পাচারের পথে উদ্ধার ৪৫টি গোরু, ধৃত দুই
এই সময়, ঝাড়গ্রাম: দড়ি, ত্রিপল দিয়ে ভালো করে ট্রাকের ডালা ঢেকে রাখা হয়েছিল। যাতে কেউ বুঝতে না পারে সে জন্য গোরুগুলোর মুখ এবং পা বেঁধে রেখেছিল পাচারকারীরা। কিন্তু সব চেষ্টাই বিফলে গেল। গোরুর গায়ের গন্ধই ধরিয়ে দিল পাচারকারীদের।
সোমবার রাতে খড়গপুর- চিচিড়া ৪৯ নম্বর জাতীয় সড়কে গুপ্তমণিতে দু’টি ট্রাক থেকে ৪৫টি গোরু উদ্ধার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তার করা হয়েছে দুই ট্রাকচালককে। পুলিশ জানিয়েছে, ধৃতদের নাম মহম্মদ রেজাউদ্দিন এবং সিরাজ শেখ। রেজাউদ্দিনের বাড়ি হুগলির পান্ডুয়ায়। সিরাজ বীরভূমের নলহাটির বাসিন্দা। মঙ্গলবার ধৃতদের ঝাড়গ্রাম আদালতে তোলা হলে বিচারক ছ’দিনের পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছেন।
জেলা পুলিশের এক আধিকারিক জানান, ঘটনায় আর কেউ জড়িত কি না জানতে ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। জেলা পুলিশ সূত্রে খবর, গোরু পাচার বন্ধ করতে জাতীয় সড়কগুলিতে নজরদারি চালানো হচ্ছে। সোমবার রাতে তেমনই চেকিংয়ের সময় বালিভাসা টোলপ্লাজায় খড়গপুরগামী দু’টি ট্রাক দেখে সন্দেহ হয় পুলিশের।
ট্রাকে নেকি বোমাই করে হাওড়ার গোরু উলুবেড়িয়া নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল পাচারের জন্য। পুলিশের দাবি, দেখে বোঝা যাচ্ছিল না যে ট্রাকে গোরু রয়েছে। সুন্দর করে ত্রিপল দিয়ে ট্রাক দু’টি মুড়ে রাখা হয়েছিল। সন্দেহ হওয়ায় ট্রাক দু’টিকে থামানো হয়। কাছে যেতেই পুলিশকর্মীরা গোরুর গায়ের গন্ধ পান। দু’টি ট্রাকের চালকই তখন গতি বাড়িয়ে পালানোর চেষ্টা করলে ধাওয়া করে পুলিশ।
গুপ্তমণিতে জাতীয় সড়কে এলিফ্যান্ট করিডরের কাছে ট্রাক দু’টিকে আটকে গোরুগুলি উদ্ধার করা হয়। চালকদের কাছে বৈধ কাগজপত্র চাওয়া হলে তাঁরা দিতে না পারায় ট্রাক চালকদের গ্রেপ্তার করা হয়। আটক ট্রাক এবং ৪৫টি গোরুকে মানিকপাড়া বিট হাউসে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। গোরুগুলিকে আপাতত থানায় রেখেই দেখভাল করছেন পুলিশকর্মীরা।