বড় স্ক্রিন, উন্নত কবজা, পকেটে সহজেই রাখা যাবে Apple iPhone Ultra?
মুম্বই: অ্যাপলের প্রথম ভাঁজযোগ্য আইফোন নিয়ে প্রত্যাশা বাড়ছে। চলতি বছরের শেষ দিকে আইফোন ১৮ প্রো সিরিজের সঙ্গে নতুন ডিভাইসটি প্রকাশ্যে আসতে পারে বলে জল্পনা রয়েছে। বিভিন্ন প্রতিবেদনে ডিভাইসটির নাম আইফোন আল্ট্রা (Apple iPhone Ultra) বলা হচ্ছে। আনুষ্ঠানিক আত্মপ্রকাশের এখনও কয়েক সপ্তাহ বাকি থাকলেও, সীমিত সংখ্যক ব্যবহারকারী নাকি ইতিমধ্যেই অ্যাপলের প্রথম ভাঁজযোগ্য আইফোন ব্যবহারের সুযোগ পেয়েছেন। তাঁদের অভিজ্ঞতা অনুযায়ী, বড় ডিসপ্লে থাকা সত্ত্বেও ডিভাইসটি পকেটে রাখা সহজ। পাশাপাশি এর ভাঁজের কবজা এবং বড় স্ক্রিনের জন্য আইপ্যাডের মতো অ্যাপ বিন্যাসও প্রাথমিক ব্যবহারকারীদের নজর কেড়েছে।
মার্ক গারম্যানের ‘পাওয়ার অন’ নিউজলেটারের তথ্য অনুযায়ী, যারা আইফোন আল্ট্রা ব্যবহার করার সুযোগ পেয়েছেন, তাঁরা মূলত এর আকার এবং হাতে ও পকেটে রাখার সুবিধার প্রশংসা করেছেন। ভাঁজ করা অবস্থায় ডিভাইসটির বাইরের অংশ তুলনামূলকভাবে কমপ্যাক্ট থাকবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ফলে সাধারণ স্মার্টফোনের মতোই এটি পকেটে রাখা সম্ভব হবে।
ভাঁজের কবজাটিও প্রাথমিক ব্যবহারকারীদের মধ্যে ভালো প্রতিক্রিয়া তৈরি করেছে বলে দাবি করা হচ্ছে। এর স্থায়িত্ব এবং ব্যবহারের সময় অনুভূতি বিশেষভাবে নজর কেড়েছে। অ্যাপলের মতো সংস্থা প্রথমবার ভাঁজযোগ্য স্মার্টফোনের বাজারে প্রবেশ করায় কবজার মান এবং দীর্ঘমেয়াদি নির্ভরযোগ্যতা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠবে।
Also Read | DRDO র বড় সিদ্ধান্ত! এবার দেশেই তৈরী হতে চলেছে টর্পেডো সাবমেরিন
আইফোন আল্ট্রায় প্রচলিত ভাঁজযোগ্য স্মার্টফোনের মতোই একটি বাইরের ডিসপ্লে এবং একটি বড় ভিতরের ডিসপ্লে থাকবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ডিভাইসটি ভাঁজ করা থাকলে বাইরের ছোট স্ক্রিন ব্যবহার করা যাবে। আর পুরোপুরি খুললে বড় অভ্যন্তরীণ ডিসপ্লে পাওয়া যাবে।
বড় ডিসপ্লেটিকে আরও কার্যকর করার জন্য অ্যাপল সফটওয়্যারের ক্ষেত্রেও পরিবর্তন আনছে বলে জানা যাচ্ছে। বড় স্ক্রিনে অ্যাপগুলিকে আইপ্যাডের মতো বিন্যাসে দেখানোর ব্যবস্থা করা হতে পারে। ফলে একসঙ্গে বেশি তথ্য দেখা, একাধিক কাজ করা এবং বড় পর্দায় অ্যাপ ব্যবহারের সুবিধা বাড়বে।
মার্ক গারম্যানের মতে, আইফোন আল্ট্রা সাধারণ আইফোনের তুলনায় ভিডিও দেখা, গেম খেলা এবং উৎপাদনশীলতার কাজের জন্য বেশি উপযোগী হতে পারে। বড় অভ্যন্তরীণ ডিসপ্লে এই ব্যবহারের ক্ষেত্রে ডিভাইসটির অন্যতম প্রধান সুবিধা হয়ে উঠতে পারে।
ক্যামেরা ব্যবহারের ক্ষেত্রেও বড় স্ক্রিনটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। রিপোর্ট অনুযায়ী, ভিতরের বড় ডিসপ্লে ক্যামেরার ভিউফাইন্ডার হিসেবেও ব্যবহার করা যাবে। এর ফলে ছবি তোলা বা ভিডিও রেকর্ড করার সময় বিষয়বস্তু বড় পর্দায় দেখে ফ্রেম ঠিক করা সহজ হতে পারে।
