হড়পা বানে ভাঙল সেতু, ব্যাহত জীবনযাত্রা
এই সময়, আসানসোল: সোমবার গভীর রাতে আচমকা হড়পা বানে অজয় নদের জলস্তর বেড়ে যাওয়ায় জামুড়িয়ার দরবারডাঙা ঘাটের অস্থায়ী সেতু ভেঙে যায়। ফলে বীরভূম এবং ঝাড়খণ্ডের সঙ্গে জামুড়িয়া, রানিগঞ্জের যোগাযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে গিয়েছে।
বীরভূমের খয়রাশোল থানা এবং কাঁকরতলা পুলিশ ফাঁড়ি এলাকার বহু গ্রাম এবং ঝাড়খণ্ডের নলা থানার অন্তর্গত বেশ কিছু গ্রামের প্রচুর মানুষ জামুড়িয়ার অনেকগুলি কারখানায় কাজ করতে আসেন। যাঁরা সোমবার রাতের ডিউটি করতে জামুড়িয়া বা রানিগঞ্জে এসেছিলেন, তাঁরা অস্থায়ী সেতু ভেঙে যাওয়ায় দরবারডাঙায় একটি মন্দির এবং আশ্রমে কাটাতে বাধ্য হন বলে জানান স্থানীয় বাসিন্দা মধুসূদন মণ্ডল। তিনি বলেন, ‘আগের সরকার ভোটের আগে কথা দিয়েছিল ক্ষমতায় এলে দরবারডাঙা সেতু তৈরি হবে অজয়ের উপরে। বিজেপি–ও এ বার ভোটের আগে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল সেতু তৈরি করে দেবে। আশা করি, নতুন বিধায়ক সেই কাজ সম্পূর্ণ করবেন।’
জামুড়িয়ার ইস্পাত কারখানায় কর্মরত বীরভূমের দুই বাসিন্দা শ্যামল রায় ও রমণী দাসের বক্তব্য, ‘আমাদের গ্রাম থেকে দুবরাজপুরের দূরত্ব অন্তত ২০–২৫ কিলোমিটার। জেলার সদর শহর সিউড়ির দূরত্ব ৪৫ থেকে ৫০ কিলোমিটার। দরবারডাঙা সেতু থাকায় আমাদের যাতায়াতের কাজ অনেক সহজ হতো। এ বার অন্তত স্থায়ী সেতু তৈরি হোক।’
মঙ্গলবার দুপুরের পরে জল একটু কমায় একটিমাত্র নৌকো চলছে। কিন্তু সন্ধের পরে সেই পরিষেবাও বন্ধ হয়ে গেলে বিড়ম্বনা আরও বাড়বে। বিশেষ করে, নিয়ম মেনে নৌকোয় যাত্রীরা উঠবেন কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন থাকছেই।জামুড়িয়ার বাসিন্দা এবং ডিস্ট্রিক্ট চেম্বার অফ কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজ়ের সাধারণ সম্পাদক অজয় খৈতান বলেন, ‘দরবারডাঙা অজয়ের উপরে স্থায়ী সেতু নির্মাণের জন্য বহুদিন ধরে প্রাক্তন, বর্তমান অর্থমন্ত্রী এবং আমাদের এলাকার মন্ত্রী, বিধায়ক, জেলাশাসককে জানিয়েছি। জামুড়িয়ায় ২৫টি বড়, মাঝারি ধরনের কারখানা আছে। অনেকেইওই সেতু পেরিয়ে কাজ করতে আসেন। ফলে একটা স্তাথায়ী সমাধান প্রয়োজন।’