ছবি বা ভিডিয়ো নয়, ভ্রমণের স্মৃতি এ বার থাকবে ফিলাটেলি পাসপোর্টে, কী এই ভাবে পাবেন এটি? - 24 Ghanta Bangla News
Home

ছবি বা ভিডিয়ো নয়, ভ্রমণের স্মৃতি এ বার থাকবে ফিলাটেলি পাসপোর্টে, কী এই ভাবে পাবেন এটি?

Spread the love

Philately Passport, ডিজিটাল ফিলাটেলি পাসপোর্ট

আজকাল কোথাও বেড়াতে গেলেই মোবাইলে ছবি তোলা, ভিডিয়ো বানানো বা সোশ্যাল মিডিয়ায় লোকেশন শেয়ার করা খুব সাধারণ ঘটনা হয়ে উঠেছে। ভ্রমণের স্মৃতি বলতে এখন প্রায় সবটাই ডিজিটাল।

এক ব্যক্তির হাতে ধরা কন্নড় ও ইংরেজি হরফে লেখা নীল রঙের ফিল্যাটেলি পাসপোর্ট। Red Philately Passport

কিন্তু ভাবুন তো, যদি প্রতিটি ঘোরার জায়গার স্মৃতি আপনার কাছে সরকারি সিলমোহর-সহ একটি বিশেষ বইয়ে জমা হতে থাকে? শুনতে একটু অন্যরকম লাগলেও, ঠিক এমনই একটি অভিনব উদ্যোগ শুরু হয়েছে কর্নাটকে, যা ইতিমধ্যেই ভ্রমণপ্রেমীদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে।

হাতে খোলা একটি ভ্রমণ ডায়েরি যেখানে মহীশূর, হাম্পি, কুর্গ সহ কর্ণাটকের বিভিন্ন স্থানের রঙিন ডাকটিকিট ও সিলমোহর রয়েছে। white paper in Philately Passport

বেঙ্গালুরুর একাধিক পোস্ট অফিসে এখন ভিড় করছেন পর্যটক ও তরুণ-তরুণীরা। সেখান থেকে তাঁরা একটি বিশেষ বুকলেট সংগ্রহ করছেন। যেখানে প্রতিটি ভ্রমণের স্মৃতি রাখার জন্য রয়েছে বিশেষ সব ডাকটিকিট। এ গুলিতে থাকছে বিশেষ সিলও। ৬০০ টাকায় পোস্ট অফিস থেকেই কেনা যাবে এই পাসপোর্ট। ডিজিটাল মেমোরি বা সেলফির বদলে এটি এখন হয়ে উঠছে ইনস্টাগ্রামের নতুন ট্রেন্ড।

একটি খোলা পাসপোর্টের ক্লোজ-আপ শট, যেখানে বিধান সৌধের সিলমোহর এবং ভারতের জাতীয় পতাকার ছবি সহ ডাকটিকিট দৃশ্যমান। post stamp on Philately Passport

এই বিশেষ বুকলেটটির নাম হলো ‘কর্নাটক ফিলাটেলি পাসপোর্ট’। তবে এটি বিদেশ ভ্রমণের সরকারি পাসপোর্ট নয়। এটি এমন একটি ‘Collection Book’। এই বইতে কর্নাটকের বিভিন্ন পর্যটনকেন্দ্রের বিশেষ ‘কমেমোরেটিভ স্ট্যাম্প’ সিল থাকে।

ফিলাটেলি পাসপোর্টের পাতা Philately Passport

তবে অনেকের মনেই প্রশ্ন উঠছে, যে এর নাম এত অদ্ভুত কেন? আসলে এই উদ্যোগের মাধ্যমে জনপ্রিয় করে তোলা হচ্ছে ফিলাটেলিকে। ফিলাটেলি হলো ডাকটিকিট সংগ্রহের শখ।

হাতের মুঠোয় ধরা দুটি গাঢ় নীল রঙের ফিল্যাটেলি পাসপোর্ট, যার প্রচ্ছদে কর্ণাটকের মানচিত্র এবং ময়ূরের লোগো রয়েছে। a man holding Philately Passport

চিঠির খাম থেকে ডাকটিকিট ও পোস্টমার্ক সংগ্রহ করা একটা সময়ে বহু মানুষের শখ ছিল। কিন্তু এখন আধুনিকতার ছোঁয়ায় তা প্রায় মলিন হয়ে গিয়েছে। তাই এই ফিলাটেলিকে আবার জনপ্রিয় করতেই এমন নাম দেওয়া হয়েছে।

একটি খোলা ডায়েরি বা পাসপোর্ট যার পাতায় কর্ণাটকের মানচিত্র, বিভিন্ন জেলার নাম ও ইনডেক্স তালিকা দেখা যাচ্ছে।

কী ভাবে এটি পাওয়া যায়? সাধারণত ডাকঘর থেকে এই বিশেষ পাসপোর্ট কিনতে হয়। তারপর এর দায়িত্ব থাকা ডাকঘর বা ফিলাটেলিক ব্যুরো আপনি যে জায়গায় ঘুরতে চান, ওই এলাকার জন্য বিশেষ সিল বা স্ট্যাম্প বুকলেটে লাগিয়ে দেবে।

এক একটি নতুন গন্তব্য মানেই এক একটি নতুন সরকারি সিল। অর্থাৎ সময়ের সঙ্গে এই বুকলেটই হয়ে উঠবে আপনার ট্রাভেল ডেস্টিনেশনের ‘হিস্ট্রিবুক’।

নীলাভ ফিল্যাটেলি পাসপোর্ট, ডাকটিকিট এবং কর্ণাটকের বিভিন্ন ঐতিহাসিক ও প্রাকৃতিক দর্শনীয় স্থানের ছবি সম্বলিত একটি তথ্যমূলক উৎসবের প্রচারপত্র।

এই পাসপোর্টের জনপ্রিয়তা দ্রুত বাড়ছে। কারণ, অনেকেই মনে করেন মোবাইলের হাজারো ছবির ভিড়ে পুরোনো স্মৃতি হারিয়ে যায়। কিন্তু এরকম সরকারি সিলমোহর দেওয়া ট্রাভেল বুকে সব স্মৃতি সযত্নে থাকে।

Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *