ব্রেন স্ট্রোক হওয়ায় স্বামী ভর্তি নার্সিংহোমে, আত্মহত্যার চেষ্টা মা-সন্তানের
এই সময়, শিলিগুড়ি: স্বামী অসুস্থ। ভর্তি নার্সিংহোমে। ১৬ বছরের একমাত্র ছেলে অনুভবও মানসিক ভাবে অসুস্থ। ৩৮ বছরের নিবেদিতা বোস নিজেও বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত। চিকিৎসার খরচ দূরের কথা, পেটের ভাত জোগাড় করাটা দিন দিন কঠিন হয়ে পড়েছে। এমন পরিস্থিতিতে বৃহস্পতিবার রাতে চরম সিদ্ধান্ত নেন শিলিগুড়ির বাঘাযতীন কলোনির ৭নম্বর রোডের বাসিন্দা নিবেদিতা। আলিপুরদুয়ারে থাকা এক দাদাকে ফোন করে নিজের অবস্থার কথা খুলে বলেন তিনি। তার পরেই ছেলের গলায় ফাঁস দিয়ে নিজেও ফ্যানের সঙ্গে ঝুলে পড়ার চেষ্টা করেন।
সেই দাদার ফোন পেয়ে প্রতিবেশী অনুপ দাস কয়েকজনকে নিয়ে দরজা ভেঙে ঘরে ঢুকে মা-ছেলেকে উদ্ধার করেন। প্রতিবেশীদের তৎপরতায় এ যাত্রায় মা-ছেলে দু’জনেই প্রাণে বেঁচে গিয়েছেন। তবে অনুভবকে শিলিগুড়ি জেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। পুলিশ এই ঘটনায় সুয়োমোটো মামলা করে তদন্ত শুরু করেছে। শুক্রবার দুপুরে জেলা হাসপাতালে গিয়ে শিলিগুড়ি পুলিশের একটি দল নিবেদিতা ও তাঁর প্রতিবেশীদের জিজ্ঞাসাবাদ করে।
নিবেদিতার স্বামী অনিমেষ বোস বেসরকারি ট্যুর অ্যান্ড ট্রাভেলস সংস্থায় চাকরি করতেন। বছরখানেক আগে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে তাঁর চাকরি চলে যায়। এরপর শিলিগুড়ি জংশন এলাকার ফুটপাথে টেবিল পেতে লটারির টিকিট বিক্রি করতে শুরু করেন তিনি। অসুস্থ থাকায় উপার্জন খুব একটা হতো না। ছোট থেকেই মানসিক ভাবে অসুস্থ অনুভব।
তার কাউন্সেলিং করা হলেও আর্থিক অভাবে সেটাও বন্ধ করে দিতে হয়। দু’দিন আগে অনিমেষের ব্রেন স্ট্রোক হয়। তড়িঘড়ি তাঁকে নার্সিংহোমে ভর্তি করা হয়। নিবেদিতা বলেন, ‘কয়েক লক্ষ টাকা খরচ করলে স্বামীকে হয়তো আরও কিছুদিন বাঁচানো সম্ভব। আমার কিছু হয়ে গেলে ছেলের কী হবে। সেই কারণে দু’জনে আত্মহত্যা করতে গিয়েছিলাম।’