Also Read | হেলিকপ্টার ‘প্রচন্ড’ তৈরিতে আদানি ডিফেন্স-BEML র সঙ্গে হাত মেলাল HAL
তবে আইফোন আল্ট্রায় একটি গুরুত্বপূর্ণ ক্যামেরা ফিচার না থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। রিপোর্ট অনুযায়ী, এতে টেলিফটো ক্যামেরা নাও থাকতে পারে। দাম যদি প্রত্যাশা অনুযায়ী অনেক বেশি হয়, তাহলে এই সিদ্ধান্ত ক্রেতাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠতে পারে।
আগের কয়েকটি প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, আইফোন আল্ট্রার দাম কমপক্ষে ২,০০০ ডলার, এমনকি তারও বেশি হতে পারে। তুলনায়, স্যামসাংয়ের সর্বশেষ ভাঁজযোগ্য মডেল গ্যালাক্সি জেড ফোল্ড ৮ আল্ট্রার দাম প্রায় ১,৯০০ ডলার বা ১.৮৯ লক্ষ টাকা। অ্যাপল তাদের প্রথম ভাঁজযোগ্য আইফোনকে স্যামসাংয়ের এই ধরনের মডেলের তুলনায় আরও প্রিমিয়াম অবস্থানে রাখতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
তবে বাজারে তুলনামূলক দেরিতে প্রবেশ করলেও আইফোন আল্ট্রা ভাঁজযোগ্য স্মার্টফোনের বাজারে বড় প্রভাব ফেলতে পারে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। কিছু পূর্বাভাস অনুযায়ী, বাজারে আসার কয়েক মাসের মধ্যেই বিশ্বব্যাপী ভাঁজযোগ্য স্মার্টফোনের মোট বিক্রির ২৫ শতাংশ পর্যন্ত আইফোন আল্ট্রার দখলে যেতে পারে।
অ্যাপল চলতি বছরে প্রায় ১ কোটি ইউনিট উৎপাদনের প্রস্তুতি নিতে সরবরাহকারীদের নির্দেশ দিয়েছে বলেও রিপোর্ট রয়েছে। তবে উৎপাদন প্রস্তুতি থাকলেও বাজারে ডিভাইসটি কবে থেকে পাওয়া যাবে, তা নিয়ে এখনও কিছু অনিশ্চয়তা রয়েছে।
রিপোর্ট অনুযায়ী, আইফোন আল্ট্রার প্রি-অর্ডার শুরু হতে পারে ২০২৬ সালের চতুর্থ ত্রৈমাসিকে। ফলে আইফোন ১৮ প্রো সিরিজের সঙ্গে ডিভাইসটির ঘোষণা হলেও বাজারে আসার সময় আলাদা হতে পারে।
শুরুতে আইফোন আল্ট্রা শুধুমাত্র মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে পাওয়া যেতে পারে বলেও জল্পনা রয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এর পিছনে মূল কারণ হতে পারে উৎপাদন সরবরাহ এবং অত্যন্ত বেশি দাম। নতুন ধরনের ভাঁজযোগ্য ডিসপ্লে তৈরির জটিলতা, সীমিত উৎপাদন ক্ষমতা এবং উচ্চ উৎপাদন খরচের কারণে অ্যাপল প্রথম পর্যায়ে সীমিত বাজারে ডিভাইসটি আনতে পারে।
অ্যাপল এখনও আইফোন আল্ট্রা সম্পর্কে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু ঘোষণা করেনি। ফলে এর নাম, দাম, ক্যামেরা, ডিসপ্লে, ব্যাটারি এবং লঞ্চের বাজার সম্পর্কিত তথ্য আপাতত বিভিন্ন রিপোর্ট ও সূত্রের ওপর নির্ভর করছে। তবে প্রাথমিক ব্যবহারকারীদের কথিত ইতিবাচক অভিজ্ঞতা সত্যি হলে, বড় ডিসপ্লে, পকেটে রাখার সুবিধা এবং উন্নত কবজার সমন্বয় অ্যাপলের প্রথম ভাঁজযোগ্য আইফোনকে বাজারে আলাদা করে তুলতে পারে।