Satabdi on Mahua: টাকা নেওয়ার অভিযোগ, পাল্টা মহুয়ার ‘অতীত’ মনে করালেন শতাব্দী | NCPI MP Satabdi Roy slams Mahua Moitra
মহুয়া মৈত্র ও শতাব্দী রায়Image Credit: PTI
কলকাতা: একসময় সংসদে গেলেই তাঁদের একসঙ্গে দেখা যেত। যে কোনও প্রতিবাদে দুই সাংসদ একদম পাশাপাশি। আজ তাঁরাই একে অপরের বিরুদ্ধে কাদা ছোড়াছুড়ি শুরু করেছেন। বিদ্রোহী কুড়ি জন সাংসদ যাঁর তৃণমূল ছেড়ে NCPI-তে যোগ দিয়েছেন তাঁদের বিরুদ্ধে টাকা নেওয়ার মতো বিস্ফোরক অভিযোগ করেছেন তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্র (Mahua Moitra)। বিদ্রোহী সাংসদরা কোটি-কোটি টাকা পেয়েছেন, এমন অভিযোগ করতেই কৃষ্ণনগরের সাংসদের বিরুদ্ধে পাল্টা তোপ দেগেছেন এনসিপিআই সাংসদ শতাব্দী রায় (Satabdi Roy)। মনে করালেন মহুয়া মৈত্র ও হিরানন্দানির ঘটনা।
এ দিন, টিভি ৯ বাংলাকে দেওয়া একটি সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, “উনি প্রমাণ দিতে পারেননি। তবে, প্রমাণ দিতে হবে ওকে একদিন না একদিন। আর উনি প্রমাণ ছাড়া কথা বলছেন। সারা ভারত ও সারা পৃথিবীর যাঁরা মহুয়াকে চেনেন তাঁরা প্রমাণ পেয়ে গিয়েছিলেন যে উনি কী ডিল করে হিরানন্দানির থেকে টাকা নেন। উনি একমাত্র পার্লামেন্ট থেকে বহিষ্কৃত হয়েছিলেন। আমাদের কেউ সেটা হয়নি। আমাদের বিরুদ্ধে দেশবিরোধী কাজের প্রমাণ নেই। তাই ডিল করতে গেলে কী টাকা দিতে হয় সেটা উনি হয়ত জানেন।” তবে একা শতাব্দী নন, মহুয়া বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করছেন অপর এনসিপিআই সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদারও। তিনি আদালতের দ্বারস্থ হবেন বলে জানিয়েছেন। তিনি বলেন, “দেশের সুরক্ষা বিঘ্নিত করে পাসওয়ার্ড দেওয়ার জন্য বহিষ্কার করা হয়েছিল তিনি কত নিয়ে কী করেছিলেন দেশবাসী জানেন। আর এখন তিনি টাকার অঙ্ক বলে দিচ্ছেন, এর বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ করার সিদ্ধান্ত ইতিমধ্যেই নিয়েছি।”
মহুয়া কী অভিযোগ করেছেন?
কৃষ্ণনগরের তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্র সম্প্রতি একটি পোস্ট করেন। সেখানে তিনি লেখেন, “তৃণমূলের বিদ্রোহী সাংসদরা পেয়েছেন ৪ কোটি টাকা। ৩৬ মাস পর্যন্ত প্রতিমাসে ১ কোটি করে পাবেন।”
এখানে উল্লেখ্য, ২০২৪ সালে সাংসদ মহুয়া মৈত্রর বিরুদ্ধে ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ ওঠে। সংসদ থেকে বহিষ্কার করা হয় তাঁকে। লোকপালের নির্দেশে ঘুষকাণ্ডের তদন্তভার সিবিআইয়ের হাতে তুলে দেওয়া হয়। কেন্দ্রীয় এজেন্সি প্রাথমিক রিপোর্টে দাবি করেন, বিনা অনুমতিতে মহুয়া মৈত্র তাঁর সংসদীয় লগ ইন ক্রেডেন্সিয়াল দুবাইয়ের ব্যবসায়ী দর্শন হিরানন্দানিকে দিয়েছিলেন। এর বিনিময়ে তিনি ব্যবসায়ীর কাছ থেকে নানা ধরনের সুবিধা দাবি ও গ্রহণ করেছেন। এর মধ্যে বিমানের টিকিট যেমন রয়েছে, তেমনই লাক্সারি ব্রান্ডের দামি দামি জিনিসও রয়েছে। লুটয়েন্স জ়োনে মহুয়া মৈত্রের বাংলো সংস্কারেও টাকা ঢেলেছিলেন দর্শন হিরানন্দানি, এমনটাই দাবি করা হয়েছিল সিবিআই রিপোর্টে। আজ মহুয়ার সেই অতীত আরও একবার মনে করালেন শতাব্দী।