Haldirams-এর বড় বিনিয়োগ, ১,০০০ কোটি টাকায় তৈরি হবে নতুন কারখানা
ভুবনেশ্বর: ভারতের অন্যতম বড় প্যাকেটজাত স্ন্যাকস ও খাদ্যপণ্য সংস্থা হলদিরামস (Haldirams) ওড়িশায় নতুন একটি উৎপাদন কারখানা তৈরির পরিকল্পনা করেছে। এই প্রকল্পে মোট প্রায় ১,০০০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করতে পারে সংস্থাটি। তিনটি ধাপে তৈরি হবে এই কারখানা, যেখানে মূলত নোনতা স্ন্যাকস এবং বেকারি পণ্য উৎপাদন করা হবে। ইতিমধ্যেই প্রথম পর্যায়ে ৫০০ কোটি টাকা বিনিয়োগের প্রস্তাব অনুমোদন করেছে ওড়িশা সরকার।
সংস্থার এক আধিকারিক জানিয়েছেন, কারখানাটির সঠিক অবস্থান এখনও চূড়ান্ত হয়নি। তবে খোরদা-কটক অঞ্চলে প্রকল্পটি গড়ে ওঠার সম্ভাবনা রয়েছে। এটি পূর্ব ভারতের অন্যতম বড় স্ন্যাকস এবং বেকারি পণ্য উৎপাদন কেন্দ্র হয়ে উঠতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
সম্প্রতি নয়াদিল্লিতে ওড়িশা সরকারের একটি বিনিয়োগ সম্মেলনে যে নয়টি বড় সংস্থা রাজ্য সরকারের সঙ্গে সমঝোতাপত্র স্বাক্ষর করেছিল, তাদের মধ্যে হলদিরামসও ছিল। ওড়িশা ফুডপ্রো ২০২৬ সম্মেলনের মাধ্যমে খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ ক্ষেত্রে ৬,০০০ কোটি টাকারও বেশি বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি এসেছে। পাশাপাশি দিল্লি-জাতীয় রাজধানী অঞ্চল বা এনসিআর-ভিত্তিক শিল্প বিনিয়োগ প্রচারে বিভিন্ন ক্ষেত্রে মোট ৬৬,৩৯২ কোটি টাকার বিনিয়োগ প্রস্তাব পাওয়া গেছে।
Also Read | খড়গপুর থেকে অমরাবতী! সড়ক পরিবহনে ৭৫,৬২৯ কোটির গ্রিন ফিল্ড করিডোরের পরিকল্পনা চূড়ান্ত
ওড়িশায় নতুন কারখানা তৈরি হলে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে হলদিরামের উৎপাদন পরিকাঠামো আরও শক্তিশালী হবে। একই সঙ্গে সংস্থাটি নতুন পণ্যের পরিসর বাড়ানোর পাশাপাশি দেশীয় এবং আন্তর্জাতিক সরবরাহ ব্যবস্থাও আরও মজবুত করতে পারবে।
১৯৩৭ সালে বিকানেরে প্রতিষ্ঠিত হয় হলদিরামস। আশির দশকের গোড়ার দিকে সংস্থাটি দিল্লি ও নাগপুরে নিজেদের ব্যবসা সম্প্রসারিত করে। পরবর্তীতে নাগপুর, নয়ডা, রুদ্রপুর, দিল্লি-এনসিআর এবং হুগলি-সহ দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় উৎপাদন কেন্দ্র গড়ে ওঠে। বর্তমানে হলদিরামের পণ্য তালিকায় ঐতিহ্যবাহী নমকিন ও মিষ্টির পাশাপাশি পশ্চিমি স্ন্যাকস, রেডি-টু-ইট খাবার, ফ্রোজেন ফুড, বেকারি পণ্য এবং পানীয়ও রয়েছে।
ওড়িশায় খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ শিল্পে আরও কয়েকটি বড় বিনিয়োগের প্রস্তাব এসেছে। কোকা-কোলা রাজ্যে আরও একটি কার্বনেটেড পানীয় উৎপাদন কেন্দ্রে ৩০০ কোটি টাকা বিনিয়োগের প্রস্তাব দিয়েছে। বালাজি ওয়েফার্স এবং লেটস ট্রাই ২০০ কোটি টাকা করে বিনিয়োগের পরিকল্পনা করেছে। অন্যদিকে কেরলের কলার চিপসের জন্য পরিচিত বিয়ন্ড স্ন্যাক ওড়িশায় একটি উৎপাদন কেন্দ্র তৈরিতে ১৫০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করবে।
Also Read | হুগলি নদীর ধরে ৬০০ কোটি বিনিয়োগ ইডেন রিয়েলিটির! তৈরী হবে ৩ লাক্সারি হোটেল
বালাজি ওয়েফার্সের প্রস্তাব ওড়িশার দ্রুত বেড়ে ওঠা খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ শিল্পে আরও একটি জাতীয় স্তরের ব্র্যান্ডকে যুক্ত করছে। রাজ্যে ইতিমধ্যেই আইটিসি, নেসলে, পার্লে, ব্রিটানিয়া, ইন্দো নিসিন, হিন্দুস্তান ইউনিলিভার, রিলায়েন্স এবং টাটা কনজিউমার প্রোডাক্টস-এর মতো সংস্থার উপস্থিতি রয়েছে। এর পাশাপাশি বরুণ বেভারেজেসও রাজ্যের খাদ্য ও পানীয় শিল্পের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে।
বালাজি ওয়েফার্সের প্রস্তাবিত বিনিয়োগের মাধ্যমে প্যাকেটজাত নমকিন, ওয়েফার্স এবং অন্যান্য সুবিধাজনক খাদ্যপণ্যের উৎপাদন ক্ষমতা বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে। অন্যদিকে তুলনামূলক নতুন ব্র্যান্ড লেটস ট্রাই চিনাবাদাম তেলে তৈরি প্যাকেটজাত স্ন্যাকসের জন্য পরিচিত। নতুন বিনিয়োগের মাধ্যমে সংস্থাটি উৎপাদন ও সরবরাহ পরিকাঠামো বাড়িয়ে দেশের আরও বেশি বাজারে পৌঁছতে চাইছে।
খাদ্য প্রক্রিয়াকরণের ক্ষেত্রে ওড়িশার নিজস্ব কাঁচামালেরও যথেষ্ট সম্ভাবনা রয়েছে। রাজ্যে ধান ও বিভিন্ন শস্যের পাশাপাশি বাজরা, কাজুবাদাম, কাঁঠাল, আম, মিষ্টি আলু, হলুদ, লঙ্কা, মাশরুম, ভুট্টা, বিভিন্ন মশলা এবং দুগ্ধজাত পণ্যের উৎপাদন হয়। রাজ্য সরকার এই পণ্যগুলির প্রক্রিয়াকরণ, প্যাকেজিং, ব্র্যান্ডিং এবং মূল্য সংযোজন বাড়ানোর পরিকল্পনা করেছে।
এই লক্ষ্যে ওড়িশায় পাঁচটি ফুড পার্ক তৈরির পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। সরকারের লক্ষ্য হল স্থানীয় কৃষিজ পণ্য এবং ঐতিহ্যবাহী খাদ্যপণ্যকে আধুনিক প্রক্রিয়াকরণ ও ব্র্যান্ডিংয়ের মাধ্যমে জাতীয় বাজারে আরও বড় পরিসরে পৌঁছে দেওয়া।
ওড়িশা সরকারের শিল্প দফতরের অতিরিক্ত মুখ্যসচিব হেমন্ত শর্মার মতে, এই ধরনের পরিকাঠামো তৈরি হলে বড় এফএমসিজি সংস্থাগুলি কাঁচামাল, শ্রম, বাজার এবং পরিবহণ ব্যবস্থার সুবিধা পাবে। একই সঙ্গে স্থানীয় কৃষকদের কাছ থেকেও আরও বেশি কাঁচামাল সংগ্রহের সুযোগ তৈরি হবে।
তিনি বলেন, সরকার এমন একটি পরিকাঠামো তৈরি করছে যেখানে বড় খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ সংস্থা, সরবরাহকারী, কৃষক, লজিস্টিক সংস্থা, কোল্ড চেন পরিষেবা প্রদানকারী এবং ছোট ব্যবসাগুলি একই পরিকাঠামোর আওতায় কাজ করতে পারবে। এর ফলে উৎপাদন কেন্দ্রগুলির সঙ্গে কৃষি উৎপাদন এলাকাগুলির সরাসরি সংযোগ আরও শক্তিশালী হবে।