ভারতীয় সেনার চার সারমেয়ের দক্ষতা দেখে চক্ষুচড়ক মার্কিন সেনার - 24 Ghanta Bangla News
Home

ভারতীয় সেনার চার সারমেয়ের দক্ষতা দেখে চক্ষুচড়ক মার্কিন সেনার

Spread the love

ভারতীয় সেনার বিশেষ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত সামরিক সারমেয়দের ভূমিকা এবার দেখা গেল ভারত-আমেরিকার যৌথ সামরিক মহড়া যুদ্ধ অভ্যাস ২০২৬-এ (Yudh Abhyas 2026)। ভারতীয় সেনার চার সারমেয় রাইস,…

ভারতীয় সেনার বিশেষ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত সামরিক সারমেয়দের ভূমিকা এবার দেখা গেল ভারত-আমেরিকার যৌথ সামরিক মহড়া যুদ্ধ অভ্যাস ২০২৬-এ (Yudh Abhyas 2026)। ভারতীয় সেনার চার সারমেয় রাইস, ভিক্টর, জ্যাক এবং রাউডি এই মহড়ায় অংশ নিয়ে বিশেষ অভিযান পরিচালনায় প্রশিক্ষিত সামরিক সারমেয়দের দক্ষতা তুলে ধরেছে।

মার্কিন সেনার সঙ্গে পেশাগত অভিজ্ঞতা বিনিময়ের অংশ হিসেবে এই সারমেয়দের নিয়ে বিভিন্ন কৌশলগত অনুশীলন করা হয়। এর মধ্যে ছিল ঘরের ভিতরে হস্তক্ষেপ বা রুম-ইন্টারভেনশন এবং র‍্যাপেলিংয়ের মতো কঠিন অনুশীলন। এই প্রদর্শনের মাধ্যমে মার্কিন সেনার সদস্যরা ভারতীয় সামরিক সারমেয়দের প্রশিক্ষণ, দ্রুততা এবং কঠিন কৌশলগত পরিস্থিতিতে সেনাদের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করার ক্ষমতা কাছ থেকে দেখার সুযোগ পান।

চার সারমেয়ের আলাদা পরিচয়

যুদ্ধ অভ্যাস ২০২৬-এ অংশ নেওয়া চার সারমেয়ের প্রত্যেকেরই আলাদা প্রজাতি এবং বিশেষ প্রশিক্ষণ রয়েছে। ভিক্টর এবং রাউডি হল রামপুর হাউন্ড। এটি ভারতের নিজস্ব একটি প্রজাতি। সামরিক ক্ষেত্রে এই দেশীয় প্রজাতির ব্যবহার ধীরে ধীরে বাড়াচ্ছে ভারতীয় সেনা।

অন্যদিকে জ্যাক হল বেলজিয়ান ম্যালিনয় এবং রাইস হল ল্যাব্রাডর রিট্রিভার। বিভিন্ন ধরনের সামরিক এবং নিরাপত্তা অভিযানে এই দুই প্রজাতির সারমেয় দীর্ঘদিন ধরেই ব্যবহৃত হয়ে আসছে।

Advertisements


   


   

তবে রামপুর হাউন্ডের অন্তর্ভুক্তি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। দেশীয় এই প্রজাতিকে বিভিন্ন পরিবেশে সামরিক কাজের উপযোগী করে প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। তাদের গতি, ঘ্রাণশক্তি এবং বিভিন্ন পরিস্থিতিতে কাজ করার সক্ষমতা সামরিক অভিযানে ব্যবহার করা হচ্ছে।

রামপুর হাউন্ডের রয়েছে বাস্তব অভিযানের অভিজ্ঞতা

ভিক্টর এবং রাউডির মতো রামপুর হাউন্ডদের শুধু প্রশিক্ষণ মহড়াতেই ব্যবহার করা হচ্ছে না। ভারতের উত্তর এবং পূর্ব সীমান্তের বিভিন্ন এলাকায় মোতায়েনের অভিজ্ঞতাও রয়েছে এই সারমেয়দের। এর আগে মেঘালয়ের উমরোইয়ে একটি আন্তর্জাতিক বহুপাক্ষিক সামরিক মহড়ায় রামপুর হাউন্ডরা নিজেদের দক্ষতা প্রদর্শন করেছিল। সেই মহড়ায় বিভিন্ন পরিস্থিতিতে তাদের কাজের সক্ষমতা তুলে ধরা হয়।

এরপর মণিপুর সীমান্ত এলাকাতেও তাদের মোতায়েন করা হয়। সেখানে ইম্প্রোভাইজড এক্সপ্লোসিভ ডিভাইস বা আইইডি শনাক্ত করতে তারা সফল হয়েছিল বলে ভারতীয় সেনার তরফে জানানো হয়েছে।

