অনুপ্রবেশকারীদের নিয়ে নতুন নির্দেশিকা, মুখ্যমন্ত্রীর মন্তব্যে শোরগোল - 24 Ghanta Bangla News
Home

অনুপ্রবেশকারীদের নিয়ে নতুন নির্দেশিকা, মুখ্যমন্ত্রীর মন্তব্যে শোরগোল

Spread the love

প্রশাসনিক বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে রাজ্যের মুখ‌্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)  অনুপ্রবেশ ইস্যুতে একাধিক মন্তব্য করেন, যা ঘিরে রাজনৈতিক মহলে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। তিনি দাবি …

প্রশাসনিক বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে রাজ্যের মুখ‌্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)  অনুপ্রবেশ ইস্যুতে একাধিক মন্তব্য করেন, যা ঘিরে রাজনৈতিক মহলে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। তিনি দাবি করেন, অনুপ্রবেশকারীদের ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত একটি নতুন নির্দেশিকা কার্যকর হয়েছে, যেখানে ধরা পড়া ব্যক্তিদের আদালতে না পাঠিয়ে সরাসরি সীমান্তে ফেরত পাঠানোর বিষয়টি উল্লেখ রয়েছে।

শুভেন্দু অধিকারীর বক্তব্য অনুযায়ী, গত বুধবার থেকে একটি নীতিগত পরিবর্তন কার্যকর হয়েছে, যার ফলে বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীদের ক্ষেত্রে আইন প্রয়োগের পদ্ধতিতে পরিবর্তন এসেছে। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, এই নতুন ব্যবস্থার অধীনে অনুপ্রবেশকারীদের আদালতে পাঠানোর পরিবর্তে সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ-এর হাতে তুলে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তাঁর দাবি, এই নির্দেশ কার্যত প্রশাসনিক স্তরে একটি বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেয়।

তিনি আরও বলেন, পুলিশ কমিশনার এবং রেলওয়ে প্রোটেকশন ফোর্স (RPF)-কে সরাসরি নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যে, হাওড়া স্টেশনের মতো গুরুত্বপূর্ণ পরিবহন কেন্দ্র থেকে যদি কোনো ব্যক্তি ধরা পড়েন এবং তিনি CAA-এর আওতাভুক্ত না হন, অর্থাৎ নাগরিকত্ব সংশ্লিষ্ট বৈধ নথি না থাকে, তাহলে তাঁদের আদালতে পাঠানো হবে না। বরং তাঁদের সরাসরি সীমান্তে ফিরিয়ে দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করা হবে বলে তিনি দাবি করেন।

এই মন্তব্যকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক বিতর্ক তীব্র হয়েছে। বিরোধী শিবিরের একাংশ মনে করছে, এই ধরনের বক্তব্য সংবিধান ও আইনগত প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলছে। তাঁদের দাবি, কোনো ব্যক্তিকে আদালতে না পাঠিয়ে সরাসরি সীমান্তে ফেরত পাঠানোর মতো সিদ্ধান্ত বিচারব্যবস্থার ভূমিকা ও মানবাধিকার সংক্রান্ত প্রক্রিয়ার সঙ্গে জড়িত, যা অত্যন্ত সংবেদনশীল বিষয়।

অন্যদিকে, প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনো এই বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, অনুপ্রবেশ ইস্যু দীর্ঘদিন ধরেই রাজ্যের অন্যতম বিতর্কিত বিষয় হিসেবে উঠে আসছে। সীমান্ত নিরাপত্তা, নাগরিকত্ব যাচাই এবং অবৈধ অনুপ্রবেশ রোধ এই তিনটি বিষয় নিয়েই বারবার রাজনৈতিক চাপানউতোর দেখা যায়।

শুভেন্দু অধিকারীর বক্তব্যে বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে হাওড়া স্টেশনের মতো গুরুত্বপূর্ণ রেলওয়ে জংশনের নাম, যা নিয়ে নতুন করে আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। কারণ, এই ধরনের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে নিরাপত্তা এবং পরিচয় যাচাই প্রক্রিয়া অত্যন্ত কঠোর হওয়া সত্ত্বেও যদি অনুপ্রবেশকারীদের শনাক্ত করা হয়, তাহলে তাদের পরবর্তী পদক্ষেপ কী হবে তা নিয়েই এখন প্রশ্ন উঠছে।

তিনি আরও দাবি করেন, এই পদক্ষেপের মাধ্যমে প্রশাসন অনুপ্রবেশ রোধে আরও কঠোর অবস্থান নিয়েছে। তবে একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন যে, দীর্ঘদিন ধরে সীমান্তবর্তী এলাকায় অনুপ্রবেশ নিয়ন্ত্রণে গাফিলতি ছিল, যার ফলে এই ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।

এই মন্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক মহলে দুই ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। একাংশ মনে করছে, এটি নিরাপত্তা ইস্যুকে সামনে রেখে একটি কঠোর অবস্থানের প্রতিফলন। অন্যদিকে, বিরোধীরা এটিকে আইনি প্রক্রিয়ার বাইরে গিয়ে প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা হিসেবে ব্যাখ্যা করছে।

ভিডিও নিউজ দেখুন

https://www.youtube.com/watch?v=videoseries

Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *