তসলিমাকে বাংলায় এনে এক ঢিলে সেক্যু-মাকু-মৌলবাদীদের মুখ বন্ধের বড় চাল শুভেন্দু সরকারের
সুদীপ্ত বিশ্বাস, কলকাতা: আগামী পয়লা আগস্ট দীর্ঘ ২০ বছর পর পশ্চিমবঙ্গে আসছেন বাংলাদেশের বিখ্যাত এবং বিতর্কিত সাহিত্যিক তসলিমা নাসরিন (Taslima Nasreen)। তিনি কলকাতায় আসছেন মূলত…
সুদীপ্ত বিশ্বাস, কলকাতা: আগামী পয়লা আগস্ট দীর্ঘ ২০ বছর পর পশ্চিমবঙ্গে আসছেন বাংলাদেশের বিখ্যাত এবং বিতর্কিত সাহিত্যিক তসলিমা নাসরিন (Taslima Nasreen)। তিনি কলকাতায় আসছেন মূলত মৌলবাদ বিরোধী একটি সাংস্কৃতিক ও সাহিত্যিক অনুষ্ঠানে যোগ দিতে। কলকাতার সাংস্কৃতিক কেন্দ্র রবীন্দ্রসদনে আয়োজিত এই সাহিত্য সভায় কবি ও লেখিকা হিসেবে যোগ দেবেন তসলিমা নাসরিন। সেখানে তাঁর রচিত কবিতা পাঠ এবং তাঁর কবিতার ওপর ভিত্তি করে তৈরি গান নিয়ে আলোচনার কর্মসূচি রয়েছে।
তবে তসলিমার এই বঙ্গ আগমনে সামাজিক এবং রাজনৈতিক মহলে ইতিমধ্যেই শোরগোল পড়ে গিয়েছে। পশ্চিমবঙ্গে রাজনৈতিক পালাবদল হওয়ার পর থেকেই শুরু হয়েছে পরিবর্তনের পালা। এই পৌষ ফাগুনের পালার অংশ হিসেবেই একরকম চ্যালেঞ্জ নিয়ে কলকাতায় আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে তসলিমাকে। জানিয়েছে খোদ পশ্চিমবঙ্গের নব নির্বাচিত বিজেপি সরকার। বিজেপি সরকারের এই সিদ্ধান্তেই গুঞ্জন রাজনৈতিক এবং সামাজিক মহলে। রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের এই সিদ্ধান্তে এবার মুখ বন্ধ হবে বাংলার সেক্যু-মাকুদের এবং তার সঙ্গে মুখ বন্ধ হবে বাংলাদেশের মৌলবাদীদেরও।
Also Read | আর চলবে না কমিউনিস্টদের দাদাগিরি! সফটওয়্যার-নিয়ন্ত্রিত চৌম্বকক্ষেত্রে ভারত বানাল ইলেকট্রিক মোটর
সময়টা ১৯৯৪ সাল, ঠিক তার বছর দুয়েক আগেই ভাঙা পড়েছে বাবরি মসজিদ। বাংলাদেশে তখন সংখ্যালঘু হিন্দুদের উপর চলছে মৌলবাদীদের চরম অত্যাচার। ঠিক সে সময় মৌলবাদের বিরুদ্ধে তসলিমার প্রথম হাতিয়ার ‘লজ্জা’। এই বই প্রকাশ হতেই সেই সময় বাংলাদেশে তসলিমার উপর জারি হয় ফতোয়া। যখন তখন প্রাণনাশের হুমকি। দেশ ছেড়ে, নিজের জন্মভূমি ছেড়ে পালাতে হল মৌলবাদের শিকড়ে ঘা দেওয়া প্রতিবাদী তসলিমাকে।
তখন তসলিমা ভারতে। খোদ পশ্চিমবঙ্গে তার বাস। বাংলাদেশ থেকে বিতাড়িত হওয়ার পর ২০০৪ সালে তসলিমা নাসরিন ভারতের দীর্ঘমেয়াদি ভিসা পান এবং কলকাতাকে নিজের ‘দ্বিতীয় বাড়ি’ বানিয়ে থাকতে শুরু করেন। এর আগের বছরেই প্রকাশিত হয়েছে তসলিমার আত্মজীবনীমূলক বই ‘দ্বিখণ্ডিত।’ রাজ্যে তখন লাল শাসন। মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য। তিনিও এই বই নিয়ে জারি করলেন ফতোয়া। দ্বিখণ্ডিত নাকি ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘাত হেনেছে। ফের এপার বাংলা থেকে বাস উঠল তসলিমার।
Also Read | দুর্গাপুরে খালি করা হচ্ছে সরকারি জমি! বুলডোজার চলছে একের পর এক বাম সংগঠনের অফিসে
এরপর ২০১১ সালে ক্ষমতায় এল মমতার তৃণমূল। সরকার বদলের পরেও একাধিকবার তসলিমাকে বাংলায় জায়গা দেওয়ার প্রস্তাব এসেছে। কিন্তু তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়ের মুসলিম তোষণ এবং ভোটব্যাংকের রাজনীতিতে সেই প্রস্তাব প্রস্তাবের জায়গাতেই থেকে গিয়েছে। তসলিমা যে চরম পন্থীদের বিরোধী, মৌলবাদের বিরুদ্ধে আঘাত হানা প্রতিবাদী। তাকে কি করে বাংলায় জায়গা দিতেন মমতা। তাতে হয়ত তার ভোটব্যাংক ক্ষতিগ্রস্থ হত।
আর সবশেষে আসে তসলিমার নিজের দেশ বাংলাদেশের কথা। সিপিএম বা তৃণমূল আমলে অনুপ্রবেশকারীদের স্বর্গরাজ্য হয়ে উঠেছিল এই বাংলা। নতুন বিজেপি সরকারের কড়া পদক্ষেপে প্রথমে SIR এখন সীমান্তে বেড়া দেওয়া থেকে শুরু করে পুশব্যাক, প্রত্যেকটি ইস্যুতেই বাংলাদেশ সরকারের চক্ষুশুল হয়েছে শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বাধীন বিজেপি সরকার। রাস্তায় মিছিল থেকে শুরু করে শুভেন্দুর কুশপুত্তলিকা বানিয়ে তাকে জুতোপেটা করতেও ছাড়েনি মৌলবাদীদের দল।
Also Read | ১৮ বছর পর কলকাতায় ফিরছেন তসলিমা, রবীন্দ্র সদনে বিশেষ অনুষ্ঠান
ঠিক এতো গুলো চ্যালেঞ্জকে সামনে রেখে বেশ অনেক দিন ধরেই তসলিমাকে কলকাতায় ফের আনার পরিকল্পনা করেছিল বঙ্গের ডবল ইঞ্জিন সরকার। আর শুভেন্দুর এই সাহসী সিদ্ধান্তেই যেন জোকের মুখে নুন। একসঙ্গে বধ হল সেক্যু-মাকুদের দল এবং ওপর বাংলার চরম ইসলামপন্থীরা।