বিরোধী জোট জিতলে প্রধানমন্ত্রী পদের স্বাভাবিক দাবিদার রাহুলই! অকপট বাম নেতা
নয়াদিল্লি: আগামী লোকসভা নির্বাচনে বিরোধী জোট ক্ষমতায় এলে দেশের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী কে হবেন? এই প্রশ্ন ঘিরে যখন জাতীয় রাজনীতিতে নানা জল্পনা চলছে, ঠিক তখনই লোকসভার…
নয়াদিল্লি: আগামী লোকসভা নির্বাচনে বিরোধী জোট ক্ষমতায় এলে দেশের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী কে হবেন? এই প্রশ্ন ঘিরে যখন জাতীয় রাজনীতিতে নানা জল্পনা চলছে, ঠিক তখনই লোকসভার বিরোধী দলনেতা হিসেবে রাহুল গান্ধীর দাবিকেই কার্যত মান্যতা দিল সিপিএম। দলের সাধারণ সম্পাদক এম এ বেবি স্পষ্ট জানিয়েছেন, বিরোধী দলনেতা হিসেবে সরকার গড়ার বা প্রধানমন্ত্রী পদের দাবি জানানোর স্বাভাবিক অধিকার রাহুলের রয়েছে। তবে নির্বাচনের আগেই এ বিষয়ে কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার পক্ষপাতী নন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী পদপ্রার্থী নিয়ে নির্বাচনের আগে অহেতুক জল্পনা বা কাল্পনিক চর্চায় নারাজ সিপিএম। এম এ বেবির কথায়, “সাধারণত লোকসভার বিরোধী দলনেতার এই অধিকার থাকে। কিন্তু আগামী দিনে দেশের প্রধানমন্ত্রী কে হবেন, তা নির্বাচনের পরেই আলোচনা করা উচিত।” তিনি আরও জানান, বিরোধীরা সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করার পরেই কে সরকারে নেতৃত্ব দেবেন, তা ঠিক করা উচিত। তাঁর বিশ্বাস, বিরোধী দলগুলির মধ্যে সেই রাজনৈতিক পরিপক্বতা রয়েছে যে, তারা সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্তে উপনীত হতে পারবে।
জ্যোতি বসুর প্রসঙ্গ এবং সিপিএমের অবস্থান
নিজেদের দলের সাংগঠনিক শক্তি সম্পর্কে যে তাঁরা সম্পূর্ণ ওয়াকিবহাল, তা-ও এ দিন স্পষ্ট করে দিয়েছেন বেবি। জানিয়ে দিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রী পদের দৌড়ে তাঁরা কোনও ভাবেই নেই। এই প্রসঙ্গে ১৯৯৬ সালের লোকসভা নির্বাচনের পর যুক্তফ্রন্ট বৃহত্তম জোট হিসেবে আত্মপ্রকাশ করা এবং পশ্চিমবঙ্গের তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী জ্যোতি বসুকে প্রধানমন্ত্রী করার প্রস্তাবের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটটি তুলে ধরেন তিনি। বেবি বলেন, “আমরা প্রধানমন্ত্রী পদের জন্য কোনও দাবি জানাব না। আমাদের বর্তমান যা শক্তি, তাতে এই দাবি করাটা রীতিমতো হাস্যকর হবে। তাই স্বাভাবিক ভাবেই বিরোধী দলনেতারই এই দাবি জানানোর অধিকার থাকে।”
দক্ষিণের রাজনীতি ও জোসেফ বিজয় প্রসঙ্গ
জাতীয় রাজনীতির পাশাপাশি দক্ষিণী রাজনীতির প্রসঙ্গও উঠে এসেছে সিপিএম নেতার বক্তব্যে। তামিলনাড়ুতে বিজেপি-র পরাজয়ের পর অভিনেতা-রাজনীতিক জোসেফ বিজয়কে (থালাপতি বিজয়) সম্ভাব্য প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তুলে ধরার যে আলোচনা চলছে, সে কথাও স্বীকার করে নিয়েছেন বেবি। তিনি বলেন, “আমি জানি তামিলনাড়ুতে জোসেফ বিজয়ের নামও সম্ভাব্য প্রধানমন্ত্রী হিসেবে চর্চিত হচ্ছে। কিন্তু ওটা সম্পূর্ণ ভিন্ন আলোচনা এবং আমি এই বিতর্কে ঢুকতে চাই না।” তাঁর স্পষ্ট বার্তা, বিরোধীদের আপাতত প্রাথমিক লক্ষ্য হওয়া উচিত নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করা।
Advertisements
জাতীয় রাজনীতির পর্যবেক্ষকদের মতে, এম এ বেবির এই মন্তব্য রাজনৈতিক দিক থেকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। এর মাধ্যমে সিপিএম একদিকে যেমন জোটের অন্দরে কংগ্রেসের নেতৃত্বকে পরোক্ষে মেনে নিল, তেমনই নির্বাচনের আগে প্রধানমন্ত্রী মুখ নিয়ে শরিকি কোন্দল এড়ানোরও কড়া বার্তা দিল।
মৃতদের ৯ লাখ, ক্ষতিগ্রস্তদের ৩০ হাজার! সবং পরিদর্শনে গিয়ে আর কী ঘোষণা শুভেন্দুর?
বাড়ি সংক্রান্ত নথি তলব! আজই পুরসভার দফতরে যেতে পারেন অভিষেকের বাবা