রেকর্ড তলানিতে দানিয়ুবের জল, বন্ধ পারমাণবিক রিঅ্যাক্টরও, কেন বিদ্যুৎ সংকটের মুখে ইউরোপ?
মলদোভার বিদ্যুৎ সরবরাহ নিয়েও আশঙ্কা
রোমানিয়া থেকে বিদ্যুৎ আমদানি করে মলদোভা। রোমানিয়া থেকে প্রায় ৬০ শতাংশ পর্যন্ত বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয় মলদোভায়। এই বিদ্যুৎ উৎপাদন বন্ধ হলে সেই সরবরাহতেও এর প্রভাব পড়বে বলেই মনে করছে বিশেষজ্ঞমহল। তবে প্রভাব যে শুধু এই দুই দেশের উপর পড়বে তা নয়। ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধের জেরে এমনিই ইউরোপের দেশগুলিকে বেশি দামে বিদ্যুৎ কিনতে হচ্ছে। তার উপর এই ধরনের সমস্যায় মলদোভাকে হয়তো আরও চড়া দামে বিদ্যুৎ কিনতে হতে পারে বলেই আশঙ্কা।
রোমানিয়ায় জরুরি পরিস্থিতি
বিদ্যুৎ ঘাটতি সামাল দিতে রোমানিয়া সরকার অগস্ট মাস জুড়ে জরুরি পরিস্থিতি ঘোষণা করেছে। সেখানকার সরকার সাধারণ মানুষ ও সংস্থাগুলিকে বিদ্যুতের ব্যবহার কমানোর আবেদন জানিয়েছে। পাশাপাশি ৩৩০ মেগাওয়াটের একটি লিগনাইট-চালিত বিদ্যুৎকেন্দ্র চালু করা হয়েছে। উইন্ড ও হাইড্রো পাওয়ার উৎপাদনও বাড়ানোর চেষ্টা চলছে।
ইউরোপ জুড়েও বাড়ছে সমস্যা
শুধু রোমানিয়া নয়, খরা ও অতিরিক্ত গরমে ইউরোপের অন্যান্য পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রও সমস্যা তৈরি হয়েছে। ফ্রান্সে ৫৭টি রিঅ্যাক্টরের মধ্যে ১৩টি রিঅ্যাক্টরেই বিভিন্ন ভাবে এর প্রভাব পড়েছে। হাঙ্গেরির পাক্স পারমাণবিক কেন্দ্রেও দানিয়ুবের জল কমে যাওয়ায় আংশিকভাবে বন্ধ করে দেওয়া রয়েছে। এ ছাড়াও দানিয়ুবের জল কমে যাওয়ায় বিদ্যুৎ উৎপাদনের পাশাপাশি নদীপথে পণ্য পরিবহণও ব্যাহত হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ইউরোপে এই ধরনের খরা ও তাপপ্রবাহ ভবিষ্যতে আরও বাড়তে পারে। খরার প্রভাবে বিদ্যুৎ সরবরাহ, খাদ্য সামগ্রীর দাম বৃদ্ধি-সহ পরিবেশের উপর এর ভয়াবহ প্রভাব পড়তে চলেছে বলেই মনে করছেন পরিবেশবিদদের একাংশ।