কলকাতায় একসঙ্গে পারফর্ম করতে চলেছেন জেমি-জনি - 24 Ghanta Bangla News
Home

কলকাতায় একসঙ্গে পারফর্ম করতে চলেছেন জেমি-জনি

Spread the love

অন‍্য সময় প্রাইম: একই মঞ্চে বাবার সঙ্গে পারফর্ম করা, শিল্পী হিসেবে এই অভিজ্ঞতাটা কেমন?

জেমি: বাবার সঙ্গে পারফর্ম করলে সব সময়েই খুব নার্ভাস লাগে। দর্শকদের কাছে হয়তো বিষয়টা খুব মজার, উপভোগ্য। আমার কাছে বেশ ভয়ের। মঞ্চে আমাদের দেখে মনে হয় আমরা দারুণ সময় কাটাচ্ছি। কিন্তু আমার কাছে বাবা সব সময়েই একজন টিচার।

আমি ১২ বছর ধরে এই ইন্ডাস্ট্রিতে কাজ করছি। তবুও মঞ্চে বাবাকে দেখলে নিজেকে সেই ১২ বছরের কিশোরীর মতোই মনে হয়। কারণ উনি প্রায় ৫০ বছর ধরে মঞ্চে আছেন। নিজের শিল্পে বাবার কোনও তুলনা নেই। তাই ওঁর সামনে দাঁড়ালে এখনও ভয় করে।

অন‍্য সময় প্রাইম: জনি লিভার কি ভীষণ পারফেকশনিস্ট? নাকি দর্শকদের সাইকোলজি বেশি ভালো বোঝেন?

জেমি: দুটোই। বাবা ভীষণ পারফেকশনিস্ট। মানুষকে কী ভাবে হাসাতে হয়, দর্শককে কী ভাবে বুঝতে হয়, কখন কোন জোক বলতে হয়—সবটাই ওঁর জানা। দর্শকদের সঙ্গে ওঁর অসাধারণ টিউনিং। আমি ব্যাকস্টেজে দাঁড়িয়ে ওঁকে দেখতেই থাকি। আমার এন্ট্রির আগে, এন্ট্রির পরেও দেখি। অবাক হয়ে ভাবি, কী ভাবে বাবা এত সহজে দর্শকদের নিজের সঙ্গে কানেক্ট করে ফেলেন! সত্যিই এটা ম্যাজিকের মতো। তাই তো বাবাকে মঞ্চে কোনও ভাবেই ম্যাচ করা সম্ভব নয়। আমি শুধু চেষ্টা করি, যে মঞ্চে বাবা পারফর্ম করছেন, সেখানে যেন আমাকেও যোগ্য মনে হয়। খুব পরিশ্রম করি। হোমওয়ার্ক করি, রিহার্সাল করি। নতুন জোক নিয়ে বন্ধুদের সঙ্গে আলোচনা করি। নিজের মেটেরিয়াল বারবার দেখি। শুধু চেষ্টা করি, মঞ্চে যেন অন্তত ভালো করতে পারি।

অন‍্য সময় প্রাইম: মঞ্চে বাবা আর বাড়িতে বাবা, এই দুই মানুষকে কি আলাদা মনে হয়?

জেমি: একেবারেই। আমার মনে হয় বাবা যেন দু’জন আলাদা মানুষ। মঞ্চে বা পর্দায় উনি একেবারে অন্য রকম। আলো জ্বলে উঠলেই উনি পুরো জায়গাটা দখল করে নেন। কিন্তু বাড়িতে উনি খুব প্রোটেক্টিভ এবং ডিসিপ্লিনড। এই দিকটা হয়তো দর্শকরা জানেন না। বাবা দারুণ ভাবে ভালোবাসতে জানেন। নিজের মানুষদের ব্যাপারে খুবই যত্নশীল। জীবনযাপনেও খুব নিয়ম মেনে চলেন।

মঞ্চে ওঁকে এ ভাবে বদলে যেতে দেখে সত্যিই অবাক হয়ে যাই। একজন অভিনেতা কী ভাবে মুহূর্তের মধ্যে নিজেকে বদলে ফেলতে পারেন, সেটা বাবাকে দেখেই বুঝেছি। ছোটবেলায় বাবাকে মঞ্চে দেখলে আমার মনে হতো, ওয়াও, এটাই আমার বাবা! কী ভীষণ মজার মানুষ! বিশেষ করে আমার টিনএজে বাড়িতে বাবাকে খুব কমই দেখতে পেতাম। তাই মঞ্চে বা পর্দায় ওঁকে দেখলে আরও বেশি অবাক হতাম। মনে হতো, সত্যিই কি একই মানুষ? বাবা প্রতিদিন সকালে উঠে এক্সারসাইজ় করেন। খুব স্বাস্থ্যকর খাবার খান। প্রায় প্রতিদিন একই ধরনের খাবার খান। খাওয়াদাওয়া নিয়ে উনি খুবই সচেতন। ঘুম এবং বিশ্রামের ক্ষেত্রেও খুব নিয়ম মেনে চলেন। আর সবথেকে বড় বিষয়, বাবা অসম্ভব বিনয়ী। সবাইকে খুব খোলা মনে স্বাগত জানান। অনেকেই জানেন না, ইন্ডাস্ট্রির অনেক মানুষকেও উনি নিজের সাধ্যের বাইরে গিয়ে সাহায্য করেছেন। বিপদে অনেকের পাশে দাঁড়িয়েছেন। ওঁর কাছ থেকে পেশাগত ভাবে যেমন শিখছি, তেমনই একজন মানুষ হিসেবেও অনেক কিছু শিখছি। বাবার বিনয়, শৃঙ্খলা এবং বড় মনের মানুষ হওয়ার মতো গুণগুলো আমার কাছে খুব গুরুত্বপূর্ণ।

অন‍্য সময় প্রাইম: বাবার কাছ থেকে কমেডির সবচেয়ে বড় পাঠটা কী পেয়েছেন?

