ফাটল ছিল আগেই! দিল্লির বেআইনি বহুতল ভেঙে মৃত ৬ পড়ুয়া, কাঠগড়ায় পুরনিগম
নয়াদিল্লি: ফাটল দেখা দিয়েছিল বেশ কয়েক দিন আগেই। তার মধ্যেই বেসমেন্ট ও একতলায় চলছিল মেরামতির কাজ। আর তার জেরেই হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়ল একটি চারতলা বাড়ি।…
নয়াদিল্লি: ফাটল দেখা দিয়েছিল বেশ কয়েক দিন আগেই। তার মধ্যেই বেসমেন্ট ও একতলায় চলছিল মেরামতির কাজ। আর তার জেরেই হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়ল একটি চারতলা বাড়ি। দিল্লির সত্য নিকেতনের (Satya Niketan) এই মর্মান্তিক বহুতল বিপর্যয়ে মৃত্যু হয়েছে অন্তত ছ’জনের। ধ্বংসস্তূপ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে ১১ জনকে। হতাহতদের অধিকাংশই ওই বাড়ির পেয়িং গেস্ট (PG) বা ছাত্রাবাসের আবাসিক। এই ঘটনার পর থেকেই রাজধানী জুড়ে বেআইনি নির্মাণ এবং পিজি-তে পড়ুয়াদের নিরাপত্তা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। ঘটনার ম্যাজিস্ট্রেট পর্যায়ের তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্তা।
দিল্লি মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশন (MCD) বা পুরনিগম সূত্রে জানা গিয়েছে, ভেঙে পড়া পি-১৪ নম্বরের ওই বাড়িটি নব্বইয়ের দশকে তৈরি। মাত্র ৫৫ বর্গগজ জায়গার ওপর তৈরি বাড়িটি আদতে একটি পুনর্বাসন কলোনির অংশ। নিয়ম অনুযায়ী সেখানে একতলার বেশি (G+1) নির্মাণের অনুমতি নেই। কিন্তু তা সত্ত্বেও দিনের পর দিন বেআইনি ভাবে চারতলা (G+4) পর্যন্ত ওই বাড়িটি তুলে সেখানে একটি বয়েজ হস্টেল বা পিজি চালানো হচ্ছিল। আশ্চর্যের বিষয় হলো, এত পড়ুয়া সেখানে থাকলেও আপৎকালীন প্রস্থানের (Emergency Exit) কোনও ব্যবস্থাই ছিল না। যদিও এমসিডি-র দাবি, ওই বেআইনি নির্মাণ বা মেরামতির কাজ নিয়ে আগে তাদের কাছে লিখিত কোনও অভিযোগ জমা পড়েনি।
পুলিশ জানিয়েছে, দুর্ঘটনার দিন বেলা দেড়টা নাগাদ হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়ে বাড়িটি। খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে পৌঁছয় উদ্ধারকারী দল। রাতভর চলে উদ্ধারকাজ। ইতিমধ্যেই বাড়ির মালিক হরিরাম এবং অন্যান্যদের বিরুদ্ধে সাউথ ক্যাম্পাস থানায় এফআইআর দায়ের করে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। কাঠামোগত দুর্বলতা জেনেও কেন বিপদ অগ্রাহ্য করে মেরামতির কাজ চলছিল এবং এর জন্য প্রয়োজনীয় অনুমতি নেওয়া হয়েছিল কি না, তা এখন খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।
এদিকে, ভেঙে পড়া বাড়িটির গা ঘেঁষে থাকা পাশের একটি পাঁচতলা ভবন (নম্বর ১৩) নিয়েও চরম সতর্কতা জারি করেছে পুরনিগম। পিলরবিহীন পুরনো পদ্ধতিতে তৈরি ওই বাড়িটি সুরক্ষার খাতিরে ইতিমধ্যেই খালি করে দেওয়া হয়েছে। এমসিডি-র তরফে ওই বাড়িটিকে ‘বিপজ্জনক’ আখ্যা দিয়ে তিন দিনের মধ্যে ভেঙে ফেলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পুর আধিকারিকদের আশঙ্কা, ধ্বংসস্তূপ সরানোর সময় ওই বাড়িটিও যে কোনও মুহূর্তে ভেঙে পড়তে পারে। সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে আশেপাশের বাসিন্দাদেরও নিরাপদে অন্যত্র সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
Advertisements
ঘটনার জেরে কড়া পদক্ষেপ করেছে প্রশাসন। দিল্লির মেয়র প্রবেশ ওয়াহি কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছেন, চারতলার বেশি যে কোনও বেআইনি নির্মাণ অবিলম্বে সিল করা হবে এবং এর সঙ্গে জড়িত দোষী আধিকারিকদের সরাসরি চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হবে। অন্যদিকে, পিজি-তে পড়ুয়াদের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করার দাবিতে এ দিন এমসিডি সদর দফতরের বাইরে তুমুল বিক্ষোভ দেখান এবিভিপি (ABVP) সদস্যরা। সব মিলিয়ে সত্য নিকেতনের এই প্রাণঘাতী বিপর্যয় প্রশাসনের নজরদারির অভাব এবং বেআইনি পিজির রমরমা কারবার নিয়ে ফের এক বার কড়া সমালোচনার জন্ম দিল।