৫ মুখ ১০ হাত, বাংলাতেই হয় বিশ্বকর্মার এই বিরল রূপের পুজো, কেন জানেন?
কেন পাঁচটি মুখ বিশ্বকর্মার?
গ্রামবাসীদের বিশ্বাস, বিশ্বকর্মার পাঁচ মুখ পঞ্চশিল্প ও শিল্পীকে বোঝানো হয়েছে। যেমন – লৌহ, কাষ্ঠ, ধাতু, ভাস্কর্য ও স্বর্ণ এই পাঁচ শিল্পের প্রতীক।
শালবেদিয়া গ্রামের কর্মকার সমাজে পূজিত বিশ্বকর্মার দশ হাত। সেই দশ হাতে থাকে বেদ, সুদর্শন চক্র, ত্রিশূল, গদা, শঙ্খ, হাতুড়ি, তুলাদণ্ড, কমণ্ডলু। তাঁর বাহন হংসরাজ। বিশ্বকর্মার দু’পাশে থাকেন, দুই দেবী লক্ষ্মী ও সরস্বতী। কর্মকাররা উপবীত ধারণ করে দেবশিল্পী বিশ্বকর্মার পুজোয় পৌরোহিত্য করেন।
প্রসঙ্গত, উত্তর ও পশ্চিম ভারতে বিশ্বকর্মার বাহন হিসাবে রাজহাঁসের দেখা মেলে। তবে পাঁচ মুখ আর ১০ হাতের দেবশিল্পীর এ রূপ সত্যিই বিরল। কর্ণাটক, তামিলনাড়ু বা দক্ষিণ ভারতের কিছু অংশে এমন পাঁচ মুখ বিশিষ্ট দশ হাতের বিশ্বকর্মা পুজোর চল রয়েছে।
হিন্দু পুরাণ ও বিশ্বকর্মা পুরাণ অনুসারে, দেবশিল্পী বিশ্বকর্মার পাঁচটি মুখ থেকে পাঁচজন মানস পুত্রের সৃষ্টি হয়েছিল, যাঁরা ‘পঞ্চ ব্রহ্ম’ বা ‘পঞ্চ শিল্পী’ নামে পরিচিত। এই পাঁচ পুত্রের হাত ধরেই মহাবিশ্বের পদ্ধতিগত ৫টি আদি শিল্পের (পঞ্চ শিল্প) উৎপত্তি ঘটে। মনু (কামার বা কর্মকার), ময় (ছুতোর বা সূত্রধর), ত্বষ্টা (কাঁসারী বা ধাতুরূপকার), শিল্পী (ভাস্কর বা রাজমিস্ত্রী), বিশ্বজ্ঞ (স্বর্ণকার বা স্যাকরা)।