চিনের বেড়াজালে কৌশলগত ফাঁদ পাতছে ভারত? - 24 Ghanta Bangla News
Home

চিনের বেড়াজালে কৌশলগত ফাঁদ পাতছে ভারত?

Spread the love

নয়াদিল্লি: চিনের ‘ব্যাকইয়ার্ড’ বা ঘরের কাছেই কি তবে নতুন কোনো নিরাপত্তা বলয় তৈরি করছে ভারত? সামরিক বিশেষজ্ঞদের একাংশের তেমনই জোরালো বিশ্বাস। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সমুদ্রসীমায় ভারতের…

নয়াদিল্লি: চিনের ‘ব্যাকইয়ার্ড’ বা ঘরের কাছেই কি তবে নতুন কোনো নিরাপত্তা বলয় তৈরি করছে ভারত? সামরিক বিশেষজ্ঞদের একাংশের তেমনই জোরালো বিশ্বাস। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সমুদ্রসীমায় ভারতের সুপারসনিক ক্রুজ মিসাইল ‘ব্রহ্মোস’-এর ডানা যেভাবে বিস্তার লাভ করছে, তাতে বেইজিংয়ের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে এই কৌশল। সম্প্রতি এক আন্তর্জাতিক সাক্ষাৎকারে অবসরপ্রাপ্ত লেফট্যানেন্ট জেনারেল পি আর শঙ্কর জানিয়েছেন, এই ‘ব্রহ্মোস বেল্ট’ বা ব্রহ্মোস বলয় কোনো একক দেশকে নিশানা করার জন্য নয়, বরং এই অঞ্চলের সামগ্রিক প্রতিরোধ ক্ষমতা বা রিজিওনাল ডিটারেন্সকে আরও শক্তিশালী করে তুলতে এক সুদূরপ্রসারী চাল।

গত বছর ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর সময় এই সুপারসনিক ক্রুজ মিসাইলের আকাশছোঁয়া সাফল্য বিশ্বজুড়ে প্রতিরক্ষা বাজারে নতুন আলোড়ন তুলেছে। পাকিস্তানের মূল ভূখণ্ডের গভীরে থাকা বিমানঘাঁটিগুলিতে ব্রহ্মোসের নিখুঁত নিশানার আঘাত ইসলামাবাদকে বাধ্য করেছিল যুদ্ধবিরতির আর্জি জানাতে। শ্রেণিগতভাবে বিশ্বের অন্যতম দ্রুতগতির এই ক্রুজ মিসাইলের কার্যকারিতা দেখার পর থেকেই দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলির আগ্রহ বহুগুণ বেড়ে গিয়েছে।

ইতিমধ্যেই ফিলিপিন্স, ভিয়েতনাম এবং ইন্দোনেশিয়ার মতো আসিয়ানভুক্ত দেশগুলি ভারতের সঙ্গে ব্রহ্মোস ক্রুজ মিসাইল ক্রয়ের চুক্তি সেরে ফেলেছে। তালিকায় চতুর্থ দেশ হিসেবে নাম রয়েছে থাইল্যান্ডের, যারা বর্তমানে এই মিসাইল অর্জনের বিষয়টি মূল্যায়ন করে দেখছে। মালয়েশিয়ার সঙ্গেও আলোচনা চলছে। লক্ষণীয় বিষয় হলো, এই সমস্ত দেশই ভৌগোলিকভাবে দক্ষিণ চিন সাগরকে ঘিরে রয়েছে, যেখানে প্রায়শই চিনের ক্রমবর্ধমান আগ্রাসী নীতির মুখে পড়তে হয় তাদের।

চিনের অস্বস্তি ও কৌশলগত সমীকরণ

বিশ্লেষকদের মতে, সরাসরি কোনো সামরিক জোটে না গিয়েও ভারত খুব নিঃশব্দে দক্ষিণ চিন সাগরের প্রবেশদ্বারে একটি ‘ব্রহ্মোস বেল্ট’ বা মিসাইলের শেকল তৈরি করে ফেলছে। দক্ষিণ চিন সাগরের প্রায় ৯০ শতাংশ অংশ নিজেদের বলে দাবি করে বেইজিং, যা বিশ্ব বাণিজ্যের একুশ শতাংশের জলপথ। কিন্তু ভিয়েতনাম, ফিলিপিন্সের মতো ছোট দেশগুলির এতদিন চিনের বিরাট নৌবাহিনীর বিরুদ্ধে লড়ার মতো শক্ত সামরিক সামর্থ্য ছিল না। এখন ব্রহ্মোস হাতে আসায় সেই সমীকরণ অনেকটাই বদলে যাচ্ছে।

Advertisements


   


   

লেফট্যানেন্ট জেনারেল পি আর শঙ্করের মতে, এই কৌশলগত চাল ভারত-চিন দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে সরাসরি প্রভাব না ফেললেও, চিনকে এটা স্পষ্টভাবে বুঝিয়ে দিচ্ছে যে তারা এখন এক শক্তিশালী ভারতের মুখোমুখি। দক্ষিণ চিন সাগরের মতো দূরবর্তী এলাকায় চিনের নৌবহর ও উভচর আক্রমণাত্মক মিশনগুলি এখন এই মিসাইলের নিশানার বৃত্তে চলে আসছে। বিশেষ করে ‘মালাক্কা প্রণালী’ এবং ‘লুজন প্রণালী’র মতো অত্যন্ত সংবেদনশীল রুটগুলিতে চিনের তেলের আমদানি ও বাণিজ্য সুরক্ষার ওপর এক অদৃশ্য চাপ তৈরি করেছে এই অস্ত্রভাণ্ডার। সরাসরি কোনো যুদ্ধজাহাজ বা সেনা না পাঠিয়েও ভারত যেভাবে বেইজিংয়ের কৌশলগত পরিধি আটকে দিচ্ছে, তাকে মাস্টারস্ট্রোক বলেই মনে করছেন আন্তর্জাতিক সম্পর্কের কারবারিরা।

আনসারুল্লাহর হামলায় দক্ষিণ সৌদিতে ৭৩ জন আহত! জানাল সৌদি জোট

যুদ্ধের তহবিল ভরতে পর্ন-শিল্পে আইনি সিলমোহর! কর আদায়ে তৎপর ইউক্রেন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *