪ কেজি। অর্থাৎ এপ্রিলিয়ার বাইকটি প্রায় ৩৯ কেজি হালকা।
তুওনোর ফুয়েল ট্যাঙ্ক ১৩ লিটার এবং কন্টিনেন্টাল জিটি ৬৫০-এর ১২.৫ লিটার।
তুওনো ৪৫৭-তে রয়েছে ট্রিপল-এলইডি হেডল্যাম্প ক্লাস্টার। দৃশ্যত এটি এপ্রিলিয়ার পুরনো তুওনো ১০০০ আর মডেলের ডিজাইন দর্শনের সঙ্গে সম্পর্কিত। বাইকটির অ্যালুমিনিয়াম ফ্রেমও দৃশ্যমান রাখা হয়েছে।
অন্যদিকে কন্টিনেন্টাল জিটি ৬৫০-এর ডিজাইন সরাসরি ১৯৬০-এর দশকের ব্রিটিশ ক্যাফে রেসার সংস্কৃতিকে তুলে ধরে। স্কাল্পটেড মেটাল ট্যাঙ্ক, ক্লিপ-অন হ্যান্ডেলবার, রিয়ার-সেট ফুটপেগ এবং ওয়্যার-স্পোক চাকা এই বাইকের রেট্রো চরিত্রকে আরও স্পষ্ট করে।
রাইড ও হ্যান্ডলিং
রাইডিং ডায়নামিক্সের ক্ষেত্রে এপ্রিলিয়া তুওনো ৪৫৭ স্পেশাল এডিশন এবং কন্টিনেন্টাল জিটি ৬৫০-এর মধ্যে যথেষ্ট পার্থক্য রয়েছে।
তুওনোতে রয়েছে কাস্ট অ্যালুমিনিয়াম টুইন-স্পার ফ্রেম। সামনে ৪১ মিমি ইউএসডি ফর্ক এবং পিছনে প্রিলোড অ্যাডজাস্টেবল মনোশক দেওয়া হয়েছে। দুই প্রান্তেই সাসপেনশন সেটআপে অ্যাডজাস্টমেন্টের সুবিধা রয়েছে।
কন্টিনেন্টাল জিটি ৬৫০-এ রয়েছে স্টিল টিউবুলার ডাবল-ক্র্যাডল ফ্রেম। সামনে টেলিস্কোপিক ফর্ক এবং পিছনে প্রিলোড অ্যাডজাস্টেবল টুইন গ্যাস-চার্জড শক দেওয়া হয়েছে।
তুওনোর সামনে ১৭ ইঞ্চি কাস্ট অ্যালয় চাকা এবং পিছনে চওড়া ১৫০/৬০-আর১৭ টায়ার রয়েছে। কন্টিনেন্টাল জিটি ৬৫০-এ ১৮ ইঞ্চি চাকা এবং ১৩০/৭০-আর১৮ পিছনের টায়ার রয়েছে।
তুওনোর চওড়া টায়ার এবং হালকা ওজন কর্নারিংয়ের সময় বেশি গ্রিপ ও আত্মবিশ্বাস দিতে পারে। অ্যালুমিনিয়াম ফ্রেম এবং উন্নত সাসপেনশন সেটআপের কারণে বাইকটি দ্রুত দিক পরিবর্তনের জন্যও তৈরি।
অন্যদিকে কন্টিনেন্টাল জিটি ৬৫০-এর বড় চাকা এবং বেশি ওজন সরল রাস্তায় স্থিরতা বাড়াতে সাহায্য করে। দীর্ঘ পথ এবং বিভিন্ন ধরনের রাস্তার জন্য এর সেটআপ তুলনামূলকভাবে আরামদায়ক ও অনুমানযোগ্য রাইডিং অভিজ্ঞতা দেওয়ার দিকে বেশি মনোযোগী।
ব্রেকিংয়েও এপ্রিলিয়া এগিয়ে রয়েছে। তুওনোতে সামনে ৩২০ মিমি ডিস্কের সঙ্গে ৪-পিস্টন রেডিয়াল ক্যালিপার এবং পিছনে ২২০ মিমি ডিস্ক রয়েছে। কন্টিনেন্টাল জিটি ৬৫০-এ সামনে ৩২০ মিমি ডিস্ক ও ২-পিস্টন ফ্লোটিং ক্যালিপার এবং পিছনে ২৪০ মিমি ডিস্ক রয়েছে।
ফিচার ও প্রযুক্তি
প্রযুক্তির দিক থেকে দুই বাইকের মধ্যে ব্যবধান আরও পরিষ্কার।
এপ্রিলিয়া তুওনো ৪৫৭ স্পেশাল এডিশনে রয়েছে ফুল-এলইডি লাইটিং এবং ৫ ইঞ্চির ফুল-কালার টিএফটি ইন্সট্রুমেন্ট ক্লাস্টার। ব্লুটুথ কানেক্টিভিটির পাশাপাশি নেভিগেশন, কল ও এসএমএস অ্যালার্ট, মিডিয়া কন্ট্রোল এবং রাইড ও গাড়ির বিভিন্ন তথ্য দেখা যায়।
কন্টিনেন্টাল জিটি ৬৫০-এ রয়েছে অ্যানালগ ইন্সট্রুমেন্ট ক্লাস্টার, যা বাইকের রেট্রো চরিত্রের সঙ্গে মানানসই। এতে স্মার্টফোন কানেক্টিভিটি নেই।
তুওনোতে রাইড-বাই-ওয়্যার প্রযুক্তির মাধ্যমে ইকো, স্পোর্ট এবং রেন রাইডিং মোড রয়েছে। ট্র্যাকশন কন্ট্রোলের তিনটি স্তর রয়েছে এবং সেটি সম্পূর্ণভাবে বন্ধও করা যায়। পাশাপাশি অপশনাল বাই-ডিরেকশনাল কুইকশিফটার পাওয়া যায়।
দুই বাইকেই ডুয়াল-চ্যানেল এবিএস রয়েছে। তবে তুওনোর এবিএস সিস্টেমে পিছনের চাকার এবিএস ইন্টারভেনশন বন্ধ করার সুবিধা রয়েছে।
কন্টিনেন্টাল জিটি ৬৫০-এ ইউএসবি চার্জিং স্ট্যান্ডার্ড। তুওনো ৪৫৭-তে এই সুবিধা অপশনাল।
ইঞ্জিন ও পারফরম্যান্স
ইঞ্জিনের চরিত্রে দুই বাইক একেবারেই আলাদা।
এপ্রিলিয়া তুওনো ৪৫৭ স্পেশাল এডিশনে রয়েছে ৪৫৭ সিসির ডিওএইচসি প্যারালাল-টুইন ইঞ্জিন। এটি লিকুইড-কুলড এবং ইলেকট্রনিক ফুয়েল ইনজেকশনের পাশাপাশি রাইড-বাই-ওয়্যার প্রযুক্তি ব্যবহার করে।
ইঞ্জিনটি সর্বোচ্চ ৪৭.৬ পিএস শক্তি দেয় ৯,৪০০ আরপিএম-এ এবং ৪৩.৫ এনএম টর্ক উৎপন্ন করে ৬,৭০০ আরপিএম-এ।
অন্যদিকে কন্টিনেন্টাল জিটি ৬৫০-এ রয়েছে বড় ৬৪৮ সিসির ডিওএইচসি প্যারালাল-টুইন ইঞ্জিন। এটি এয়ার/অয়েল-কুলড এবং সর্বোচ্চ ৪৭.৪ পিএস শক্তি ও ৫২.৩ এনএম টর্ক দেয়। সর্বোচ্চ শক্তি পাওয়া যায় ৭,২৫০ আরপিএম-এ, আর সর্বোচ্চ টর্ক আসে ৫,১৫০ আরপিএম-এ।
অর্থাৎ দুই বাইকের সর্বোচ্চ শক্তি প্রায় একই হলেও তাদের ইঞ্জিনের চরিত্র আলাদা। তুওনো ৪৫৭ বেশি আরপিএমে শক্তি দেয় এবং উচ্চ-আরপিএম পারফরম্যান্সের দিকে ঝোঁকে। কন্টিনেন্টাল জিটি ৬৫০ তুলনামূলক কম আরপিএমে বেশি টর্ক দেয়।
দুই বাইকেই ৬-স্পিড গিয়ারবক্স এবং স্লিপার ক্লাচ রয়েছে। তবে তুওনোর গিয়ারিং দ্রুত অ্যাক্সিলারেশনের দিকে বেশি নজর দেয়, যেখানে কন্টিনেন্টাল জিটি ৬৫০ দীর্ঘ গিয়ারে তুলনামূলক স্বচ্ছন্দে এগোতে পারে।
শেষ পর্যন্ত কোন ধরনের রাইডারের জন্য কোন বাইক?
এপ্রিলিয়া তুওনো ৪৫৭ স্পেশাল এডিশন এবং রয়্যাল এনফিল্ড কন্টিনেন্টাল জিটি ৬৫০ একই ধরনের মোটরসাইকেল নয়। তাই পছন্দের ক্ষেত্রে রাইডারের প্রয়োজন এবং পছন্দ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।
তুওনো ৪৫৭-এর মূল আকর্ষণ হল কম ওজন, অ্যালুমিনিয়াম ফ্রেম, উন্নত সাসপেনশন, রেডিয়াল ব্রেক, রাইড-বাই-ওয়্যার এবং আধুনিক ইলেকট্রনিক্স। যারা স্পোর্টি রাইডিং, দ্রুত কর্নারিং এবং আধুনিক প্রযুক্তিকে গুরুত্ব দেন, তাদের জন্য এই বাইকের চরিত্র আলাদা।
অন্যদিকে কন্টিনেন্টাল জিটি ৬৫০-এর মূল আকর্ষণ তার রেট্রো ডিজাইন, ক্যাফে রেসার স্টাইল, বড় টুইন-সিলিন্ডার ইঞ্জিন এবং বেশি টর্ক। ক্লিপ-অন হ্যান্ডেলবার, ওয়্যার-স্পোক চাকা এবং মেটাল ট্যাঙ্ক বাইকটিকে আলাদা ব্যক্তিত্ব দেয়।
দামের ক্ষেত্রেও কন্টিনেন্টাল জিটি ৬৫০-এর প্রবেশমূল্য কম। আবার তুওনো ৪৫৭ স্পেশাল এডিশনের ক্ষেত্রে বেশি দামের বিনিময়ে পাওয়া যাচ্ছে আরও আধুনিক চেসিস, ইলেকট্রনিক্স এবং পারফরম্যান্স-কেন্দ্রিক হার্ডওয়্যার।
আরও যে বাইকগুলির কথা মাথায় রাখা যায়
এই দামের আশেপাশে কেটিএম ৩৯০ ডিউক আর-ও একটি বিকল্প। এতে টুইন-সিলিন্ডার ইঞ্জিন নেই, তবে তুওনোর তুলনায় কম দামে আরও সমৃদ্ধ ইলেকট্রনিক্স প্যাকেজ পাওয়া যায়।
রয়্যাল এনফিল্ড গেরিলা ৪৫০ তুলনামূলকভাবে আরও সাশ্রয়ী এবং বহুমুখী বিকল্প। অন্যদিকে এপ্রিলিয়া তুওনো ৪৫৭ স্পেশাল এডিশন বেশি স্পোর্টি এবং পারফরম্যান্স-কেন্দ্রিক চরিত্র নিয়ে আসে।
শেষ পর্যন্ত কন্টিনেন্টাল জিটি ৬৫০ এবং তুওনো ৪৫৭-এর মধ্যে পছন্দটি মূলত নির্ভর করবে আপনি রেট্রো ক্যাফে রেসার অভিজ্ঞতা চান, নাকি আধুনিক স্ট্রিটফাইটারের স্পোর্টি রাইডিং চরিত্রকে বেশি গুরুত্ব দেন।
Essential Business Intelligence, Sharp Market Insights, Practical Personal Finance Advice, Daily Fuel, Gold and Silver Prices and Latest Stories – On Kolkata24x7 Business.