সভার পথে আক্রান্ত দুই দলের কর্মী-সমর্থকরা, তিরে বিজেপি
এই সময়, বর্ধমান: রাজ্যে ক্ষমতার পালাবদলের পরে প্রথম ২১ জুলাই। আর সেই কর্মসূচিকে ঘিরেই মঙ্গলবার সকাল থেকে পূর্ব বর্ধমানের বিভিন্ন জায়গায় কংগ্রেস ও তৃণমূল কর্মী-সমর্থকদের উপরে হামলার অভিযোগ উঠল বিজেপির বিরুদ্ধে। যদিও সমস্ত অভিযোগই অস্বীকার করেছে বিজেপি।
কংগ্রেসের অভিযোগ, এ দিনের কর্মসূচিতে যোগ দিতে যাওয়ার পথে বাজেপ্রতাপপুর এলাকায় তাদের কর্মী-সমর্থকদের উপরে হামলা চালানো হয়। কংগ্রেস নেতা গৌরব সমাদ্দার দাবি করেন, ‘বিজেপি কর্মীদের হামলায় আমাদের কয়েক জন কর্মী আহত হয়েছেন। তাঁদের বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য নিয়ে যাওয়া হয়েছে।’
একই ধরনের অভিযোগ ওঠে ১৯ নম্বর জাতীয় সড়কের শক্তিগড় এলাকাতেও। পশ্চিম বর্ধমানের আসানসোল, জামুড়িয়া সমেত বিভিন্ন এলাকা থেকে কংগ্রেস কর্মী-সমর্থকদের নিয়ে একাধিক বাস কলকাতার উদ্দেশে রওনা দিয়েছিল। জলখাবারের জন্য বাসগুলি শক্তিগড়ে দাঁড়ালে আচমকা একদল বিজেপি কর্মী-সমর্থক এসে হামলা চালায় বলে অভিযোগ। কংগ্রেসের দাবি, কয়েক জনকে মারধর করা হয়, ঝালমুড়ির ঠোঙা ফেলে দেওয়া হয় এবং কংগ্রেসের পতাকা ও ফেস্টুন ছিঁড়ে ফেলা হয়েছে। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে একটি বাস ঘুরিয়ে দিতে বাধ্য হন চালক। পরে আরও দু’টি কংগ্রেসের গাড়ি পৌঁছলেও সেগুলির উপরেও হামলার অভিযোগ ওঠে। খবর পেয়ে শক্তিগড়ে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে পুলিশ। পরে কংগ্রেসের বাস ও গাড়িগুলি কলকাতার উদ্দেশে রওনা দেয়। কংগ্রেস নেতা সুদেব ঘোষ অভিযোগ করেন, ‘পরিকল্পনা করেই আমাদের উপরে হামলা চালানো হয়েছে।’
এ দিকে, একই সময়ে বাঁকুড়া থেকে তৃণমূল কর্মী-সমর্থকদের নিয়ে একটি বাস কলকাতার সভার উদ্দেশে যাওয়ার সময়ে বড়শুল মোড়ের কাছে সেটিও আটকে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। সেখানে বচসার জেরে মারধরের ঘটনাও ঘটে বলে দাবি।
ঘটনাগুলিকে ঘিরে রাজনৈতিক চাপানউতরও শুরু হয়েছে। বিজেপি নেতা মৃত্যুঞ্জয় চন্দ্র সমস্ত অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে বলেন, ‘এ সব পরিকল্পিত ভাবে মিথ্যাচার করা হচ্ছে। সংবাদমাধ্যমের মনে রাখা উচিত, অতীতে এই একই রাস্তায় কী ভাবে আমাদের বাস ভাঙচুর করা হয়েছিল, কর্মীদের বাস থেকে নামিয়ে রক্তাক্ত করা হয়েছিল। আজ ওরা নিজেরাই নিজেদের মধ্যে লড়াই করে শেষ হয়ে গিয়েছে। আমাদের কাউকে কিছু করতে হবে না।’
উল্লেখ্য, গত তিন দশক ধরে ২১ জুলাই মানেই ১৯ নম্বর জাতীয় সড়কের শক্তিগড়ে তৃণমূল কর্মী-সমর্থকদের বাসের দীর্ঘ সারি এবং ল্যাংচার দোকানগুলিতে উপচে পড়া ভিড় ছিল পরিচিত ছবি। তবে এ বছর সেই চিত্র বদলে গিয়েছে। জাতীয় সড়কে তৃণমূলের বাসের পরিবর্তে কংগ্রেসের পতাকা লাগানো একের পর এক বাস ও গাড়িই বেশি চোখে পড়েছে। স্থানীয়দের একাংশের মতে, রাজ্যের রাজনৈতিক পালাবদলের প্রতিফলনই দেখা গেল এ বছরের ২১ জুলাইয়ের যাত্রাপথে।