জেমি: আমার কাছে সবচেয়ে বড় শিক্ষা হলো টাইমিং। বাবা ভীষণ সময়নিষ্ঠ। কোথাও যেতে হলে ঠিক সময়ে পৌঁছনোর চেষ্টা করেন। আমি বুঝেছি, জীবনে সময়ের গুরুত্ব কতটা। আর কমেডির ক্ষেত্রে টাইমিং খুব গুরুত্বপূর্ণ। পাঞ্চলাইন ঠিক সময়ে আসতে হবে। জোক টেনে নিয়ে যাওয়া যাবে না। কোথায় থামতে হবে, কোথায় জোর দিতে হবে, সবটাই টাইমিং এবং রিদমের ব্যাপার। আর শিখেছি সব সময়ে ছাত্র হয়ে থাকার মানসিকতা কতটা প্রয়োজনীয়। কারণ, ৭০ বছর বয়সে বাবা এখনও শেখেন। চারপাশের মানুষের কাছ থেকে শেখেন। নিজেকে আরও উন্নত করার চেষ্টা করেন। এটা আমার কাছে সত্যিই অনুপ্রেরণার।

অন‍্য সময় প্রাইম: ব্যক্তিগত ভাবে কোন সহ-অভিনেতার সঙ্গে কাজ বা মজা করতে সবচেয়ে বেশি ভালো লাগে?

জেমি: ব্যক্তিগত ভাবে ফারাহ (খান) ম্যামের সঙ্গে আমার খুব ভালো বন্ডিং হয়েছে। উনি সব সময়ে আমাকে উৎসাহ দেন। মজা করতে বলেন। মন খারাপ করে থাকতে দেন না। আমি এমন মানুষদের পছন্দ করি, যাঁরা হিউমার বোঝেন এবং নিজেরাও মজার মানুষ। তাই ফারাহ ম্যামকে নকল করতে খুব মজা লাগে।

অন‍্য সময় প্রাইম: কমেডিয়ান হিসেবে আপনার পরিচিতি তৈরি হয়েছে। এ বার কি অভিনয়ে আরও বেশি জোর দিতে চান?

জেমি: অবশ্যই। আমি সিনেমায় অভিনয় করছি। এখনও পর্যন্ত ছয়-সাতটি ছবিতে কাজ করেছি। কোথাও ছোট চরিত্রে, কোথাও একটু বড় চরিত্রে দেখা গিয়েছে আমাকে। একটি ছবি আগামী বছর মুক্তি পাওয়ার কথা। সেটা নিয়ে আমি খুব উত্তেজিত। আর একটি ছবির শুটিং এই বছরের শেষ দিকে করব। সেটাও নিয়ে খুব এক্সাইটেড। ‘মটকা কিং’-এ দর্শকরা আমাকে একেবারে অন্য ভাবে দেখেছেন। সেখানে কোনও কমেডি ছিল না। সিরিজ়টা দেখার পর অনেকেই আমার অভিনয়ের প্রশংসা করেছেন। সিজ়ন ২-তেও আমাকে দেখা যাবে। তাই ‘মটকা কিং’-এর দ্বিতীয় সিজ়ন নিয়েও আমি খুব এক্সাইটেড।

অন‍্য সময় প্রাইম: কলকাতার দর্শকদের সামনে পারফর্ম করার আলাদা কোনও চাপ বা উত্তেজনা থাকে?

জেমি: কলকাতায় এর আগে বাবার সঙ্গে পারফর্ম করেছি। এখানকার মানুষ শিল্প, সংস্কৃতি এবং সৃজনশীলতা বোঝেন। অনেক দিন পর আবার বাবার সঙ্গে কলকাতায় পারফর্ম করছি। তাই নার্ভাস লাগছে, আবার ভীষণ এক্সাইটেডও। কলকাতার জন্য আমরা বিশেষ কিছু শো এবং মিউজ়িক্যাল সেট তৈরি করেছি। বাবাও নতুন কিছু প্রস্তুত করেছেন। কলকাতার মানুষের মধ্যে শিল্পের প্রতি একটা আলাদা ভালোবাসা আছে। তাঁরা শুধু শিল্পীকে দেখেন না। তাঁরা বুঝতে পারেন, একটি পারফরম্যান্সের পিছনে কতটা হোমওয়ার্ক এবং পরিশ্রম থাকে।

অন‍্য সময় প্রাইম: যদি বাবার অভিনীত কোনও একটি চরিত্র নতুন করে করার সুযোগ পান, কোন চরিত্রটি বেছে নেবেন?

জেমি: ‘বাজ়িগর’ আমার প্রিয়। বাবুলাল চরিত্রটি আমার কাছে অসাধারণ। ‘কিস কিস কো প্যায়ার করু’-তে আমি যে চরিত্রটি করেছিলাম, সেটার সঙ্গেও কিছুটা মিল রয়েছে। মজার বিষয় হলো, ‘বাজ়িগর’-এর পরিচালক আব্বাস-মস্তানই সেই ছবির পরিচালক ছিলেন। এ ছাড়া ‘জুদাই’-তেও বাবার চরিত্রটি মজার ছিল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *