নয়া শিখরের পথে দেশের ই-কমার্স, বলছে ইনফিসাম
এই সময়: বিপুল চাহিদা এবং অনলাইনে কেনার প্রবণতা ক্রমাগত বাড়তে থাকায় ভারতের ই-কমার্স বাজার আগামী চার বছরে প্রায় তিন গুণ হয়ে ৩৪৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে পৌঁছতে পারে। দ্রুতগতির ক্যুইক-কমার্সের প্রসার, আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স বা এআই-এর ব্যবহার এবং দেশের ছোট ও মাঝারি শহরে অনলাইন কেনাকাটার দ্রুত বিস্তার—এই তিন কারণই আগামী দিনে ভারতের ই-কমার্স বাজারের বৃদ্ধির মূল চালিকাশক্তি হয়ে উঠবে বলে মনে করা হচ্ছে।
বুধবার তাদের এক রিপোর্টে এমনটাই জানিয়েছে গবেষণা সংস্থা ইনফিসাম। সংস্থাটির ‘স্মার্ট গ্রোথ ইন আ ফাস্ট মার্কেট’ শীর্ষক রিপোর্ট অনুযায়ী, ২০২৪-এ ভারতের ই-কমার্স বাজারের আনুমানিক আকার ছিল ১২৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। সেখান থেকে ২০৩০-এর মধ্যে বাজার বেড়ে ৩৪৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে পৌঁছতে পারে। অর্থাৎ, আগামী কয়েক বছরে গড়ে ১৮.৪ শতাংশ হারে দেশের ই-কমার্স বাজারের বৃদ্ধির সম্ভাবনা রয়েছে।
যদিও এ ক্ষেত্রে ক্যুইক কমার্স সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে চলেছে বলে রিপোর্টে দাবি। অর্ডার দেওয়ার কয়েক মিনিটের মধ্যে পণ্য হাতে পাওয়ার সুবিধে ক্রেতাদের মধ্যে দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। বিশেষ করে শহুরে ব্যস্ত জীবনে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য, মুদিখানা, ব্যক্তিগত ব্যবহারের সামগ্রী কিংবা শেষ মুহূর্তের কেনাকাটার ক্ষেত্রে ক্যুইক কমার্সের উপরে নির্ভরতা বাড়ছে। ইনফিসাম-এর রিপোর্ট বলছে, ২০৩০-এর মধ্যে ক্যুইক কমার্স বাজারের আয়তন ৬৫-৭০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে পৌঁছতে পারে। আগামী পাঁচ বছরে ই-রিটেলের অতিরিক্ত বৃদ্ধির ৪০-৪৫ শতাংশ পর্যন্ত এই ক্ষেত্র থেকেই আসতে পারে বলে রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে।
বর্ধিত চাহিদা মেটাতে ক্যুইক কমার্স সংস্থাগুলিকে তাদের ডেলিভারি পরিকাঠামোও দ্রুত বাড়াতে হচ্ছে। রিপোর্ট অনুযায়ী, ২০২৫-এ দেশে ক্যুইক কমার্সের পণ্য সরবরাহের জন্য প্রায় ২,৫২৫টি ‘ডার্ক স্টোর’ ছিল। ২০৩০-এর মধ্যে সেই সংখ্যা প্রায় তিন গুণ বেড়ে ৭,৫০০-র কাছাকাছি হতে পারে। এই ডার্ক স্টোরগুলি সাধারণ দোকানের মতো ক্রেতাদের জন্য খোলা থাকে না। বরং অনলাইনে অর্ডার করা পণ্য দ্রুত বাছাই, প্যাকেজিং এবং ডেলিভারির জন্য এগুলিকে ছোট আকারের স্থানীয় গুদামঘর হিসেবে ব্যবহার করা হয়। ফলে ডার্ক স্টোরের সংখ্যা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে লাস্ট মাইল ডেলিভারি ব্যবস্থাও আরও দ্রুত ও বিস্তৃত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।