এই ধরনের কাজে প্রশিক্ষিত সামরিক সারমেয়দের ঘ্রাণশক্তি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মানুষের পক্ষে যে ধরনের বিস্ফোরক বা সন্দেহজনক বস্তু শনাক্ত করা কঠিন, প্রশিক্ষিত সারমেয়রা নির্দিষ্ট গন্ধের ভিত্তিতে সেগুলি খুঁজে বের করতে পারে।

অপারেশন সিঁদুরেও মোতায়েন হয়েছিল তাদের ভাইরা

রামপুর হাউন্ডদের এই পরিবারের সামরিক ব্যবহারের অভিজ্ঞতা এখানেই শেষ নয়। তাদের ভাইদেরও অপারেশন সিঁদুর চলাকালীন জলন্ধর এবং অমৃতসর সেক্টরে মোতায়েন করা হয়েছিল। এর ফলে রামপুর হাউন্ডের এই নির্দিষ্ট সারমেয় লাইন বিভিন্ন ভৌগোলিক পরিবেশ এবং সামরিক পরিস্থিতিতে কাজ করার অভিজ্ঞতা অর্জন করেছে। সীমান্তবর্তী এলাকায় তাদের মোতায়েন এবং অভিযানে ব্যবহারের মাধ্যমে এই দেশীয় প্রজাতির সামরিক উপযোগিতাও সামনে এসেছে।

ভারতীয় সেনার তথ্য অনুযায়ী, বিভিন্ন পরিস্থিতিতে কাজ করার ক্ষমতা, অভিযোজন ক্ষমতা এবং নির্ভরযোগ্যতার কারণে সামরিক সারমেয়দের ভূমিকা ক্রমশ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।

সেনাদের সঙ্গে সারমেয়দের সমন্বয় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ

সামরিক সারমেয়দের দক্ষতা শুধু তাদের নিজস্ব প্রশিক্ষণের উপর নির্ভর করে না। তাদের হ্যান্ডলার বা প্রশিক্ষিত সেনা সদস্যদের সঙ্গে সমন্বয়ও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

যুদ্ধ অভ্যাস ২০২৬-এর মতো যৌথ মহড়ায় সেই সমন্বয়ই সামনে এসেছে। রুম-ইন্টারভেনশন এবং র‍্যাপেলিংয়ের মতো অনুশীলনে সারমেয় এবং তাদের হ্যান্ডলারকে একসঙ্গে কাজ করতে হয়। কঠিন পরিস্থিতিতে নির্দেশ মেনে দ্রুত প্রতিক্রিয়া জানানো এবং সেনাদের সঙ্গে তাল মিলিয়ে এগিয়ে চলার জন্য দীর্ঘমেয়াদি প্রশিক্ষণ প্রয়োজন।

মার্কিন সেনার সদস্যদের সামনে এই অনুশীলন প্রদর্শনের ফলে ভারতীয় সেনার সামরিক সারমেয়দের প্রশিক্ষণ পদ্ধতি এবং বাস্তব অভিযানে তাদের ব্যবহারের বিষয়টিও তুলে ধরা হয়েছে।

দেশীয় প্রজাতির ব্যবহার বাড়ানোর ইঙ্গিত

যুদ্ধ অভ্যাস ২০২৬-এ রামপুর হাউন্ডদের অংশগ্রহণ ভারতীয় সেনার সামরিক সারমেয় ব্যবহারে দেশীয় প্রজাতির গুরুত্বও তুলে ধরেছে। রাইস, জ্যাক, ভিক্টর এবং রাউডির মতো প্রশিক্ষিত সারমেয়রা আলাদা আলাদা প্রজাতির হলেও তাঁদের লক্ষ্য এক, বিশেষ সামরিক পরিস্থিতিতে সেনাদের সহায়তা করা।

বিশেষ করে রামপুর হাউন্ডদের সীমান্ত এলাকায় মোতায়েন, আইইডি শনাক্তকরণ এবং আন্তর্জাতিক সামরিক মহড়ায় অংশগ্রহণ দেখাচ্ছে যে ভারতীয় সেনার সামরিক সারমেয় ব্যবস্থায় দেশীয় প্রজাতির ব্যবহারও ধীরে ধীরে গুরুত্ব পাচ্ছে।

যুদ্ধ অভ্যাস ২০২৬-এ তাঁদের অংশগ্রহণ তাই শুধু একটি প্রশিক্ষণ প্রদর্শন নয়। ভারতীয় সেনার বিশেষ অভিযানে প্রশিক্ষিত সারমেয়দের ক্রমবর্ধমান ভূমিকা এবং সেনা ও সারমেয়দের মধ্যে দীর্ঘ প্রশিক্ষণে তৈরি হওয়া সমন্বয়ও এর মাধ্যমে সামনে এসেছে।

Essential Business Intelligence, Sharp Market Insights, Practical Personal Finance Advice, Daily Fuel, Gold and Silver Prices and Latest Stories — On Kolkata24x7 Business.

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *