BMW i7 Facelift ভারতে লঞ্চ, ১.৯৫ কোটিতে ৭২৮ কিমি রেঞ্জের বিলাসবহুল EV - 24 Ghanta Bangla News
Home

BMW i7 Facelift ভারতে লঞ্চ, ১.৯৫ কোটিতে ৭২৮ কিমি রেঞ্জের বিলাসবহুল EV

Spread the love

ভারতের বাজারে নতুন বিএমডব্লিউ আই৭ (BMW i7) ফেসলিফট লঞ্চ করল জার্মান গাড়ি প্রস্তুতকারক সংস্থা বিএমডব্লিউ। ২০২৬ সালের এই আপডেটেড ইলেকট্রিক বিলাসবহুল সেডানের দাম শুরু হচ্ছে…

ভারতের বাজারে নতুন বিএমডব্লিউ আই৭ (BMW i7) ফেসলিফট লঞ্চ করল জার্মান গাড়ি প্রস্তুতকারক সংস্থা বিএমডব্লিউ। ২০২৬ সালের এই আপডেটেড ইলেকট্রিক বিলাসবহুল সেডানের দাম শুরু হচ্ছে ১.৯৫ কোটি টাকা থেকে। এই দাম ৫০ এক্সড্রাইভ এম স্পোর্ট ভ্যারিয়েন্টের জন্য, এক্স-শোরুম। অন্যদিকে টপ-স্পেক এম৭০ এক্সড্রাইভ ভ্যারিয়েন্টের দাম ২.৬৫ কোটি টাকা।

মিড-লাইফ আপডেটের মাধ্যমে আই৭-এ পাওয়ারট্রেনের উন্নতির পাশাপাশি বাইরে এবং ভিতরের ডিজাইনেও একাধিক পরিবর্তন আনা হয়েছে। একইসঙ্গে আপডেটেড ৭ সিরিজও ভারতে লঞ্চ করেছে বিএমডব্লিউ, যার দাম শুরু হচ্ছে ১.৯৫ কোটি টাকা থেকে।

৭২৮ কিলোমিটার পর্যন্ত রেঞ্জ

আই৭ ৫০ এক্সড্রাইভ এম স্পোর্ট ভ্যারিয়েন্টে রয়েছে ৪৫৫ হর্সপাওয়ার এবং ৬০০ এনএম টর্ক। বিএমডব্লিউ-র দাবি অনুযায়ী, গাড়িটি মাত্র ৫.৫ সেকেন্ডে ০ থেকে ১০০ কিলোমিটার প্রতি ঘণ্টা গতিতে পৌঁছতে পারে। সর্বোচ্চ গতি ২১০ কিলোমিটার প্রতি ঘণ্টা। এই ভ্যারিয়েন্টে রয়েছে ১১২.৫ কিলোওয়াট আওয়ার ব্যাটারি প্যাক। ডব্লিউএলটিপি পরীক্ষার হিসাবে এক চার্জে রেঞ্জ ৭২৮ কিলোমিটার। পুরনো মডেলের তুলনায় রেঞ্জ বেড়েছে ১২৫ কিলোমিটার।

এম৭০ এক্সড্রাইভ আরও শক্তিশালী

টপ-স্পেক আই৭ এম৭০ এক্সড্রাইভে পারফরম্যান্স আরও বেশি। এই সংস্করণে সর্বোচ্চ ৬৮০ হর্সপাওয়ার এবং ১,০১৫ এনএম টর্ক পাওয়া যায় স্পোর্ট মোডে। স্পোর্ট বুস্ট চালু করলে টর্ক বেড়ে ১,১০০ এনএম হয়। ফলে মাত্র ৩.৮ সেকেন্ডে ০ থেকে ১০০ কিলোমিটার প্রতি ঘণ্টা গতিতে পৌঁছতে পারে গাড়িটি। সর্বোচ্চ গতি ২৫০ কিলোমিটার প্রতি ঘণ্টা। তবে শক্তিশালী পাওয়ারট্রেনের কারণে এর রেঞ্জ কিছুটা কম, ডব্লিউএলটিপি অনুযায়ী ৬৮৬ কিলোমিটার।

Advertisements


   


   

bmw-i7-facelift-launch-india-price-728-km-range-2026

২৮ মিনিটে ১০ থেকে ৮০ শতাংশ চার্জ

চার্জিংয়ের ক্ষেত্রেও আই৭ ফেসলিফটে দ্রুততার সুবিধা রয়েছে। ২৫০ কিলোওয়াট ডিসি ফাস্ট চার্জার ব্যবহার করলে ব্যাটারি ১০ শতাংশ থেকে ৮০ শতাংশ পর্যন্ত চার্জ হতে প্রায় ২৮ মিনিট সময় লাগে। বিএমডব্লিউ-র দাবি, মাত্র ১০ মিনিট চার্জ করলেই প্রায় ২৩৫ কিলোমিটার অতিরিক্ত রেঞ্জ পাওয়া সম্ভব। অন্যদিকে ২২ কিলোওয়াট এসি চার্জার ব্যবহার করলে ০ থেকে ১০০ শতাংশ চার্জ হতে প্রায় ছয় ঘণ্টা সময় লাগে। দুই ভ্যারিয়েন্টের সঙ্গেই বিনামূল্যে ওয়ালবক্স চার্জার এবং ইনস্টলেশন দেওয়া হচ্ছে।

নতুন ডিজাইনে আরও চওড়া কিডনি গ্রিল

ফেসলিফট হওয়া সত্ত্বেও আই৭-এর মূল ডিজাইন খুব বেশি বদলায়নি। তবে সামনের অংশে বেশ কিছু পরিবর্তন রয়েছে। নতুন মডেলে আরও চৌকো আকৃতির কিডনি গ্রিল, আলোকিত গ্রিল সারাউন্ড, নতুন এলইডি হেডল্যাম্প এবং নতুন ডিজাইনের ফ্রন্ট বাম্পার দেওয়া হয়েছে।

এম৭০ এক্সড্রাইভে রয়েছে আরও বড় ফ্রন্ট এয়ার ইনটেক। পাশাপাশি সাইড উইন্ডোর হফমাইস্টার কিঙ্ক এবং পিছনের ল্যাম্পের বাইরের অংশে এম ব্যাজ রয়েছে। এই ভ্যারিয়েন্টে ২১ ইঞ্চির চাকা ব্যবহার করা হয়েছে। সাইড প্রোফাইলে নতুন অ্যালয় হুইল ডিজাইন যোগ হয়েছে। আগের মতোই ফ্লাশ-ফিটিং ডোর হ্যান্ডেল থাকছে। পিছনের অংশে নতুন স্মোকড লেন্স-সহ টেলল্যাম্প, নতুন টেলগেট এবং পরিবর্তিত বাম্পার রয়েছে।

কেবিনে সবচেয়ে বড় পরিবর্তন

আই৭ ফেসলিফটের সবচেয়ে বড় আপডেট এসেছে কেবিনে। প্রচলিত ড্রাইভার ডিসপ্লের পরিবর্তে এবার উইন্ডস্ক্রিনের নিচের অংশ জুড়ে বিএমডব্লিউ-র প্যানোরামিক ভিশন প্রজেকশন প্রযুক্তি দেওয়া হয়েছে। মাঝের রম্বস আকৃতির টাচস্ক্রিনটির মাপ ১৭.৯ ইঞ্চি। এতে বিএমডব্লিউ-র নতুন অপারেটিং সিস্টেম এক্স ব্যবহার করা হয়েছে। যাত্রীদের জন্য রয়েছে নতুন ১৪.৬ ইঞ্চির স্ক্রিন। ড্যাশবোর্ডের ডিজাইনেও পরিবর্তন করা হয়েছে। নতুন প্রজন্মের নয়ে ক্লাস মডেলের মতো চার-স্পোক স্টিয়ারিং হুইলও দেওয়া হয়েছে।

পিছনে ৩১.৩ ইঞ্চির বিনোদন স্ক্রিন

আগের মডেলের মতো নতুন আই৭-এও পিছনের যাত্রীদের জন্য রয়েছে বিশাল ৩১.৩ ইঞ্চির বিনোদন স্ক্রিন। পাওয়ারড ডোরের সুবিধাও রাখা হয়েছে। অডিওর দায়িত্বে রয়েছে ডলবি অ্যাটমস-সহ বাওয়ার্স অ্যান্ড উইলকিন্স সারাউন্ড সাউন্ড সিস্টেম। প্যানোরামিক গ্লাস রুফে ৪০টিরও বেশি এলইডি লাইটের ব্যবস্থা করা যায়।

এছাড়াও রয়েছে ওভার-দ্য-এয়ার সফটওয়্যার আপডেট, ওয়্যারলেস অ্যাপল কারপ্লে এবং অ্যান্ড্রয়েড অটো, পাওয়ারড অটোম্যান, পাওয়ারড ও হিটেড সিট, ভেন্টিলেটেড ও ম্যাসাজ ফাংশন, কানেক্টেড কার প্রযুক্তি এবং অ্যাডভান্সড ড্রাইভার অ্যাসিস্ট্যান্স সিস্টেম বা এডিএএস।

ভারতে তৈরি হচ্ছে আই৭ ৫০

বিএমডব্লিউ আই৭ ৫০ এক্সড্রাইভ এম স্পোর্ট ভ্যারিয়েন্টটি ভারতে চেন্নাইয়ের বিএমডব্লিউ কারখানায় স্থানীয়ভাবে অ্যাসেম্বল করা হচ্ছে। অন্যদিকে আরও শক্তিশালী এম৭০ এক্সড্রাইভ সম্পূর্ণ তৈরি অবস্থায় ভারতে আমদানি করা হবে। ফলে দুই ভ্যারিয়েন্টের দামের পার্থ্যের পিছনে স্থানীয় অ্যাসেম্বলি এবং সম্পূর্ণ আমদানির বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *