সূর্যের তেজ কমান বিশ্বকর্মা, তৈরি করেন মহাদেবের ত্রিশূল, সুদর্শন চক্র, পুষ্পক রথ
সূর্যের তেজ প্রশমন
সূর্যদেব সম্মত হলে বিশ্বকর্মা এক আশ্চর্য কাজ করেন। তিনি এক ভ্রমি যন্ত্র নামে এক বিশেষ যন্ত্র নির্মাণ করেন। এই যন্ত্রের উপর বিশ্বকর্মাকে স্থাপন করে তাঁর অতিরিক্ত তেজ তিনি ছেদন করতে থাকেন। কিন্তু সূর্যের এই অতিরিক্ত তেজ তিনি নষ্ট হতে দিলেন না। বরং সেই তেজ রশ্মি দিয়েই তৈরি হলো একের পরে দিব্যাস্ত্র। তেজ কমে যাওয়ার পর সূর্যদেবের দীপ্তি হয়ে উঠল সহনীয়। সংজ্ঞাও আবার তাঁর কাছে ফিরে যেতে পারলেন।
পুরাণের বর্ণনা অনুযায়ী সেই তেজ থেকে তৈরি হয়— বিষ্ণুর সুদর্শন চক্র, মহাদেবের ত্রিশূল, কার্তিকেয়র শক্তি, কুবেরের পুষ্পক বিমান এবং অন্যান্য দিব্য উপকরণ। অর্থাৎ সূর্যের অতিরিক্ত তেজ ধ্বংস হয়নি, রূপান্তরিত হয়েছিল দেবশক্তিতে।
কী শিক্ষা মেলে?
পুরাণের এই কাহিনির মধ্যে যেন একটি গভীর শিক্ষা রয়েছে। তা হলো, অতিরিক্ত শক্তি যখন অসহনীয় হয়ে ওঠে, তখন তা ধ্বংস না করেও সঠিক নিয়ন্ত্রণ ও প্রয়োগের মাধ্যমে সেই শক্তিকেই কল্যাণের কাজে ব্যবহার করা যায়। আর তাই বিশ্বকর্মা শুধু দেবতাদের স্থপতি নন। তিনি শক্তিকে নতুন রূপ দেওয়ার দৈবী কারিগর।