সাংবাদিক সম্মেলন এড়ালেন পানোস, ‘প্রতিপক্ষের সম্মানে ৫ গোল দিইনি’, বিস্ফোরক হাবাস
মাঝমাঠেও তাঁর দল শুরু থেকেই আধিপত্য করেছে। মহম্মদ রশিদ, জিকসন সিং এবং দানি রামিরেজ়ের দাপটে একের পর এক আক্রমণ তৈরি হয়েছে। বিপরীতে পানোস রক্ষণ শক্ত করতে গিয়ে ডুরান্ডে মোহনবাগানের অন্যতম সেরা গোলদাতা সাহালকে প্রথম একাদশের বাইরে রাখেন। আপুইয়াকে নামিয়ে রক্ষণ জমাট করার চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু তাতে না রক্ষণ শক্ত হয়েছে, না আক্রমণে ধার এসেছে।
হাবাসের পরিকল্পনায় এডমুন্ডের হ্যাটট্রিক
প্রতিপক্ষের দুর্বলতা পড়তে হাবাসের জুড়ি নেই। শুভাশিস বসুর গতি কমে যাওয়া এবং আক্রমণে উঠে গেলে দ্রুত ফিরে আসতে সমস্যা হওয়াটা তিনি বুঝেছিলেন। তাই তাঁর দিক দিয়েই বার বার আক্রমণ করালেন এডমুন্ড লালরিন্ডিকা এবং বিপিন সিংকে দিয়ে।
দু’জনের গতি কাজে লাগিয়ে মোহনবাগানের রক্ষণে বার বার ফাটল ধরাল ইস্টবেঙ্গল। আর সেই পরিকল্পনার ফল মিলল চোখের সামনে। এডমুন্ড করলেন হ্যাটট্রিক, বিপিন করলেন একটি গোল। দ্বিতীয়ার্ধে একটা সময়ে শুভাশিসকে এতটাই ক্লান্ত দেখিয়েছে যে তাঁর পক্ষে দৌড়ানোও কঠিন হয়ে পড়েছিল।
মাঝমাঠের আসল চালিকাশক্তি মহম্মদ রশিদকেও নিজের পরিকল্পনা অনুযায়ী ব্যবহার করেছেন হাবাস। প্রথমার্ধে রশিদকে আক্রমণাত্মক ভূমিকায় রেখে মোহনবাগানের রক্ষণে চাপ তৈরি করান তিনি। তাঁর পা থেকেই তৈরি হয়েছে একের পর এক আক্রমণ, দু’টি গোলেও সরাসরি অবদান রেখেছেন রশিদ।
দ্বিতীয়ার্ধে আবার বদলে যায় তাঁর ভূমিকা। মোহনবাগান যখন গোলের জন্য মরিয়া, তখন রশিদকে কিছুটা নিচে নামিয়ে এনে রক্ষণ আরও শক্ত করেন হাবাস। তিনি জানতেন, সবুজ-মেরুন যত বেশি আক্রমণে উঠবে, ততই পিছনে জায়গা তৈরি হবে। সেই জায়গা কাজে লাগিয়ে প্রতিআক্রমণ থেকে ম্যাচ শেষ করে দেওয়ার সুযোগও এসেছিল। দু’টি সহজ সুযোগ নষ্ট না হলে হয়তো ৪-১ নয়, আরও বড় ব্যবধানেই জিততে পারত ইস্টবেঙ্গল।